শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা কবরস্থানে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি রয়েছে। জাতিসংঘও বলেছে, আওয়ামী লীগ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশে নতুন করে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। তবে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করছে।
জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সমস্যা। এই জাতীয় সংকটকে কাজে লাগিয়ে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট লংমার্চ করছে। এর ফলে দেশে জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে পারে। তিনি সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বলেন, এভাবে লংমার্চ করে রাষ্ট্রকে অশান্ত করা হলে আওয়ামী লীগ আবার ফিরে আসার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা অপেক্ষা করছেন জামায়াত কখন এবং কতটা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে। আওয়ামী লীগের ফিরে আসা অনেকটা জামায়াতের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে। আওয়ামী লীগ ফিরে এলে শহীদ আবরার ফাহাদকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, একইভাবে সাধারণ মানুষকেও হত্যার শিকার হতে হবে।
জামায়াতকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, জামায়াত যদি আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৯৬ সালের মতো বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে চায়, তাহলে দেশের জনগণ জামায়াতের বিরুদ্ধেও আন্দোলনে নামবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যে সংগঠন শহীদ আবরার ফাহাদকে হত্যা করেছে, সেই সংগঠন ও দলটির বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, যারা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং আবরার ফাহাদের চেতনা ধারণ করেন, তারা রাজপথে থাকবেন। রাজপথে থেকেই আওয়ামী লীগের সব ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলা করা হবে।
আবরার ফাহাদের চেতনা বাস্তবায়নের বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, বাংলাদেশে আবরার ফাহাদের চেতনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। খুনি হাসিনা ও শহীদ ওসমান হাদির আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভারত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট না করলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন না। তার ভাষায়, এটিই আবরার ফাহাদের চেতনা। এ কারণেই ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলা হচ্ছে। অতীতের রাখী বন্ধনের সম্পর্ক ছিন্ন করে ভারতের সঙ্গে সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার আবরার ফাহাদের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার স্টেডিয়ামসহ দেশের বিভিন্ন স্থাপনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে হল করা হয়েছে। বাংলাদেশের মাটিতে শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারও বাংলাদেশের মাটিতেই হবে, ইনশাআল্লাহ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার, কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিনসহ অনেকে।
সূত্র: ইত্তেফাক

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা কবরস্থানে বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি রয়েছে। জাতিসংঘও বলেছে, আওয়ামী লীগ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশে নতুন করে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। তবে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করছে।
জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট একটি জাতীয় সমস্যা। এই জাতীয় সংকটকে কাজে লাগিয়ে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোট লংমার্চ করছে। এর ফলে দেশে জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে পারে। তিনি সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বলেন, এভাবে লংমার্চ করে রাষ্ট্রকে অশান্ত করা হলে আওয়ামী লীগ আবার ফিরে আসার সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা অপেক্ষা করছেন জামায়াত কখন এবং কতটা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করে। আওয়ামী লীগের ফিরে আসা অনেকটা জামায়াতের কর্মকাণ্ডের ওপর নির্ভর করছে। আওয়ামী লীগ ফিরে এলে শহীদ আবরার ফাহাদকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, একইভাবে সাধারণ মানুষকেও হত্যার শিকার হতে হবে।
জামায়াতকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, জামায়াত যদি আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে ১৯৯৬ সালের মতো বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে চায়, তাহলে দেশের জনগণ জামায়াতের বিরুদ্ধেও আন্দোলনে নামবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যে সংগঠন শহীদ আবরার ফাহাদকে হত্যা করেছে, সেই সংগঠন ও দলটির বাংলাদেশে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, যারা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং আবরার ফাহাদের চেতনা ধারণ করেন, তারা রাজপথে থাকবেন। রাজপথে থেকেই আওয়ামী লীগের সব ধরনের অপতৎপরতা মোকাবিলা করা হবে।
আবরার ফাহাদের চেতনা বাস্তবায়নের বিষয়ে রাশেদ খান বলেন, বাংলাদেশে আবরার ফাহাদের চেতনা বাস্তবায়িত হচ্ছে। খুনি হাসিনা ও শহীদ ওসমান হাদির আসামিদের ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভারত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট না করলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন না। তার ভাষায়, এটিই আবরার ফাহাদের চেতনা। এ কারণেই ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলা হচ্ছে। অতীতের রাখী বন্ধনের সম্পর্ক ছিন্ন করে ভারতের সঙ্গে সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, বিএনপি সরকার আবরার ফাহাদের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। কুষ্টিয়ায় শহীদ আবরার স্টেডিয়ামসহ দেশের বিভিন্ন স্থাপনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নামে হল করা হয়েছে। বাংলাদেশের মাটিতে শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারও বাংলাদেশের মাটিতেই হবে, ইনশাআল্লাহ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার, কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিনসহ অনেকে।
সূত্র: ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন