অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কর রেয়াত সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, বদলি বাণিজ্য এবং বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে তিনি এসব সম্পদ গড়েছেন। কালবেলার অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের পাশাপাশি সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচারের তথ্যও উঠে এসেছে।
রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী স্বামী ও স্ত্রী দুজনের নামে প্লট বরাদ্দের সুযোগ না থাকলেও অনিয়মের মাধ্যমে জিয়াউদ্দিন মাহমুদ নিজের ও স্ত্রীর নামে ঢাকার উত্তরা ও পূর্বাচলে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব প্লট বিক্রি করে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি। নিয়ম অনুযায়ী প্লটের ক্রেতা বা বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম এমআইএসে অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। তবে জিয়াউদ্দিন মাহমুদ ও তার স্ত্রীর প্লটের তথ্য এমআইএসে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ ও অবৈধ পারিতোষিকের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে বেআইনিভাবে আয়কর সুবিধা দিয়ে দেশে ও বিদেশে নামে-বেনামে সম্পদ গড়ে তুলেছেন জিয়াউদ্দিন মাহমুদ। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলাগুলো থেকে রেহাই পেতে তিনি বিভিন্নভাবে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রাজউকের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট কাজী মোহাম্মাদ মাহাবুবুল হক কালবেলাকে বলেন, এমআইএসে অনেকের নামই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এনবিআরের সাবেক সদস্য জিয়াউদ্দিন মাহমুদের তথ্য জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিষয়ে তথ্য দেওয়া নিষেধ রয়েছে।
এমআইএসের দায়িত্বে থাকা অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছে কালবেলা। তাদের ভাষ্য, জিয়াউদ্দিন মাহমুদ ও তার স্ত্রীর প্লটসংক্রান্ত কোনো তথ্য এমআইএসে নেই।
জানা গেছে, দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় একাধিক বাড়ি কিনেছেন জিয়াউদ্দিন মাহমুদ। তার দুই ছেলের মধ্যে একজন অস্ট্রেলিয়ায় এবং অন্যজন কানাডায় বসবাস করেন।
আরও জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বন্ধুত্ব ছিল। সদস্য (কর প্রশাসন) পদে থাকাকালে কমিশনারকে চাপ প্রয়োগ করে কয়েকটি কোম্পানিকে কর রেয়াত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর বিনিময়ে তিনি শত শত কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কর প্রশাসনে অর্থের বিনিময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি করাও তার নিয়মিত কর্মকাণ্ডের অংশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে চাকরিতে থাকা অবস্থায় তার অধস্তন কর্মকর্তারাও তাকে ভালোভাবে দেখতেন না বলে জানা গেছে।
এনবিআর সূত্র জানায়, অবৈধ ডলার বা টাকা সংরক্ষণে ঝামেলা এবং যেকোনো সময় বিপদের আশঙ্কা থেকে জিয়াউদ্দিন মাহমুদ তার স্ত্রীর প্রায় একশ ভরি স্বর্ণ দিয়ে তাঁতিবাজার থেকে গোল্ডবার তৈরি করিয়েছেন। সরকারি প্লটের বাইরে রাজধানীতে তার নামে-বেনামে আরও একাধিক প্লট রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বক্তব্য জানতে কালবেলার অনুসন্ধান দল তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তবে তিনি ফোন ধরেননি। তাকে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। পরে তার ছেলে পরিচয়ে একজন আমেরিকান সিম ব্যবহার করে কালবেলার অনুসন্ধান দলকে ফোন করেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে মেজর পরিচয় দিয়ে অনুসন্ধান দলকে হুমকি দেন।
সূত্র: কালবেলা/এমআরবি

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কর রেয়াত সুবিধা পাইয়ে দেওয়া, বদলি বাণিজ্য এবং বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে তিনি এসব সম্পদ গড়েছেন। কালবেলার অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের পাশাপাশি সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচারের তথ্যও উঠে এসেছে।
রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী স্বামী ও স্ত্রী দুজনের নামে প্লট বরাদ্দের সুযোগ না থাকলেও অনিয়মের মাধ্যমে জিয়াউদ্দিন মাহমুদ নিজের ও স্ত্রীর নামে ঢাকার উত্তরা ও পূর্বাচলে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে এসব প্লট বিক্রি করে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি। নিয়ম অনুযায়ী প্লটের ক্রেতা বা বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম এমআইএসে অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। তবে জিয়াউদ্দিন মাহমুদ ও তার স্ত্রীর প্লটের তথ্য এমআইএসে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ ও অবৈধ পারিতোষিকের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে বেআইনিভাবে আয়কর সুবিধা দিয়ে দেশে ও বিদেশে নামে-বেনামে সম্পদ গড়ে তুলেছেন জিয়াউদ্দিন মাহমুদ। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলাগুলো থেকে রেহাই পেতে তিনি বিভিন্নভাবে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রাজউকের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট কাজী মোহাম্মাদ মাহাবুবুল হক কালবেলাকে বলেন, এমআইএসে অনেকের নামই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এনবিআরের সাবেক সদস্য জিয়াউদ্দিন মাহমুদের তথ্য জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিষয়ে তথ্য দেওয়া নিষেধ রয়েছে।
এমআইএসের দায়িত্বে থাকা অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছে কালবেলা। তাদের ভাষ্য, জিয়াউদ্দিন মাহমুদ ও তার স্ত্রীর প্লটসংক্রান্ত কোনো তথ্য এমআইএসে নেই।
জানা গেছে, দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় একাধিক বাড়ি কিনেছেন জিয়াউদ্দিন মাহমুদ। তার দুই ছেলের মধ্যে একজন অস্ট্রেলিয়ায় এবং অন্যজন কানাডায় বসবাস করেন।
আরও জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বন্ধুত্ব ছিল। সদস্য (কর প্রশাসন) পদে থাকাকালে কমিশনারকে চাপ প্রয়োগ করে কয়েকটি কোম্পানিকে কর রেয়াত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর বিনিময়ে তিনি শত শত কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কর প্রশাসনে অর্থের বিনিময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি করাও তার নিয়মিত কর্মকাণ্ডের অংশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে চাকরিতে থাকা অবস্থায় তার অধস্তন কর্মকর্তারাও তাকে ভালোভাবে দেখতেন না বলে জানা গেছে।
এনবিআর সূত্র জানায়, অবৈধ ডলার বা টাকা সংরক্ষণে ঝামেলা এবং যেকোনো সময় বিপদের আশঙ্কা থেকে জিয়াউদ্দিন মাহমুদ তার স্ত্রীর প্রায় একশ ভরি স্বর্ণ দিয়ে তাঁতিবাজার থেকে গোল্ডবার তৈরি করিয়েছেন। সরকারি প্লটের বাইরে রাজধানীতে তার নামে-বেনামে আরও একাধিক প্লট রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বক্তব্য জানতে কালবেলার অনুসন্ধান দল তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তবে তিনি ফোন ধরেননি। তাকে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। পরে তার ছেলে পরিচয়ে একজন আমেরিকান সিম ব্যবহার করে কালবেলার অনুসন্ধান দলকে ফোন করেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে মেজর পরিচয় দিয়ে অনুসন্ধান দলকে হুমকি দেন।
সূত্র: কালবেলা/এমআরবি

আপনার মতামত লিখুন