গত ১৬ জুলাই প্রকাশিত ১৪৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের তৎকালীন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া কার্নিশে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা এক তরুণকে গুলি করার ঘটনায় এসআই তারিকুল ইসলামকে যাবজ্জীবন এবং এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তারিকুল ইসলাম পলাতক থাকলেও চঞ্চল চন্দ্র সরকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধান অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে, রামপুরা-বনশ্রীর ঘটনাগুলো ছিল রাষ্ট্রীয় বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের সমন্বয়ে বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে পরিচালিত বৃহৎ ও সুসংগঠিত হামলার অংশ।
মামলার প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় এবং তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের আদেশে অভিযুক্তরা নিজেদের দায়িত্বাধীন এলাকা ছাড়িয়ে গিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেন। ওই বছরের ১৯ জুলাই বনশ্রী ‘এইচ’ ব্লকে জামে মসজিদের সামনে পুলিশের গুলিতে মো. নাদিম (৩৮) নিহত হন।
দ্বিতীয় অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী আমির হোসেনকে হত্যাচেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশের ধাওয়া থেকে বাঁচতে তিনি একটি নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলার কার্নিশের পাইপ ধরে ঝুলে ছিলেন। সেখানে এসআই তারিকুল ইসলাম ও এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার তাকে নিচে লাফ দিতে বলেন। তিনি লাফ না দিলে তাকে লক্ষ্য করে পরপর ছয়টি গুলি ছোড়া হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
তৃতীয় অভিযোগে মায়া ইসলাম (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে গুলি করে হত্যা এবং তার ছয় বছরের নাতি বাসিত খান মুসাকে হত্যাচেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯ জুলাই বিকেলে বনশ্রী ‘জি’ ব্লকে একটি বাড়ির গেটের ভেতরে অবস্থানকালে পুলিশের ছোড়া একটি গুলি শিশু মুসার মাথা ভেদ করে তার দাদি মায়া ইসলামের পেটে বিদ্ধ হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া ইসলামের মৃত্যু হয়।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছে, নাদিম, মায়া ইসলাম, বাসিত খান মুসা ও আমির হোসেনের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং দেশজুড়ে আন্দোলন দমনে পরিচালিত বৃহত্তর অভিযানের অংশ।
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসভবনে অনুষ্ঠিত একটি ‘কোর কমিটি’ বৈঠকে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ, প্রাণঘাতী অস্ত্র, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ইন্টারনেট বন্ধ রাখা, মৃতদেহ গুম, অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা, চিকিৎসা ব্যাহত করা এবং চিকিৎসকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাগুলোকেও একই পদ্ধতিগত হামলার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ৩ ও ৪ ধারা এবং রোম সংবিধির ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।
আদালতে প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া একটি পেনড্রাইভ এবং সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার ভিত্তিতে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় ওয়্যারলেসে দেওয়া তার নির্দেশনার অডিওর কণ্ঠের সঙ্গে ইতিবাচক মিল পাওয়া যায়।
আত্মরক্ষার যুক্তিতে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—আসামিপক্ষের এমন দাবি ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেনি। আদালতের মতে, ‘সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ’ সংক্রান্ত নির্দেশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। একই সঙ্গে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে হাবিবুর রহমানের ক্ষেত্রে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে। রায়ে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর রামপুরা থানায় গিয়ে তৎকালীন ওসি মশিউর রহমানকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়াও অধস্তন সদস্যদের কর্মকাণ্ডের প্রতি তার সমর্থনের প্রতিফলন।
রায়ের নথিতে বলা হয়েছে, এডিসি রাশেদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এবং ওসি মশিউর রহমানের নেতৃত্বে রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওসি মশিউর রহমান তার নিজস্ব জিডিতেও চাইনিজ রাইফেল থেকে ৬০ রাউন্ড গুলি ছোড়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কার্নিশে ঝুলন্ত তরুণ আমির হোসেনকে গুলি করার ভিডিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। পরবর্তীতে এক বৈঠকে ভিডিওটি দেখে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করা হয়। এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও এবং এসআই তারিকুল ইসলামের জিডিও আদালতে উপস্থাপিত হয়।
সাজা নির্ধারণে ট্রাইব্যুনাল বলেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় হাবিবুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম ও মশিউর রহমান সর্বোচ্চ শাস্তির উপযুক্ত। অন্যদিকে, এসআই তারিকুল ইসলাম ও এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার অধস্তন কর্মকর্তা হওয়া, আমির হোসেন জীবিত থাকা এবং তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে যথাক্রমে যাবজ্জীবন ও ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চঞ্চল চন্দ্র সরকার পলাতক না থেকে বিচারের মুখোমুখি হওয়ায় তার শাস্তি আরও লঘু করা হয়েছে।
এ মামলায় গত বছরের ৩১ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় এবং ১৮ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী আমির হোসেন, নিহত মায়া ইসলামের ছেলে, শিশু বাসিত খান মুসার বাবা এবং নিহত নাদিমের স্ত্রীসহ মোট ১৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সবশেষে ট্রাইব্যুনাল-১ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
গত ১৬ জুলাই প্রকাশিত ১৪৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের তৎকালীন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
