ওয়েবসাইটটি চালুর মাত্র নয় দিনের মধ্যে, রোববার বিকেল চারটা পর্যন্ত এতে ৯ হাজার ৬৬৫টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবিকৃত অর্থের মোট পরিমাণ ৩২১ থেকে ৩৩২ কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে।
শাহেদ শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বাবার সঙ্গে বসবাস করে। সে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীন কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছে। তার বাবা শরীফুল ইসলাম (শামীম) আগে সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে চাকরি করেছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকায়।
শাহেদের মা আমিনা খাতুন ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মারা যান।
পরিবারের ভাষ্য, চাকরির ১৩ বছর পর আমিনা খাতুন মারা গেলে তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে বিভিন্ন দপ্তরে মোট ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। এর মধ্যে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারটির আরও অভিযোগ, কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ টাকা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়ার কথা থাকা ৮ লাখ টাকার জন্য শিক্ষা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দিলে ফাইল এগোবে না বলেও জানানো হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।
নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা থেকেই ওয়েবসাইট তৈরির চিন্তা আসে বলে জানায় শাহেদ। তার ভাষ্য, মায়ের পেনশনের টাকার ফাইল আটকে রেখে লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছিল। এর পাশাপাশি প্রায় দেড় বছর আগে ও-লেভেল পরীক্ষার জন্য পাসপোর্ট করতে গেলে ফাইল আটকে রেখে ১ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার পর তিন ঘণ্টার মধ্যে কাজ করে দেওয়া হয়।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই ক্ষোভের জায়গা থেকে ওয়েবসাইটটি তৈরির উদ্যোগ নেয় সে।
শাহেদ জানায়, ভারতে ব্যবহৃত একটি ওয়েবসাইট দেখে সে এই উদ্যোগের অনুপ্রেরণা পায়। এরপর মাত্র দুই ঘণ্টায় কোডিং করে ওয়েবসাইটটির প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করে। পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইনে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টের কাজও শিখেছে সে।
পরে বন্ধু ও সহপ্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবিরের সহযোগিতায় ডোমেইন কেনা হয় এবং ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়। ২১ আগস্ট চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুরো উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাদের প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
ওয়েবসাইটটির দুই প্রতিষ্ঠাতা হলেন শাহেদ শরীফ আহমেদ ও সাইফ কবির। শাহেদ ওয়েবসাইটের কোডিং ও কারিগরি বিষয়গুলো দেখছে। অন্যদিকে সাইফ বিপণন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের দায়িত্ব পালন করছে। অভিযোগ যাচাই ও স্ক্রিনিংয়ের জন্য চার সদস্যের একটি মডারেশন টিম রয়েছে বলেও জানায় শাহেদ।
ওয়েবসাইট চালুর পর কোনো হুমকি বা নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহেদ জানায়, এখন পর্যন্ত সে কোনো হুমকি বা নেতিবাচক ফোন পায়নি। শুরুতে ওয়েবসাইটটি এতটা ছড়িয়ে পড়বে বলেও সে ভাবেনি। তার পরিকল্পনা ছিল উদ্যোগটিকে নিজের সিভিতে যুক্ত করা। তবে ভবিষ্যতে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও মনে করে সে।
বর্তমানে আইনি ঝুঁকি এড়াতে ওয়েবসাইটে অভিযোগকারীদের নাম-পরিচয় কিংবা নির্দিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে আইনি টিম গঠন করা গেলে অথবা সরকারি সমর্থন পাওয়া গেলে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ড্যাশবোর্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে শাহেদ।
তার ভাষ্য, ওয়েবসাইটটির মূল উদ্দেশ্য হলো স্বচ্ছতা তৈরি করা। সরকারি অর্থ কোথায় যাচ্ছে এবং কোথায় অপচয় হচ্ছে, তা মানুষের সামনে তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য। সরকারি দপ্তরে ঘুষ নেওয়াকে অত্যন্ত অন্যায় ও গর্হিত কাজ উল্লেখ করে সে চায়, এসব অনিয়মের চিত্র সবার সামনে স্পষ্টভাবে আসুক।
শাহেদ সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ঘুষের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনার স্বপ্ন দেখে। তার মতে, সরকার যদি এই ওয়েবসাইটের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে উদ্যোগটি সফল হওয়ার পাশাপাশি দেশের জন্যও বড় ধরনের সুফল বয়ে আনতে পারে। কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে যাতে ঘুষ নেওয়ার সুযোগ না থাকে এবং সাধারণ মানুষ বাধাহীনভাবে প্রাপ্য সেবা পান—এটাই তার মূল লক্ষ্য।
তরুণদের এই উদ্যোগ পুলিশের নজরেও এসেছে। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কোনো অনিয়ম বা ঘুষের তথ্য পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা দেখা দিলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে।
