ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

বিশেষ সংবাদ

হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে দাফন করলেন আহত ফারুক

হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে দাফন করলেন আহত ফারুক

যশোর-রাজগঞ্জ সড়কের তালতলায় বেপরোয়া গতির পিকআপ ও নসিমনের সংঘর্ষে নিহত স্ত্রী ও চার বছরের সন্তানকে নিজ হাতে দাফন করেছেন গুরুতর আহত ওমর ফারুক হোসেন। 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে অশ্রুসজল চোখে তাদের দাফন করেন তিনি। রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় নিহত হন ফারুকের স্ত্রী মৌসুমি বেগম (৩২) ও তাদের চার বছরের ছেলে আব্দুর রহমান। 

সোমবার বেলা ১১টায় যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হানুয়ার মানিকগঞ্জ গ্রামের বাড়ির পাশে একটি মসজিদে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসী অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, জ্বরে আক্রান্ত ছেলেকে চিকিৎসক দেখাতে রোববার সন্ধ্যায় যশোর শহরের সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন মৌসুমি। চিকিৎসক দেখিয়ে স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। 

পথে তালতলা এলাকায় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মাছবাহী পিকআপ অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় পিকআপটি সামনে থাকা একটি নসিমনকে ধাক্কা দিলে নসিমনটি উল্টে পাশ দিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে।

এতে মোটরসাইকেলে থাকা মৌসুমি ও তার ছেলে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথেই তাদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মোটরসাইকেলচালক ফারুকও।

নিহত মৌসুমির ভাই জাকির হোসেন জানান, সোমবার বেলা ১১টায় বাড়ির পাশের মসজিদে তার বোন ও ভাগনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গুরুতর আহত ফারুক নিজ হাতে স্ত্রী ও সন্তানকে দাফন করেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজিব রায়চৌধুরী জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মা ও শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।

যশোর কোতোয়ালি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুস সালাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত গতি ও বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিংকে দুর্ঘটনার কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।

পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত মাছবাহী পিকআপ ও নসিমনটি জব্দ করে রাজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে রেখেছে। দুর্ঘটনার পর দুই যানবাহনের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে দাফন করলেন আহত ফারুক

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যশোর-রাজগঞ্জ সড়কের তালতলায় বেপরোয়া গতির পিকআপ ও নসিমনের সংঘর্ষে নিহত স্ত্রী ও চার বছরের সন্তানকে নিজ হাতে দাফন করেছেন গুরুতর আহত ওমর ফারুক হোসেন। 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে অশ্রুসজল চোখে তাদের দাফন করেন তিনি। রোববার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় নিহত হন ফারুকের স্ত্রী মৌসুমি বেগম (৩২) ও তাদের চার বছরের ছেলে আব্দুর রহমান। 

সোমবার বেলা ১১টায় যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হানুয়ার মানিকগঞ্জ গ্রামের বাড়ির পাশে একটি মসজিদে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্বজন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসী অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, জ্বরে আক্রান্ত ছেলেকে চিকিৎসক দেখাতে রোববার সন্ধ্যায় যশোর শহরের সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন মৌসুমি। চিকিৎসক দেখিয়ে স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। 

পথে তালতলা এলাকায় পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির একটি মাছবাহী পিকআপ অন্য একটি যানবাহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় পিকআপটি সামনে থাকা একটি নসিমনকে ধাক্কা দিলে নসিমনটি উল্টে পাশ দিয়ে যাওয়া মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে।

এতে মোটরসাইকেলে থাকা মৌসুমি ও তার ছেলে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথেই তাদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন মোটরসাইকেলচালক ফারুকও।

নিহত মৌসুমির ভাই জাকির হোসেন জানান, সোমবার বেলা ১১টায় বাড়ির পাশের মসজিদে তার বোন ও ভাগনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গুরুতর আহত ফারুক নিজ হাতে স্ত্রী ও সন্তানকে দাফন করেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজিব রায়চৌধুরী জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মা ও শিশুর মৃত্যু হয়েছিল।

যশোর কোতোয়ালি থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুস সালাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত গতি ও বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিংকে দুর্ঘটনার কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।

পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত মাছবাহী পিকআপ ও নসিমনটি জব্দ করে রাজগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে রেখেছে। দুর্ঘটনার পর দুই যানবাহনের চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে দাফন করলেন আহত ফারুক
0:00 0:00
1.0x