১৭২৪ সালে নির্মিত যন্তর মন্তর মূলত একটি জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দির। ইতিহাসের ধারায় এর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব অটুট থাকলেও পরবর্তী সময়ে এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির জন্যও পরিচিতি লাভ করে।
১৯৯৩ সালে সংসদ ভবনের আশপাশে জনসমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পর দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য যন্তর মন্তর রোডকে নির্ধারিত স্থান হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। এর আগে রাজধানীর বোট ক্লাব ছিল বড় সমাবেশের প্রধান কেন্দ্র। তবে বিশাল জনসমাগমের কারণে নিরাপত্তা ও যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে সমাবেশ সীমিত করা হয়।
এরপর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষার্থী ও নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে যন্তর মন্তর।
বর্তমানে চলমান শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবেও যন্তর মন্তরের নাম সামনে এসেছে। বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনকারীরা এখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। একই সঙ্গে কিছু সংগঠন পদযাত্রার পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক পর্যবেক্ষণে জানায়, আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের অংশ। তবে সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও জনস্বার্থ, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
যন্তর মন্তর দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হলেও সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে কিছুটা দূরে। ফলে এখানে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির প্রভাব সরাসরি উচ্চ নিরাপত্তা অঞ্চলে পড়ে না। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে সহজে পৌঁছানো যায়, যা এটিকে প্রতিবাদের জন্য একটি কার্যকর স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর আন্দোলনের কারণে যন্তর মন্তর আবারও জাতীয় আলোচনায় এসেছে। দলটির কর্মসূচি এবং তা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। তবে যন্তর মন্তরের ইতিহাস বলছে, এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়; বরং ভারতের নাগরিক প্রতিবাদ, গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশ এবং জনআন্দোলনের দীর্ঘ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
তথ্যসূত্র: বিভিন্ন প্রকাশ্য ঐতিহাসিক তথ্য ও সাম্প্রতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন।

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
১৭২৪ সালে নির্মিত যন্তর মন্তর মূলত একটি জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দির। ইতিহাসের ধারায় এর বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব অটুট থাকলেও পরবর্তী সময়ে এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির জন্যও পরিচিতি লাভ করে।
১৯৯৩ সালে সংসদ ভবনের আশপাশে জনসমাবেশের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পর দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য যন্তর মন্তর রোডকে নির্ধারিত স্থান হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। এর আগে রাজধানীর বোট ক্লাব ছিল বড় সমাবেশের প্রধান কেন্দ্র। তবে বিশাল জনসমাগমের কারণে নিরাপত্তা ও যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে সমাবেশ সীমিত করা হয়।
এরপর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, শিক্ষার্থী ও নাগরিক আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে যন্তর মন্তর।
বর্তমানে চলমান শিক্ষার্থী ও তরুণদের আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবেও যন্তর মন্তরের নাম সামনে এসেছে। বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনকারীরা এখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। একই সঙ্গে কিছু সংগঠন পদযাত্রার পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক পর্যবেক্ষণে জানায়, আইন মেনে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারের অংশ। তবে সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রেও জনস্বার্থ, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
যন্তর মন্তর দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হলেও সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে কিছুটা দূরে। ফলে এখানে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির প্রভাব সরাসরি উচ্চ নিরাপত্তা অঞ্চলে পড়ে না। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে সহজে পৌঁছানো যায়, যা এটিকে প্রতিবাদের জন্য একটি কার্যকর স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর আন্দোলনের কারণে যন্তর মন্তর আবারও জাতীয় আলোচনায় এসেছে। দলটির কর্মসূচি এবং তা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। তবে যন্তর মন্তরের ইতিহাস বলছে, এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়; বরং ভারতের নাগরিক প্রতিবাদ, গণতান্ত্রিক মতপ্রকাশ এবং জনআন্দোলনের দীর্ঘ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
তথ্যসূত্র: বিভিন্ন প্রকাশ্য ঐতিহাসিক তথ্য ও সাম্প্রতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন।

আপনার মতামত লিখুন