সচেতন নাগরিক কমিটি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সহসভাপতি শরীফুজ্জামান বলেন, দেশের দুর্নীতির অন্যতম প্রধান উৎস ঘুষ। এটি দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি মানুষের মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করছে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা ঘুষের চিত্র ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে সামনে আসছে বলে তিনি মনে করেন।
সরকার নিজ উদ্যোগে এ ধরনের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতার ব্যবস্থা করলে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শাহেদের বাবা শরীফুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর প্রাপ্য সরকারি অর্থ তুলতে গিয়ে ঘুষের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেকটা বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা তুললেও বাকি ১০ লাখ টাকা পেতে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে বলেও তাকে জানানো হয়েছে বলে দাবি তার।
শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে শিক্ষা অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কাজ হচ্ছে না। উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মজিবুর রহমান তাকে জানিয়েছেন, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিস মিলিয়ে ১ লাখ টাকা না হলে কাজ হবে না।
তবে ঘুষ না দিয়ে প্রাপ্য অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ছেলের নেওয়া উদ্যোগের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলেও জানান।
শিক্ষক আমিনা খাতুনের পেনশনের অর্থ পাওয়া গেলেও কল্যাণ তহবিল এবং চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুর কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাওনা মোট ১০ লাখ টাকা কেন পাওয়া যাচ্ছে না, তা জানতে রোববার বিকেলে সদর উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যাওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ওই শিক্ষকের ফাইল খুঁজে পাননি।
সদর উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মজিবুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কেউ তাঁর কাছে এলে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এলে দ্রুত স্বাক্ষর করিয়ে দেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন বলেন, ঘুষ দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে কোনো তথ্য দেননি। এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মৃত শিক্ষকের সব বকেয়া দ্রুত পরিশোধের আশ্বাস দেন তিনি।

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
ওয়েবসাইটটি চালুর মাত্র নয় দিনের মধ্যে, রোববার বিকেল চারটা পর্যন্ত এতে ৯ হাজার ৬৬৫টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবিকৃত অর্থের মোট পরিমাণ ৩২১ থেকে ৩৩২ কোটি টাকা বলে জানানো হয়েছে।
শাহেদ শরীফ আহমেদ ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বাবার সঙ্গে বসবাস করে। সে ব্রিটিশ কাউন্সিলের অধীন কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলে পড়াশোনা করছে। তার বাবা শরীফুল ইসলাম (শামীম) আগে সৌদি আরবের একটি ব্যাংকে চাকরি করেছেন। তাদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকায়।
শাহেদের মা আমিনা খাতুন ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি মারা যান।
পরিবারের ভাষ্য, চাকরির ১৩ বছর পর আমিনা খাতুন মারা গেলে তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় ৭ লাখ টাকা তুলতে বিভিন্ন দপ্তরে মোট ৩৮ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। এর মধ্যে ট্রেজারি অফিসে ১০ হাজার, জেলা শিক্ষা অফিসে ২০ হাজার এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ৮ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারটির আরও অভিযোগ, কল্যাণ তহবিলের ২ লাখ টাকা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়ার কথা থাকা ৮ লাখ টাকার জন্য শিক্ষা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দিলে ফাইল এগোবে না বলেও জানানো হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি।
নিজের পরিবারের অভিজ্ঞতা থেকেই ওয়েবসাইট তৈরির চিন্তা আসে বলে জানায় শাহেদ। তার ভাষ্য, মায়ের পেনশনের টাকার ফাইল আটকে রেখে লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছিল। এর পাশাপাশি প্রায় দেড় বছর আগে ও-লেভেল পরীক্ষার জন্য পাসপোর্ট করতে গেলে ফাইল আটকে রেখে ১ হাজার ৫০০ টাকা ঘুষ নেওয়ার পর তিন ঘণ্টার মধ্যে কাজ করে দেওয়া হয়।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই ক্ষোভের জায়গা থেকে ওয়েবসাইটটি তৈরির উদ্যোগ নেয় সে।
শাহেদ জানায়, ভারতে ব্যবহৃত একটি ওয়েবসাইট দেখে সে এই উদ্যোগের অনুপ্রেরণা পায়। এরপর মাত্র দুই ঘণ্টায় কোডিং করে ওয়েবসাইটটির প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করে। পড়াশোনার পাশাপাশি অনলাইনে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্টের কাজও শিখেছে সে।
পরে বন্ধু ও সহপ্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবিরের সহযোগিতায় ডোমেইন কেনা হয় এবং ওয়েবসাইটটি চালু করা হয়। ২১ আগস্ট চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুরো উদ্যোগ বাস্তবায়নে তাদের প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।
