ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

শিক্ষাঙ্গন

মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে ব্যাকডেটের অভিযোগ

মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে ব্যাকডেটের অভিযোগ

তদন্ত চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন, গোপনে নিয়োগ সম্পন্নের দাবি চাকরিপ্রার্থীদের

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে ব্যাকডেট দেখিয়ে গোপনে নিয়োগ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকার পরও লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক পরীক্ষা ছাড়াই তিনটি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

 এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন কয়েকজন শিক্ষিত বেকার চাকরিপ্রার্থী।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তাকর্মী পদে আবেদন করেন একাধিক প্রার্থী। 

পরবর্তীতে একই পদে আরও কয়েক দফা পুনঃবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তারাও পুনরায় আবেদন করেন। তবে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মধ্যে বিরোধের জেরে নিয়োগ কার্যক্রম আর এগোয়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন না হলেও আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া ব্যাংক ড্রাফটের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি তারা জানতে পারেন, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম অবসরে যাওয়ার আগে ব্যাকডেট দেখিয়ে গোপনে তিনটি পদে নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে নাফিউল ইসলাম (তোহা) অথবা মানিক, অফিস সহায়ক পদে নোমান খলিফা এবং নিরাপত্তাকর্মী পদে রাসেল নামে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

তাদের ভাষ্য, নিয়োগের জন্য কোনো লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি নিয়োগ কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো ধরনের নোটিশ বা যোগাযোগও করা হয়নি। ফলে ২০২৩ সালে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রক্রিয়া ২০২৬ সালে কীভাবে সম্পন্ন হলো—তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম, চেক জালিয়াতি এবং অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগও তদন্তের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, নিয়োগটি বন্ধ রয়েছে। আশপাশের মানুষ অযথা এসব কথা বলছে।

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, অভিযোগপত্রের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক, বগুড়ার জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড হয়েছে কি না, তা এখন তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬


মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে ব্যাকডেটের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

তদন্ত চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন, গোপনে নিয়োগ সম্পন্নের দাবি চাকরিপ্রার্থীদের

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে ব্যাকডেট দেখিয়ে গোপনে নিয়োগ সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত থাকার পরও লিখিত, মৌখিক কিংবা ব্যবহারিক পরীক্ষা ছাড়াই তিনটি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


 এ ঘটনায় তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন কয়েকজন শিক্ষিত বেকার চাকরিপ্রার্থী।


লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দৈনিক করতোয়া পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তাকর্মী পদে আবেদন করেন একাধিক প্রার্থী। 


পরবর্তীতে একই পদে আরও কয়েক দফা পুনঃবিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তারাও পুনরায় আবেদন করেন। তবে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির মধ্যে বিরোধের জেরে নিয়োগ কার্যক্রম আর এগোয়নি।


অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন না হলেও আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া ব্যাংক ড্রাফটের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি তারা জানতে পারেন, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম অবসরে যাওয়ার আগে ব্যাকডেট দেখিয়ে গোপনে তিনটি পদে নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন।


অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর পদে নাফিউল ইসলাম (তোহা) অথবা মানিক, অফিস সহায়ক পদে নোমান খলিফা এবং নিরাপত্তাকর্মী পদে রাসেল নামে একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব নিয়োগ এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়াও চলছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।


তাদের ভাষ্য, নিয়োগের জন্য কোনো লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি নিয়োগ কার্যক্রম সম্পর্কে কোনো ধরনের নোটিশ বা যোগাযোগও করা হয়নি। ফলে ২০২৩ সালে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রক্রিয়া ২০২৬ সালে কীভাবে সম্পন্ন হলো—তা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছেন।


অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম, চেক জালিয়াতি এবং অর্থের বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগও তদন্তের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, নিয়োগটি বন্ধ রয়েছে। আশপাশের মানুষ অযথা এসব কথা বলছে।


এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তারিকুল আলম বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


জানা গেছে, অভিযোগপত্রের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী অঞ্চলের উপ-পরিচালক, বগুড়ার জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।


অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ড হয়েছে কি না, তা এখন তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মোকামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মচারী নিয়োগে ব্যাকডেটের অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x