বোর্দোর মেয়র থমাস কাজেনাভ বলেন, নতুন করে শুরু হওয়া তাপপ্রবাহ আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বর্তমানে দাবানল শহরটির মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। তবে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার জনসংখ্যার বোর্দো শহর খালি করার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই বলেও জানান তিনি।
গত এক সপ্তাহ ধরে বিশেষ করে ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই দেশ মিলিয়ে ইতোমধ্যে ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার (২৫ জুলাই) দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ফ্রান্স নতুন করে সবকিছু পুনর্গঠন করবে এবং প্রয়োজন থাকা পর্যন্ত সরকার জনগণের পাশে থাকবে।
বোর্দোর আশপাশের এলাকা থেকে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল এবং আগুন অনিয়মিতভাবে শহরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফায়ারফাইটার্স ফেডারেশন (এফএনএসপিএফ) জানিয়েছে, জিরোন্ডে অঞ্চলের প্রধান দাবানল এতটাই ভয়াবহ যে তা নজিরবিহীন ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ বা বিশাল ‘ফায়ার থান্ডারস্টর্ম’ সৃষ্টি করেছে। নিজস্ব বাতাস ও বজ্রপাতের কারণে আগুন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র এরিক ব্রোকার্ডি বলেন, আগুন কোন দিকে ছড়াবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, কারণ এর গতিপথ বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। সরাসরি এই আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতিকে তিনি ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াই’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
তিনি আরও বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত তিন দিন টানা মুষলধারে বৃষ্টি প্রয়োজন। অন্যথায় কৌশলগতভাবে আগুনকে এমন জায়গার দিকে নিতে হবে, যেখানে গিয়ে তা স্বাভাবিকভাবেই নিভে যেতে পারে।
দাবানলে ফ্রান্সের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেই প্রায় ৪২ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় বন ধ্বংসের ঘটনা। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পুরো দেশে প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকেই ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) স্পেনের পূর্ব উপকূলীয় শহর ভ্যালেন্সিয়ার কাছে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। সেখানে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ভ্যালেন্সিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি পিলার বার্নাবে বলেন, আগুনের তীব্রতা অত্যন্ত বেশি এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের কথা রয়েছে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্র্যান্ডে-মারলাস্কার। তিনি জানান, আগুন ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।
মাদ্রিদের পশ্চিমে অ্যাভিলা প্রদেশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সতর্ক করে বলেন, সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে একটি বড় সরকারি চুক্তির আহ্বান জানান।
রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণ-পশ্চিমে ভিলামান্তা এলাকার একটি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ বলেন, এই দাবানল দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে।
স্পেনের পরিবেশ পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী সারা আগেসেন জানান, দাবানলে দেশটিতে প্রায় ৭৭ হাজার হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, অ্যাভিলা অঞ্চলের দাবানল সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানলগুলোর একটি।
বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে রয়েছেন ৫০ বছর বয়সী ওলগা কঙ্গাচা। মাদ্রিদের পশ্চিমে রোবলেডো দে চাভেলা গ্রাম থেকে তাকে দ্রুত সরে যেতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। পরে ওষুধ আনতে অল্প সময়ের জন্য বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন, পুরো এলাকা জনশূন্য এবং তার বাড়ি ছাইয়ে ঢেকে গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবল বাতাস মাদ্রিদের আশপাশের দাবানলগুলোকে দক্ষিণ দিকে ঠেলে দিচ্ছে, ফলে সেগুলো রাজধানী থেকে কিছুটা দূরে সরে যাচ্ছে। তবে আগুনের ঝুঁকিতে থাকা আরও কয়েকটি গ্রাম খালি করা হচ্ছে। বর্তমানে মাদ্রিদ ও অ্যাভিলা অঞ্চলের আশপাশ থেকে ৯ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