ওয়েবসাইটটির দুই প্রতিষ্ঠাতা হলেন শাহেদ শরীফ আহমেদ ও সাইফ কবির। শাহেদ ওয়েবসাইটের কোডিং ও কারিগরি বিষয়গুলো দেখছে। অন্যদিকে সাইফ বিপণন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের দায়িত্ব পালন করছে। অভিযোগ যাচাই ও স্ক্রিনিংয়ের জন্য চার সদস্যের একটি মডারেশন টিম রয়েছে বলেও জানায় শাহেদ।
ওয়েবসাইট চালুর পর কোনো হুমকি বা নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা তৈরি হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহেদ জানায়, এখন পর্যন্ত সে কোনো হুমকি বা নেতিবাচক ফোন পায়নি। শুরুতে ওয়েবসাইটটি এতটা ছড়িয়ে পড়বে বলেও সে ভাবেনি। তার পরিকল্পনা ছিল উদ্যোগটিকে নিজের সিভিতে যুক্ত করা। তবে ভবিষ্যতে নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও মনে করে সে।
বর্তমানে আইনি ঝুঁকি এড়াতে ওয়েবসাইটে অভিযোগকারীদের নাম-পরিচয় কিংবা নির্দিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। ভবিষ্যতে আইনি টিম গঠন করা গেলে অথবা সরকারি সমর্থন পাওয়া গেলে পূর্ণাঙ্গ তথ্য ড্যাশবোর্ডে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে শাহেদ।
তার ভাষ্য, ওয়েবসাইটটির মূল উদ্দেশ্য হলো স্বচ্ছতা তৈরি করা। সরকারি অর্থ কোথায় যাচ্ছে এবং কোথায় অপচয় হচ্ছে, তা মানুষের সামনে তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য। সরকারি দপ্তরে ঘুষ নেওয়াকে অত্যন্ত অন্যায় ও গর্হিত কাজ উল্লেখ করে সে চায়, এসব অনিয়মের চিত্র সবার সামনে স্পষ্টভাবে আসুক।
শাহেদ সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ঘুষের মাত্রা শূন্যে নামিয়ে আনার স্বপ্ন দেখে। তার মতে, সরকার যদি এই ওয়েবসাইটের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে উদ্যোগটি সফল হওয়ার পাশাপাশি দেশের জন্যও বড় ধরনের সুফল বয়ে আনতে পারে। কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে যাতে ঘুষ নেওয়ার সুযোগ না থাকে এবং সাধারণ মানুষ বাধাহীনভাবে প্রাপ্য সেবা পান—এটাই তার মূল লক্ষ্য।
তরুণদের এই উদ্যোগ পুলিশের নজরেও এসেছে। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কোনো অনিয়ম বা ঘুষের তথ্য পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উদ্যোক্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা দেখা দিলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে।
সচেতন নাগরিক কমিটি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সহসভাপতি শরীফুজ্জামান বলেন, দেশের দুর্নীতির অন্যতম প্রধান উৎস ঘুষ। এটি দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি মানুষের মৌলিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করছে। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা ঘুষের চিত্র ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে সামনে আসছে বলে তিনি মনে করেন।
সরকার নিজ উদ্যোগে এ ধরনের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতার ব্যবস্থা করলে সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শাহেদের বাবা শরীফুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাঁর প্রাপ্য সরকারি অর্থ তুলতে গিয়ে ঘুষের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অনেকটা বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা তুললেও বাকি ১০ লাখ টাকা পেতে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকা দিতে হবে বলেও তাকে জানানো হয়েছে বলে দাবি তার।
শরীফুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে শিক্ষা অফিসে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কাজ হচ্ছে না। উপজেলা শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী মজিবুর রহমান তাকে জানিয়েছেন, উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিস মিলিয়ে ১ লাখ টাকা না হলে কাজ হবে না।
তবে ঘুষ না দিয়ে প্রাপ্য অর্থ আদায়ের সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ছেলের নেওয়া উদ্যোগের প্রতি নিজের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলেও জানান।
শিক্ষক আমিনা খাতুনের পেনশনের অর্থ পাওয়া গেলেও কল্যাণ তহবিল এবং চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুর কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাওনা মোট ১০ লাখ টাকা কেন পাওয়া যাচ্ছে না, তা জানতে রোববার বিকেলে সদর উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যাওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ওই শিক্ষকের ফাইল খুঁজে পাননি।
সদর উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মজিবুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, কেউ তাঁর কাছে এলে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে এলে দ্রুত স্বাক্ষর করিয়ে দেন।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন বলেন, ঘুষ দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁকে কোনো তথ্য দেননি। এমন কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মৃত শিক্ষকের সব বকেয়া দ্রুত পরিশোধের আশ্বাস দেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন