ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

স্বাস্থ্য

লোডশেডিংয়ে ওলটপালট হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা

লোডশেডিংয়ে ওলটপালট হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা


ভোগান্তির সবচেয়ে বড় নাম লোডশেডিং। যার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে হাসপাতালেও। সদর হাসপাতালগুলোতে এসে এমন অবস্থার মুখোমুখি হয়ে ভীষণ অস্বস্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।

অভিযোগ করে ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনেরা জানান, এই যে কারেন্ট গেছে, দেড় ঘণ্টা পরে আসবে। অনেক অসুবিধা হচ্ছে। কেন মানুষ টিকতে পারে না, শিশু-বাচ্চারা কীভাবে টিকবে?

বিদ্যুৎ সংকটে সরকারি হাসপাতালে সেবা পেতে আসা রোগীদেরও নাভিশ্বাস।

স্বজনেরা আরও জানান, ডিসি, এসপি, এমপিদের অটোমেটিক জেনারেটর চালু হয়ে যায়। তো উনাদের কষ্টটা কী, কারেন্ট যাওয়ার কষ্ট, গরমটা কী—উনারা বুঝতে পারেন না? গরমে শরীর খারাপ লাগতেছে।

কোথাও কোথাও মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে করতে হচ্ছে অস্ত্রোপচার। আইসিইউ কিংবা এনআইসিইউ, এরকম স্পর্শকাতর জায়গাতেও ছোবল দিচ্ছে লোডশেডিং।

দেশের বেশিরভাগ সদর হাসপাতালে ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাড়ছে জটিলতা। কারণ রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস, মনিটরিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ কেভিএ ক্ষমতার একটি জেনারেটর চালাতে প্রতি ঘণ্টায় প্রয়োজন প্রায় ২৫ লিটার ডিজেল। কিন্তু বরাদ্দ কম। পড়ে থাকা জেনারেটরের সংখ্যাও কম নয়। যা নষ্ট হচ্ছে অযত্ন ও অবহেলায়।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আমি জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত এই জেনারেটর রুমটা চালু হতে দেখিনি। এই জেনারেটর রুমে আসলে জেনারেটর আছে কি না, চলে কি না, ভেতরে কী আছে না আছে, সেটাও আমরা জানি না।

দেশের সদর হাসপাতালগুলোর এমন ভয়াবহ চিত্র দুশ্চিন্তায় ফেলেছে ঢাকার হাসপাতালগুলোর পরিচালকদের।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন বলেন, আমার যদি কারেন্ট না থাকে, তাহলে ডেফিনিটলি আমরা চ্যালেঞ্জে পড়ব। কারণ, আমার এই যে জেনারেটর, যদি ব্যাকআপ না থাকে, তখন যদি কারেন্ট না আসে, তখন তো আমার মেশিন শাটডাউন হবে। মেশিন শাটডাউন হলে যে পেশেন্টকে আমার ট্রিটমেন্ট করতে পারব না। অন্য রোগীদের আমাকে ফেরত দিয়ে দিতে হবে।

চিকিৎসকরা জানান, আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার ও লাইফ সাপোর্টে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সংকট জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

তবে নিউরোলজিস্ট ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, আমরা দেখি যে গ্রামে হয়তো মোবাইল লাইটে সার্জন অপারেশন করতেছেন। অপারেশন করার সময় আমাদের তো প্রচুর লাইট লাগে। তো এই লাইট যদি না থাকে, হয়তো যে স্ট্রাকচারগুলো আছে, এগুলো যদি ঠিকমতো দেখা না যায়, তাহলে তো আপনার যেকোনো সময়ে একটা ইনজুরি হতে পারে। ওইখানে তো একটা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাবি, সারাদেশের হাসপাতালগুলোর এমন চিত্র পাল্টানোর চেষ্টা করছেন তারা। ভাবা হচ্ছে সোলার প্যানেল নিয়েও।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আমি কথা বলেছি। তারা বলেছে যে, আমরা যদি লোডশেডিং দিই, সেটা আমরা জানিয়ে দেব। তবে সোলার প্যানেলের অনেক সুন্দর সিস্টেম আছে অনেক জায়গায়। অনেক বড় লার্জ স্কেলে করলে অনেক বেশি সেবা পাওয়া যায়।

স্বাস্থ্যখাতের অস্বাস্থ্যকর দুর্ভোগের চিত্র নিত্যদিনের হলেও চলমান লোডশেডিং শুধু ভোগান্তি দিচ্ছে না, হুমকির মুখে ফেলছে জীবনও। আর তাই দ্রুত কার্যকর সমাধানই প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


লোডশেডিংয়ে ওলটপালট হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


ভোগান্তির সবচেয়ে বড় নাম লোডশেডিং। যার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে হাসপাতালেও। সদর হাসপাতালগুলোতে এসে এমন অবস্থার মুখোমুখি হয়ে ভীষণ অস্বস্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।


অভিযোগ করে ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনেরা জানান, এই যে কারেন্ট গেছে, দেড় ঘণ্টা পরে আসবে। অনেক অসুবিধা হচ্ছে। কেন মানুষ টিকতে পারে না, শিশু-বাচ্চারা কীভাবে টিকবে?


বিদ্যুৎ সংকটে সরকারি হাসপাতালে সেবা পেতে আসা রোগীদেরও নাভিশ্বাস।


স্বজনেরা আরও জানান, ডিসি, এসপি, এমপিদের অটোমেটিক জেনারেটর চালু হয়ে যায়। তো উনাদের কষ্টটা কী, কারেন্ট যাওয়ার কষ্ট, গরমটা কী—উনারা বুঝতে পারেন না? গরমে শরীর খারাপ লাগতেছে।


কোথাও কোথাও মোবাইলের লাইট জ্বালিয়ে করতে হচ্ছে অস্ত্রোপচার। আইসিইউ কিংবা এনআইসিইউ, এরকম স্পর্শকাতর জায়গাতেও ছোবল দিচ্ছে লোডশেডিং।


দেশের বেশিরভাগ সদর হাসপাতালে ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকলেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাড়ছে জটিলতা। কারণ রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস, মনিটরিং থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল।


হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ কেভিএ ক্ষমতার একটি জেনারেটর চালাতে প্রতি ঘণ্টায় প্রয়োজন প্রায় ২৫ লিটার ডিজেল। কিন্তু বরাদ্দ কম। পড়ে থাকা জেনারেটরের সংখ্যাও কম নয়। যা নষ্ট হচ্ছে অযত্ন ও অবহেলায়।


স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আমি জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত এই জেনারেটর রুমটা চালু হতে দেখিনি। এই জেনারেটর রুমে আসলে জেনারেটর আছে কি না, চলে কি না, ভেতরে কী আছে না আছে, সেটাও আমরা জানি না।


দেশের সদর হাসপাতালগুলোর এমন ভয়াবহ চিত্র দুশ্চিন্তায় ফেলেছে ঢাকার হাসপাতালগুলোর পরিচালকদের।


এ প্রসঙ্গে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন বলেন, আমার যদি কারেন্ট না থাকে, তাহলে ডেফিনিটলি আমরা চ্যালেঞ্জে পড়ব। কারণ, আমার এই যে জেনারেটর, যদি ব্যাকআপ না থাকে, তখন যদি কারেন্ট না আসে, তখন তো আমার মেশিন শাটডাউন হবে। মেশিন শাটডাউন হলে যে পেশেন্টকে আমার ট্রিটমেন্ট করতে পারব না। অন্য রোগীদের আমাকে ফেরত দিয়ে দিতে হবে।


চিকিৎসকরা জানান, আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার ও লাইফ সাপোর্টে থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সংকট জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।


তবে নিউরোলজিস্ট ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু বলেন, আমরা দেখি যে গ্রামে হয়তো মোবাইল লাইটে সার্জন অপারেশন করতেছেন। অপারেশন করার সময় আমাদের তো প্রচুর লাইট লাগে। তো এই লাইট যদি না থাকে, হয়তো যে স্ট্রাকচারগুলো আছে, এগুলো যদি ঠিকমতো দেখা না যায়, তাহলে তো আপনার যেকোনো সময়ে একটা ইনজুরি হতে পারে। ওইখানে তো একটা জটিলতা দেখা দিতে পারে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দাবি, সারাদেশের হাসপাতালগুলোর এমন চিত্র পাল্টানোর চেষ্টা করছেন তারা। ভাবা হচ্ছে সোলার প্যানেল নিয়েও।


এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা) পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আমি কথা বলেছি। তারা বলেছে যে, আমরা যদি লোডশেডিং দিই, সেটা আমরা জানিয়ে দেব। তবে সোলার প্যানেলের অনেক সুন্দর সিস্টেম আছে অনেক জায়গায়। অনেক বড় লার্জ স্কেলে করলে অনেক বেশি সেবা পাওয়া যায়।


স্বাস্থ্যখাতের অস্বাস্থ্যকর দুর্ভোগের চিত্র নিত্যদিনের হলেও চলমান লোডশেডিং শুধু ভোগান্তি দিচ্ছে না, হুমকির মুখে ফেলছে জীবনও। আর তাই দ্রুত কার্যকর সমাধানই প্রত্যাশা।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
লোডশেডিংয়ে ওলটপালট হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা
0:00 0:00
1.0x