বোর্দোর মেয়র থমাস কাজেনাভ বলেন, নতুন করে শুরু হওয়া তাপপ্রবাহ আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজকে আরও কঠিন করে তুলেছে। বর্তমানে দাবানল শহরটির মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। তবে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার জনসংখ্যার বোর্দো শহর খালি করার কোনো পরিকল্পনা আপাতত নেই বলেও জানান তিনি।
গত এক সপ্তাহ ধরে বিশেষ করে ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দুই দেশ মিলিয়ে ইতোমধ্যে ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গত শনিবার (২৫ জুলাই) দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ফ্রান্স নতুন করে সবকিছু পুনর্গঠন করবে এবং প্রয়োজন থাকা পর্যন্ত সরকার জনগণের পাশে থাকবে।
বোর্দোর আশপাশের এলাকা থেকে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত প্রতিকূল এবং আগুন অনিয়মিতভাবে শহরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফায়ারফাইটার্স ফেডারেশন (এফএনএসপিএফ) জানিয়েছে, জিরোন্ডে অঞ্চলের প্রধান দাবানল এতটাই ভয়াবহ যে তা নজিরবিহীন ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ বা বিশাল ‘ফায়ার থান্ডারস্টর্ম’ সৃষ্টি করেছে। নিজস্ব বাতাস ও বজ্রপাতের কারণে আগুন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
সংস্থাটির মুখপাত্র এরিক ব্রোকার্ডি বলেন, আগুন কোন দিকে ছড়াবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না, কারণ এর গতিপথ বারবার পরিবর্তিত হচ্ছে। সরাসরি এই আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। পরিস্থিতিকে তিনি ‘ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াই’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
তিনি আরও বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত তিন দিন টানা মুষলধারে বৃষ্টি প্রয়োজন। অন্যথায় কৌশলগতভাবে আগুনকে এমন জায়গার দিকে নিতে হবে, যেখানে গিয়ে তা স্বাভাবিকভাবেই নিভে যেতে পারে।
দাবানলে ফ্রান্সের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেই প্রায় ৪২ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় বন ধ্বংসের ঘটনা। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পুরো দেশে প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর বনভূমি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকেই ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) স্পেনের পূর্ব উপকূলীয় শহর ভ্যালেন্সিয়ার কাছে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। সেখানে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ভ্যালেন্সিয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি পিলার বার্নাবে বলেন, আগুনের তীব্রতা অত্যন্ত বেশি এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। সোমবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের কথা রয়েছে স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্র্যান্ডে-মারলাস্কার। তিনি জানান, আগুন ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।
মাদ্রিদের পশ্চিমে অ্যাভিলা প্রদেশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সতর্ক করে বলেন, সামনে অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। তিনি জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে একটি বড় সরকারি চুক্তির আহ্বান জানান।
রাজধানী মাদ্রিদের দক্ষিণ-পশ্চিমে ভিলামান্তা এলাকার একটি জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ বলেন, এই দাবানল দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে।
স্পেনের পরিবেশ পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী সারা আগেসেন জানান, দাবানলে দেশটিতে প্রায় ৭৭ হাজার হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, অ্যাভিলা অঞ্চলের দাবানল সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দাবানলগুলোর একটি।
বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে রয়েছেন ৫০ বছর বয়সী ওলগা কঙ্গাচা। মাদ্রিদের পশ্চিমে রোবলেডো দে চাভেলা গ্রাম থেকে তাকে দ্রুত সরে যেতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। পরে ওষুধ আনতে অল্প সময়ের জন্য বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন, পুরো এলাকা জনশূন্য এবং তার বাড়ি ছাইয়ে ঢেকে গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবল বাতাস মাদ্রিদের আশপাশের দাবানলগুলোকে দক্ষিণ দিকে ঠেলে দিচ্ছে, ফলে সেগুলো রাজধানী থেকে কিছুটা দূরে সরে যাচ্ছে। তবে আগুনের ঝুঁকিতে থাকা আরও কয়েকটি গ্রাম খালি করা হচ্ছে। বর্তমানে মাদ্রিদ ও অ্যাভিলা অঞ্চলের আশপাশ থেকে ৯ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।

আপনার মতামত লিখুন