মঙ্গলবার সিলেট সার্কিট হাউজে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগাম সতর্কতা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের কারণে সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এ কারণে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।
সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা ও কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের কিছু এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব অস্ত্র ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই লুট হওয়া অস্ত্র, অবৈধ অস্ত্র এবং নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে তথ্যদাতাদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে। পাশাপাশি আগের সময়ে বিতর্কিতভাবে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই-বাছাইয়ের পর বাতিল করা হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
‘মব জাস্টিস’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মব সৃষ্টি এবং মব জাস্টিসের বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ, সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘেরাও কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া, সংবাদ সম্মেলন, জনসভা ও সেমিনারের মতো নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তা তুলে ধরতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মব সৃষ্টির কোনো সুযোগ না দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
সভায় সিলেটের বালু, পাথর ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ আহরণ নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, আদালতের রায় এবং দেশের প্রয়োজন—সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বালু-পাথরসহ খনিজ সম্পদ আহরণসংক্রান্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, পরিবেশ-সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ প্রয়োজনীয় সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের বালু-পাথর ব্যবসার সঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান যুক্ত। তবে একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙনসহ সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন ঝুঁকি সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আদালতে চলমান মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এদিকে মাদক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সম্প্রতি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নতুন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মাদকের শীর্ষ ৫০ ব্যবসায়ীর তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযান চালানো সম্ভব হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি। এ কার্যক্রমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও যানবাহন সরবরাহের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, সিলেট এসএমপি দেশের অন্যতম বড় পুলিশি এলাকার দায়িত্ব পালন করছে। আগামী দিনে এসএমপি, রেঞ্জ পুলিশ ও জেলা পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান এবং সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।
সূত্র: আমার দেশ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার সিলেট সার্কিট হাউজে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্রসহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আগাম সতর্কতা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের কারণে সমাজে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে। এ কারণে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।
সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা ও কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের কিছু এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এসব অস্ত্র ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই লুট হওয়া অস্ত্র, অবৈধ অস্ত্র এবং নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে তথ্যদাতাদের সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে। পাশাপাশি আগের সময়ে বিতর্কিতভাবে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই-বাছাইয়ের পর বাতিল করা হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
‘মব জাস্টিস’ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মব সৃষ্টি এবং মব জাস্টিসের বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ, সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘেরাও কিংবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া, সংবাদ সম্মেলন, জনসভা ও সেমিনারের মতো নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে তা তুলে ধরতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মব সৃষ্টির কোনো সুযোগ না দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
সভায় সিলেটের বালু, পাথর ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ আহরণ নিয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, আদালতের রায় এবং দেশের প্রয়োজন—সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বালু-পাথরসহ খনিজ সম্পদ আহরণসংক্রান্ত কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, পরিবেশ-সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ প্রয়োজনীয় সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের বালু-পাথর ব্যবসার সঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান যুক্ত। তবে একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙনসহ সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন ঝুঁকি সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আদালতে চলমান মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
এদিকে মাদক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সম্প্রতি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নতুন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মাদকের শীর্ষ ৫০ ব্যবসায়ীর তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযান চালানো সম্ভব হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি। এ কার্যক্রমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও যানবাহন সরবরাহের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
তিনি বলেন, সিলেট এসএমপি দেশের অন্যতম বড় পুলিশি এলাকার দায়িত্ব পালন করছে। আগামী দিনে এসএমপি, রেঞ্জ পুলিশ ও জেলা পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান ফলাফল নিশ্চিত করতে হবে।
মতবিনিময় সভায় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান এবং সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন