ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফিরছিলেন। যাত্রাপথে কয়েকজন টিটিই যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়া অর্থ নিচ্ছেন দেখে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এরপর ৬-৭ জন টিটিই তাকে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে গিয়ে ঘাড় ও পিঠে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে চলন্ত ট্রেনের জানালার পাশে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার চশমাও ভেঙে যায়।
ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো— অভিযুক্তকে সশরীরে উপস্থিত করতে হবে, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তার স্থায়ী বহিষ্কার ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।
ফোরকান উদ্দীন বলেন, রেলের অর্থ রাষ্ট্রের সম্পদ উল্লেখ করে তিনি শুধু রসিদ ছাড়া অর্থ আদায়ের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এর জেরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। দাবিগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রেল অবরোধ চলবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার অবরোধস্থলে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, রাকসু এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, কর্তব্যরত টিটিই সরকারি রসিদ ছাড়া অর্থ গ্রহণের প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সংগঠনটি এ ঘটনাকে হত্যাচেষ্টার শামিল উল্লেখ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আইনগত ব্যবস্থা, ক্ষতিপূরণ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের বাধ্যতামূলক যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী ফিরছিলেন। যাত্রাপথে কয়েকজন টিটিই যাত্রীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়া অর্থ নিচ্ছেন দেখে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এরপর ৬-৭ জন টিটিই তাকে দুই বগির মাঝখানে নিয়ে গিয়ে ঘাড় ও পিঠে মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে চলন্ত ট্রেনের জানালার পাশে নিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার চশমাও ভেঙে যায়।
ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো— অভিযুক্তকে সশরীরে উপস্থিত করতে হবে, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে তার স্থায়ী বহিষ্কার ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রাবিরতি নিশ্চিত করতে হবে।
ফোরকান উদ্দীন বলেন, রেলের অর্থ রাষ্ট্রের সম্পদ উল্লেখ করে তিনি শুধু রসিদ ছাড়া অর্থ আদায়ের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এর জেরেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম বলেন, অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা হয়েছে। দাবিগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রেল অবরোধ চলবে বলে জানান তিনি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার অবরোধস্থলে অবস্থান নেন। একই সঙ্গে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছে। তিনি বলেন, যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, রাকসু এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, কর্তব্যরত টিটিই সরকারি রসিদ ছাড়া অর্থ গ্রহণের প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করা হয় এবং পরে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সংগঠনটি এ ঘটনাকে হত্যাচেষ্টার শামিল উল্লেখ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, আইনগত ব্যবস্থা, ক্ষতিপূরণ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে সব দূরপাল্লার ট্রেনের বাধ্যতামূলক যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন