শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সাগর থেকে অন্যান্য মাছের সঙ্গে টাইটান ট্রিগারফিশটি ধরে মহিপুর মৎস্য বন্দরের মুন ফিসে নিয়ে আসেন জেলেরা। মাছটির গঠন ও বৈশিষ্ট্য অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের তুলনায় আলাদা হওয়ায় শুরুতে এর প্রজাতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি তারা। বিষাক্ত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক ক্রেতাই মাছটি কেনার আগ্রহ দেখাননি।
জেলে খবির বলেন, ‘অনেক বছর ধরে সাগরে মাছ ধরছি। এ সময়ে বিভিন্ন ধরনের মাছ জালে উঠেছে। কিন্তু এ ধরনের মাছ আগে কখনো চোখে পড়েনি। অন্য মাছের তুলনায় এর চেহারা সম্পূর্ণ আলাদা।’
আরেক জেলে মাহাতাব বলেন, ‘অন্যান্য মাছের সঙ্গেই এটি জালে ধরা পড়ে। বন্দরে নিয়ে আসার পর মাছটি দেখতে অনেক মানুষ জড়ো হন। পরে শুনেছি মাছটি বিষাক্ত হতে পারে। এ কারণে কেউ কিনতে আগ্রহ দেখায়নি।’
মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করে ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, এটি টাইটান ট্রিগারফিশ (Balistoides viridescens)। স্থানীয়ভাবে মাছটি ট্রিগারফিশ বা চামড়া মাছ নামে পরিচিত।
তিনি জানান, টাইটান ট্রিগারফিশের পিঠে শক্তিশালী কাঁটা, বড় দাঁত এবং শক্ত চোয়াল রয়েছে। সাধারণ পরিস্থিতিতে মাছটি মানুষের প্রতি আক্রমণাত্মক নয়। তবে প্রজনন মৌসুমে নিজস্ব বিচরণক্ষেত্র ও ডিম রক্ষার সময় এটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে।
বখতিয়ার রহমান আরও বলেন, প্রবালপ্রাচীরের বাস্তুতন্ত্রে তলদেশে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্যজালের ভারসাম্য বজায় রাখতে টাইটান ট্রিগারফিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্বের কিছু এলাকায় মাছটি খাদ্য হিসেবে খাওয়া হলেও এতে সিগুয়াটেরা বিষক্রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, উপকূলীয় বঙ্গোপসাগর সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। বিভিন্ন সময়ে জেলেদের জালে বিরল ও কম পরিচিত নানা প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। টাইটান ট্রিগারফিশ ধরা পড়ার ঘটনাটিও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জালে এ ধরনের বিরল প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে জেলেদের দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করার পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন সময়ে বিরল সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়লেও টাইটান ট্রিগারফিশের মতো মাছ খুব কমই দেখা যায়। মাছটি বন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই এটি দেখতে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সাগর থেকে অন্যান্য মাছের সঙ্গে টাইটান ট্রিগারফিশটি ধরে মহিপুর মৎস্য বন্দরের মুন ফিসে নিয়ে আসেন জেলেরা। মাছটির গঠন ও বৈশিষ্ট্য অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের তুলনায় আলাদা হওয়ায় শুরুতে এর প্রজাতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেননি তারা। বিষাক্ত হওয়ার আশঙ্কায় অনেক ক্রেতাই মাছটি কেনার আগ্রহ দেখাননি।
জেলে খবির বলেন, ‘অনেক বছর ধরে সাগরে মাছ ধরছি। এ সময়ে বিভিন্ন ধরনের মাছ জালে উঠেছে। কিন্তু এ ধরনের মাছ আগে কখনো চোখে পড়েনি। অন্য মাছের তুলনায় এর চেহারা সম্পূর্ণ আলাদা।’
আরেক জেলে মাহাতাব বলেন, ‘অন্যান্য মাছের সঙ্গেই এটি জালে ধরা পড়ে। বন্দরে নিয়ে আসার পর মাছটি দেখতে অনেক মানুষ জড়ো হন। পরে শুনেছি মাছটি বিষাক্ত হতে পারে। এ কারণে কেউ কিনতে আগ্রহ দেখায়নি।’
মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করে ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, এটি টাইটান ট্রিগারফিশ (Balistoides viridescens)। স্থানীয়ভাবে মাছটি ট্রিগারফিশ বা চামড়া মাছ নামে পরিচিত।
তিনি জানান, টাইটান ট্রিগারফিশের পিঠে শক্তিশালী কাঁটা, বড় দাঁত এবং শক্ত চোয়াল রয়েছে। সাধারণ পরিস্থিতিতে মাছটি মানুষের প্রতি আক্রমণাত্মক নয়। তবে প্রজনন মৌসুমে নিজস্ব বিচরণক্ষেত্র ও ডিম রক্ষার সময় এটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারে।
বখতিয়ার রহমান আরও বলেন, প্রবালপ্রাচীরের বাস্তুতন্ত্রে তলদেশে বসবাসকারী বিভিন্ন প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং খাদ্যজালের ভারসাম্য বজায় রাখতে টাইটান ট্রিগারফিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্বের কিছু এলাকায় মাছটি খাদ্য হিসেবে খাওয়া হলেও এতে সিগুয়াটেরা বিষক্রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, উপকূলীয় বঙ্গোপসাগর সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল। বিভিন্ন সময়ে জেলেদের জালে বিরল ও কম পরিচিত নানা প্রজাতির মাছ ধরা পড়ছে। টাইটান ট্রিগারফিশ ধরা পড়ার ঘটনাটিও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও গবেষণার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জালে এ ধরনের বিরল প্রজাতির মাছ ধরা পড়লে জেলেদের দ্রুত মৎস্য বিভাগকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করার পাশাপাশি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন সময়ে বিরল সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়লেও টাইটান ট্রিগারফিশের মতো মাছ খুব কমই দেখা যায়। মাছটি বন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই এটি দেখতে মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন