ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আইন-আদালত

লক্ষ্মীপুরে জোড়া খুনের মামলায় বাদী-সাক্ষীকে অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে জোড়া খুনের মামলায় বাদী-সাক্ষীকে অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরে জোড়া খুনের মামলায় বাদী-সাক্ষীকে অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে তিন বছর আগের আলোচিত জোড়া খুনের মামলাকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ‘অপহরণের নাটক’ সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মূল হত্যা মামলার বাদী মো. জুয়েল ও প্রধান সাক্ষী মো. মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সোমবার উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাখালী এলাকায় স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান হেলাল, বিএনপি নেতা কাজল পঞ্চায়েত, সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম হাওলাদার, জিয়া সাইবার ফোর্স কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন উদ্দিন রাসেল, রামগতি উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল পঞ্চায়েত, যুবদল নেতা খবির হোসেন, ছাত্রদল নেতা মেজবাহ উদ্দিন এবং জুয়েলের মা আংকুরি বেগমসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চরকলাকোপা গ্রামে মাদকাসক্ত সুমন তার স্ত্রী রাশেদা আক্তার (২২) এবং শ্বশুর বাদশা মিয়াকে (৫০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় শাশুড়ি আংকুরি বেগমও গুরুতর আহত হন।

পরে বাদশা মিয়ার ছেলে মো. জুয়েল বাদী হয়ে রামগতি থানায় হত্যা মামলা করেন। বক্তাদের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারের জন্য শুরু থেকেই সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে জুয়েলকে ভয়ভীতি দেখানো ও বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেওয়া হচ্ছিল। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় সুমনের ভাই জয়নাল আবেদীন তার ছেলে সৌরভ হোসেনকে অপহরণের একটি ভুয়া ঘটনা সাজান। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যা মামলার বাদী জুয়েল ও সাক্ষী মিলনকে গ্রেপ্তার করে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

হত্যাকাণ্ডে নিহত বাদশার স্ত্রী ও মামলার প্রত্যক্ষদর্শী আহত আংকুরি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী ও মেয়েকে সুমন কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমরা মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় প্রতিপক্ষ জয়নাল নিজের ছেলেকে অপহরণের নাটক সাজিয়ে আমার ছেলে জুয়েলকে ফাঁসিয়েছে। তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ।’

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট রাতে রামগতির পুরান কলোনী ব্রিজ এলাকা থেকে সৌরভ হোসেন (১৬) নামের এক কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তার বাবা জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে ৪ সেপ্টেম্বর রামগতি থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ জুয়েল ও মিলনকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে জয়নাল আবেদীনকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূর্ববিরোধের কারণে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে। কারও কোনো আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লক্ষ্মীপুরে জোড়া খুনের মামলায় বাদী-সাক্ষীকে অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে তিন বছর আগের আলোচিত জোড়া খুনের মামলাকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ‘অপহরণের নাটক’ সাজানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মূল হত্যা মামলার বাদী মো. জুয়েল ও প্রধান সাক্ষী মো. মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সোমবার উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাখালী এলাকায় স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান হেলাল, বিএনপি নেতা কাজল পঞ্চায়েত, সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম হাওলাদার, জিয়া সাইবার ফোর্স কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন উদ্দিন রাসেল, রামগতি উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল পঞ্চায়েত, যুবদল নেতা খবির হোসেন, ছাত্রদল নেতা মেজবাহ উদ্দিন এবং জুয়েলের মা আংকুরি বেগমসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চরকলাকোপা গ্রামে মাদকাসক্ত সুমন তার স্ত্রী রাশেদা আক্তার (২২) এবং শ্বশুর বাদশা মিয়াকে (৫০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় শাশুড়ি আংকুরি বেগমও গুরুতর আহত হন।

পরে বাদশা মিয়ার ছেলে মো. জুয়েল বাদী হয়ে রামগতি থানায় হত্যা মামলা করেন। বক্তাদের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারের জন্য শুরু থেকেই সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে জুয়েলকে ভয়ভীতি দেখানো ও বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেওয়া হচ্ছিল। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় সুমনের ভাই জয়নাল আবেদীন তার ছেলে সৌরভ হোসেনকে অপহরণের একটি ভুয়া ঘটনা সাজান। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যা মামলার বাদী জুয়েল ও সাক্ষী মিলনকে গ্রেপ্তার করে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে বলে দাবি করেন তারা।

হত্যাকাণ্ডে নিহত বাদশার স্ত্রী ও মামলার প্রত্যক্ষদর্শী আহত আংকুরি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী ও মেয়েকে সুমন কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমরা মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় প্রতিপক্ষ জয়নাল নিজের ছেলেকে অপহরণের নাটক সাজিয়ে আমার ছেলে জুয়েলকে ফাঁসিয়েছে। তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ।’

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ আগস্ট রাতে রামগতির পুরান কলোনী ব্রিজ এলাকা থেকে সৌরভ হোসেন (১৬) নামের এক কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তার বাবা জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে ৪ সেপ্টেম্বর রামগতি থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ জুয়েল ও মিলনকে গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে জয়নাল আবেদীনকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান বলেন, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূর্ববিরোধের কারণে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে। কারও কোনো আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
লক্ষ্মীপুরে জোড়া খুনের মামলায় বাদী-সাক্ষীকে অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তারের অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x