সোমবার ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সিজেপির কর্মী-সমর্থক এবং শিক্ষার্থীরা যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করেন। তবে বিকাশ মার্গ, আইটিও মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন।
অভিযানের সময় সেন্ট্রাল দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু আন্দোলনকারীকে আটক করে বাসযোগে নিয়ে যায় পুলিশ। একই সময়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর জেপি নাড্ডার সঙ্গে তাদের প্রায় ১০ মিনিটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সৌরভ দাস জানান, আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো লিখিতভাবে জেপি নাড্ডার কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার আশ্বাস দিলেও বাইরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ ও আটকের ঘটনায় আলোচনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে— নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, জাতীয় পরীক্ষামূলক সংস্থা (NTA)-এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।
সংসদ ভবনের বাইরের উত্তেজনার প্রভাব সংসদের ভেতরেও পড়ে। বিরোধী দলগুলোর তুমুল হট্টগোলের কারণে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়। রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জের নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেন, সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে।
এদিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে অনশন পালন করছিলেন। সোমবারের সংসদ অভিযানের অংশ হিসেবে তারা অনশন প্রত্যাহার করলেও আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেন্ট্রাল দিল্লির কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পাঁচটি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুলাই ২০২৬
সোমবার ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সিজেপির কর্মী-সমর্থক এবং শিক্ষার্থীরা যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করেন। তবে বিকাশ মার্গ, আইটিও মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন আন্দোলনকারী ও পুলিশ সদস্য আহত হন।
অভিযানের সময় সেন্ট্রাল দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু আন্দোলনকারীকে আটক করে বাসযোগে নিয়ে যায় পুলিশ। একই সময়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর জেপি নাড্ডার সঙ্গে তাদের প্রায় ১০ মিনিটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সৌরভ দাস জানান, আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলো লিখিতভাবে জেপি নাড্ডার কাছে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার আশ্বাস দিলেও বাইরে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ ও আটকের ঘটনায় আলোচনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে— নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দায়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, জাতীয় পরীক্ষামূলক সংস্থা (NTA)-এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা।
সংসদ ভবনের বাইরের উত্তেজনার প্রভাব সংসদের ভেতরেও পড়ে। বিরোধী দলগুলোর তুমুল হট্টগোলের কারণে লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশন কিছু সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়। রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জের নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেন, সরকার বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে।
এদিকে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে পরিবেশবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে অনশন পালন করছিলেন। সোমবারের সংসদ অভিযানের অংশ হিসেবে তারা অনশন প্রত্যাহার করলেও আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেন্ট্রাল দিল্লির কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পাঁচটি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন