ঢাকা    রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

সরকারি চাকরির ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তে উদ্বেগ মিয়া গোলাম পরওয়ারের

সরকারি চাকরির ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তে উদ্বেগ মিয়া গোলাম পরওয়ারের
সরকারি চাকরির ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তে উদ্বেগ মিয়া গোলাম পরওয়ারের

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তন করে ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে তিনি এ উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চরম দলীয়করণ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় মেধাহীন, অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রতিষ্ঠানে মেধা ও যোগ্যতার বদলে অন্ধ দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মেধানির্ভর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা। অথচ সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থায় এমন একটি বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মেধা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে দুর্বল করবে। এর ফলে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির সুযোগ ন্যক্কারজনকভাবে তৈরি হবে। সরকারি চাকরির নিয়োগে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি বিএনপি সরকারের নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উদ্বেগের। দেশবাসীর ধারণা, ভাইভার নম্বর ব্যাপকভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রশাসনকে দলীয়করণের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষা একজন প্রার্থীর জ্ঞান, মেধা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও প্রস্তুতি তুলনামূলকভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র সংরক্ষণ, পুনর্মূল্যায়ন ও অডিট করার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন অনেকাংশে বোর্ডের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।

তাঁর মতে, ভাইভার নম্বরের গুরুত্ব অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে মেধার ব্যবধান কৃত্রিমভাবে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন কমে যাবে এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদগুলোতে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে এবং সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাই তাদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন এমন কোনো অনিশ্চিত ব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল সহজেই পরিবর্তন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, প্রক্সি, জালিয়াতি ও পরীক্ষায় অনিয়ম ঠেকানো অবশ্যই প্রয়োজন। তবে অনিয়ম বন্ধের কারণ দেখিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই, পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীতে সরকারি চাকরি ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের যে ভয়াবহ সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তার অবসান চেয়েছে। একটি সরকারের দায়িত্ব হলো সেই গণআকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করা, নতুন কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে পুরোনো দলীয়করণের সুযোগ সৃষ্টি করা নয়।

তাই নিয়োগব্যবস্থায় এমন কোনো পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়, যা ভবিষ্যতে প্রশাসনে দলীয় আনুগত্যশীল ও অনুগত জনবল প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এমন একটি প্রশাসন প্রয়োজন, যেখানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিচয় হবে তাদের মেধা, যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতা; রাজনৈতিক পরিচয় নয়। রাষ্ট্রের প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হলে প্রথমেই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে হবে। নিয়োগে দলীয় পরিচয়, রাজনৈতিক আনুগত্য, আত্মীয়তা, ব্যক্তিগত সুপারিশ কিংবা অর্থের প্রভাবের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি নিয়োগ মেধা, যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা দ্রুত বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের লেনদেন ও সুপারিশের সংস্কৃতি বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শতভাগ স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুরোনো বৈষম্য, দলীয়করণ ও অনিয়মের পুনরাবৃত্তি জনগণ মেনে নেবে না। তরুণ সমাজের মেধা, শ্রম ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের চাকরিপ্রার্থী, শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের ন্যায্য দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মেধার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যের অবসান এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই নতুন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সূত্র: ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


সরকারি চাকরির ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তে উদ্বেগ মিয়া গোলাম পরওয়ারের

প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তন করে ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর উদ্যোগে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে তিনি এ উদ্যোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।


বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।


মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চরম দলীয়করণ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন এবং সচিবালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় মেধাহীন, অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব প্রতিষ্ঠানে মেধা ও যোগ্যতার বদলে অন্ধ দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


তিনি আরও বলেন, বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মেধানির্ভর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা। অথচ সরকারি চাকরির নিয়োগব্যবস্থায় এমন একটি বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা মেধা যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে দুর্বল করবে। এর ফলে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির সুযোগ ন্যক্কারজনকভাবে তৈরি হবে। সরকারি চাকরির নিয়োগে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে তিনি বিএনপি সরকারের নির্লজ্জ দলীয়করণের অশুভ ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন।


মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উদ্বেগের। দেশবাসীর ধারণা, ভাইভার নম্বর ব্যাপকভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রশাসনকে দলীয়করণের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।


তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষা একজন প্রার্থীর জ্ঞান, মেধা, বিশ্লেষণী সক্ষমতা ও প্রস্তুতি তুলনামূলকভাবে বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাইয়ের সুযোগ দেয়। লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র সংরক্ষণ, পুনর্মূল্যায়ন ও অডিট করার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন অনেকাংশে বোর্ডের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল।


তাঁর মতে, ভাইভার নম্বরের গুরুত্ব অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হলে মেধার ব্যবধান কৃত্রিমভাবে পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন কমে যাবে এবং যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।


জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের পদগুলোতে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নিয়ে এবং সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তাই তাদের মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন এমন কোনো অনিশ্চিত ব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে মৌখিক পরীক্ষায় অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল সহজেই পরিবর্তন করা সম্ভব।


তিনি বলেন, প্রক্সি, জালিয়াতি ও পরীক্ষায় অনিয়ম ঠেকানো অবশ্যই প্রয়োজন। তবে অনিয়ম বন্ধের কারণ দেখিয়ে ভাইভার নম্বর বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই, পরীক্ষাকেন্দ্রে কঠোর নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব।


মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীতে সরকারি চাকরি ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের যে ভয়াবহ সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ তার অবসান চেয়েছে। একটি সরকারের দায়িত্ব হলো সেই গণআকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করা, নতুন কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে পুরোনো দলীয়করণের সুযোগ সৃষ্টি করা নয়।


তাই নিয়োগব্যবস্থায় এমন কোনো পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়, যা ভবিষ্যতে প্রশাসনে দলীয় আনুগত্যশীল ও অনুগত জনবল প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


তিনি বলেন, এমন একটি প্রশাসন প্রয়োজন, যেখানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিচয় হবে তাদের মেধা, যোগ্যতা, সততা ও কর্মদক্ষতা; রাজনৈতিক পরিচয় নয়। রাষ্ট্রের প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হলে প্রথমেই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে হবে। নিয়োগে দলীয় পরিচয়, রাজনৈতিক আনুগত্য, আত্মীয়তা, ব্যক্তিগত সুপারিশ কিংবা অর্থের প্রভাবের কোনো সুযোগ থাকা উচিত নয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি নিয়োগ মেধা, যোগ্যতা, সততা ও দক্ষতার ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন।


সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা দ্রুত বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের লেনদেন ও সুপারিশের সংস্কৃতি বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শতভাগ স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।


তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশে পুরোনো বৈষম্য, দলীয়করণ ও অনিয়মের পুনরাবৃত্তি জনগণ মেনে নেবে না। তরুণ সমাজের মেধা, শ্রম ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।


মিয়া গোলাম পরওয়ার দেশের চাকরিপ্রার্থী, শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের ন্যায্য দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মেধার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যের অবসান এবং দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই নতুন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।


সূত্র: ইত্তেফাক


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সরকারি চাকরির ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তে উদ্বেগ মিয়া গোলাম পরওয়ারের
0:00 0:00
1.0x