ঢাকা    শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জুলাই বিপ্লব

মেট্রো স্টেশন পরিদর্শন ও সহিংসতার প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় ২৫ জুলাই

মেট্রো স্টেশন পরিদর্শন ও সহিংসতার প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় ২৫ জুলাই
মেট্রো স্টেশন পরিদর্শন ও সহিংসতার প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় ২৫ জুলাই

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ২৫ জুলাইকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের মূল্যায়ন ও আলোচনা রয়েছে। ওই সময় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ আহতদের ভিড় এবং মর্গে মরদেহ জমা হওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয় তুলে ধরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেট্রো স্টেশন পরিদর্শনও আলোচনার জন্ম দেয়। সে সময় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ‘নাটক কম কর পিও’ স্লোগানটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিশু, কিশোর, তরুণ ও পথচারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। ১৮ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তরার সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ৮৬৭ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নেন এবং ২৯টি মরদেহ আনা হয়।

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সৈয়দ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত ও নিহতদের চাপ ছিল বেশি। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ২৬৫ জন আহত এবং আটটি মরদেহ আনা হয়। উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬৩ জন আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসা নেন এবং সেখানে ১১টি মরদেহ আনা হয়। পরিস্থিতির কারণে চিকিৎসকদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের হয়রানি ও গণগ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেক গুরুতর আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। হাসপাতালের বাইরে পুলিশের প্রিজন ভ্যান অবস্থান করছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজধানীর মর্গগুলোর পরিস্থিতিও ছিল আলোচনায়। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ২১টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করা হয়, যার অধিকাংশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের ডোম রামু চন্দ্র দাসের বর্ণনা অনুযায়ী, দাফনের জন্য পাঠানো মরদেহগুলোর শরীরে গুলির চিহ্ন এবং মারধরের গুরুতর আঘাত ছিল।

মেট্রো স্টেশন পরিদর্শন নিয়ে প্রতিক্রিয়া

২৫ জুলাই সকালে শেখ হাসিনা মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশন পরিদর্শন করেন, যেখানে আগুনে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভিডিও ফুটেজে শিক্ষার্থীদের নয়, বরং সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তিকে ওই নাশকতার সঙ্গে যুক্ত দেখা যায় এবং আন্দোলনকারীদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিদর্শনের সময় শেখ হাসিনা ভাঙচুরের ঘটনায় দেশবাসীর কাছে বিচার চান এবং বলেন, দেশের জনগণকে এ ঘটনার বিচার করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দেওয়ার মতো ভাষা নেই বলেও মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনে নিহতদের বিষয়ে তার নীরবতা নিয়ে সমালোচনা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার কান্নাকে ব্যঙ্গ করে ‘নাটক কম কর পিও’ স্লোগান ব্যবহার করেন, যা দেয়াললিখন ও গ্রাফিতিতেও স্থান পায়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন শেখ হাসিনার ওই শোক প্রকাশকে ‘মাফিয়া মায়ের মেট্রোশোক’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, বক্তব্যে মানুষের জীবনের তুলনায় অবকাঠামোর বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

গ্রেপ্তার ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়। একই রাতে বর্তমান পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে তাদের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন সারা দেশে প্রায় ৭০০ আন্দোলনকারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিনের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, সরকার প্রতিবাদ দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং ইন্টারনেট বন্ধ রেখে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে গণহত্যা চালানোর অভিযোগও তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা

২৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতিরোধ করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী সংগঠন ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে জুলাই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: আমার দেশ
ছবি: সংগৃহীত

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


মেট্রো স্টেশন পরিদর্শন ও সহিংসতার প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় ২৫ জুলাই

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের ২৫ জুলাইকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের মূল্যায়ন ও আলোচনা রয়েছে। ওই সময় রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে গুলিবিদ্ধ আহতদের ভিড় এবং মর্গে মরদেহ জমা হওয়ার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয় তুলে ধরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেট্রো স্টেশন পরিদর্শনও আলোচনার জন্ম দেয়। সে সময় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ‘নাটক কম কর পিও’ স্লোগানটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিশু, কিশোর, তরুণ ও পথচারীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরার পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। ১৮ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তরার সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে অন্তত ৮৬৭ জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নেন এবং ২৯টি মরদেহ আনা হয়।

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সৈয়দ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত ও নিহতদের চাপ ছিল বেশি। কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ২৬৫ জন আহত এবং আটটি মরদেহ আনা হয়। উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৬৩ জন আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসা নেন এবং সেখানে ১১টি মরদেহ আনা হয়। পরিস্থিতির কারণে চিকিৎসকদের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশের হয়রানি ও গণগ্রেপ্তারের আশঙ্কায় অনেক গুরুতর আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসা শেষ না করেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন। হাসপাতালের বাইরে পুলিশের প্রিজন ভ্যান অবস্থান করছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজধানীর মর্গগুলোর পরিস্থিতিও ছিল আলোচনায়। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় ২১টি বেওয়ারিশ মরদেহ দাফন করা হয়, যার অধিকাংশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের ডোম রামু চন্দ্র দাসের বর্ণনা অনুযায়ী, দাফনের জন্য পাঠানো মরদেহগুলোর শরীরে গুলির চিহ্ন এবং মারধরের গুরুতর আঘাত ছিল।

মেট্রো স্টেশন পরিদর্শন নিয়ে প্রতিক্রিয়া

২৫ জুলাই সকালে শেখ হাসিনা মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রো স্টেশন পরিদর্শন করেন, যেখানে আগুনে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভিডিও ফুটেজে শিক্ষার্থীদের নয়, বরং সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তিকে ওই নাশকতার সঙ্গে যুক্ত দেখা যায় এবং আন্দোলনকারীদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিদর্শনের সময় শেখ হাসিনা ভাঙচুরের ঘটনায় দেশবাসীর কাছে বিচার চান এবং বলেন, দেশের জনগণকে এ ঘটনার বিচার করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দেওয়ার মতো ভাষা নেই বলেও মন্তব্য করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আন্দোলনে নিহতদের বিষয়ে তার নীরবতা নিয়ে সমালোচনা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার কান্নাকে ব্যঙ্গ করে ‘নাটক কম কর পিও’ স্লোগান ব্যবহার করেন, যা দেয়াললিখন ও গ্রাফিতিতেও স্থান পায়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন শেখ হাসিনার ওই শোক প্রকাশকে ‘মাফিয়া মায়ের মেট্রোশোক’ বলে অভিহিত করেন। তার মতে, বক্তব্যে মানুষের জীবনের তুলনায় অবকাঠামোর বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

গ্রেপ্তার ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হয়। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকে আসামি করা হয়। একই রাতে বর্তমান পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে তাদের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিন সারা দেশে প্রায় ৭০০ আন্দোলনকারী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিনের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, সরকার প্রতিবাদ দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং ইন্টারনেট বন্ধ রেখে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে গণহত্যা চালানোর অভিযোগও তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা

২৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতিরোধ করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী সংগঠন ছাড়ার ঘোষণা দেন এবং ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে জুলাই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: আমার দেশ
ছবি: সংগৃহীত


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মেট্রো স্টেশন পরিদর্শন ও সহিংসতার প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় ২৫ জুলাই
0:00 0:00
1.0x