এছাড়া কার্নিশে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা এক তরুণকে গুলি করার ঘটনায় এসআই তারিকুল ইসলামকে যাবজ্জীবন এবং এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন এবং যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তারিকুল ইসলাম পলাতক থাকলেও চঞ্চল চন্দ্র সরকার বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধান অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে।
রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে, রামপুরা-বনশ্রীর ঘটনাগুলো ছিল রাষ্ট্রীয় বাহিনী এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের সমন্বয়ে বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে পরিচালিত বৃহৎ ও সুসংগঠিত হামলার অংশ।
মামলার প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় এবং তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের আদেশে অভিযুক্তরা নিজেদের দায়িত্বাধীন এলাকা ছাড়িয়ে গিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেন। ওই বছরের ১৯ জুলাই বনশ্রী ‘এইচ’ ব্লকে জামে মসজিদের সামনে পুলিশের গুলিতে মো. নাদিম (৩৮) নিহত হন।
দ্বিতীয় অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী আমির হোসেনকে হত্যাচেষ্টার বিষয়টি তুলে ধরা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পুলিশের ধাওয়া থেকে বাঁচতে তিনি একটি নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলার কার্নিশের পাইপ ধরে ঝুলে ছিলেন। সেখানে এসআই তারিকুল ইসলাম ও এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার তাকে নিচে লাফ দিতে বলেন। তিনি লাফ না দিলে তাকে লক্ষ্য করে পরপর ছয়টি গুলি ছোড়া হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
তৃতীয় অভিযোগে মায়া ইসলাম (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে গুলি করে হত্যা এবং তার ছয় বছরের নাতি বাসিত খান মুসাকে হত্যাচেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯ জুলাই বিকেলে বনশ্রী ‘জি’ ব্লকে একটি বাড়ির গেটের ভেতরে অবস্থানকালে পুলিশের ছোড়া একটি গুলি শিশু মুসার মাথা ভেদ করে তার দাদি মায়া ইসলামের পেটে বিদ্ধ হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া ইসলামের মৃত্যু হয়।
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছে, নাদিম, মায়া ইসলাম, বাসিত খান মুসা ও আমির হোসেনের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং দেশজুড়ে আন্দোলন দমনে পরিচালিত বৃহত্তর অভিযানের অংশ।
পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসভবনে অনুষ্ঠিত একটি ‘কোর কমিটি’ বৈঠকে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ, প্রাণঘাতী অস্ত্র, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ইন্টারনেট বন্ধ রাখা, মৃতদেহ গুম, অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে বাধা, চিকিৎসা ব্যাহত করা এবং চিকিৎসকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাগুলোকেও একই পদ্ধতিগত হামলার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ৩ ও ৪ ধারা এবং রোম সংবিধির ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।
আদালতে প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া একটি পেনড্রাইভ এবং সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার ভিত্তিতে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় ওয়্যারলেসে দেওয়া তার নির্দেশনার অডিওর কণ্ঠের সঙ্গে ইতিবাচক মিল পাওয়া যায়।
আত্মরক্ষার যুক্তিতে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল—আসামিপক্ষের এমন দাবি ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেনি। আদালতের মতে, ‘সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ’ সংক্রান্ত নির্দেশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। একই সঙ্গে ডিএমপি কমিশনার হিসেবে হাবিবুর রহমানের ক্ষেত্রে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে। রায়ে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর রামপুরা থানায় গিয়ে তৎকালীন ওসি মশিউর রহমানকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়াও অধস্তন সদস্যদের কর্মকাণ্ডের প্রতি তার সমর্থনের প্রতিফলন।
রায়ের নথিতে বলা হয়েছে, এডিসি রাশেদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এবং ওসি মশিউর রহমানের নেতৃত্বে রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওসি মশিউর রহমান তার নিজস্ব জিডিতেও চাইনিজ রাইফেল থেকে ৬০ রাউন্ড গুলি ছোড়ার কথা উল্লেখ করেছিলেন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কার্নিশে ঝুলন্ত তরুণ আমির হোসেনকে গুলি করার ভিডিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। পরবর্তীতে এক বৈঠকে ভিডিওটি দেখে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করা হয়। এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকারের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও এবং এসআই তারিকুল ইসলামের জিডিও আদালতে উপস্থাপিত হয়।
সাজা নির্ধারণে ট্রাইব্যুনাল বলেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় হাবিবুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম ও মশিউর রহমান সর্বোচ্চ শাস্তির উপযুক্ত। অন্যদিকে, এসআই তারিকুল ইসলাম ও এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার অধস্তন কর্মকর্তা হওয়া, আমির হোসেন জীবিত থাকা এবং তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে যথাক্রমে যাবজ্জীবন ও ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চঞ্চল চন্দ্র সরকার পলাতক না থেকে বিচারের মুখোমুখি হওয়ায় তার শাস্তি আরও লঘু করা হয়েছে।
এ মামলায় গত বছরের ৩১ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় এবং ১৮ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী আমির হোসেন, নিহত মায়া ইসলামের ছেলে, শিশু বাসিত খান মুসার বাবা এবং নিহত নাদিমের স্ত্রীসহ মোট ১৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।
সবশেষে ট্রাইব্যুনাল-১ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন