মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।
তিনি বলেন, অবিচার ও মানুষের দুর্ভোগের বিষয়ে যুক্তরাজ্য শুধু মৌখিক প্রতিবাদ জানিয়ে আর বসে থাকবে না। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে এখন সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ‘চুপচাপ দাঁড়িয়ে মানুষের আরও দুর্দশা এবং দ্বিরাষ্ট্র সমাধান ধ্বংস হতে দেখাটা আমরা আজ থেকে বাদ দিলাম।’ যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে থাকলেও ইসরায়েল এর বিরোধিতা করে আসছে।
এদিকে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরই মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ তেল আবিবে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি করেছেন। অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পূর্ব জেরুজালেমে থাকা ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কাজে এই কনস্যুলেটটি ব্যবহৃত হয়।
গত জুলাইয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া এড মিলিব্যান্ড আরও বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারত্ব সম্পূর্ণ অবৈধ। লন্ডনের বিশ্বাস, পশ্চিম তীরের কয়েকটি এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর জাতিগত নিধন চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য ইসরায়েলের নির্বাচনে ব্রিটেন হস্তক্ষেপ করছে।
তবে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে বছরে প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ডের বাণিজ্য থাকলেও নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব খুব বড় হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ পশ্চিম তীরের বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে উৎপাদিত পণ্যের পার্থক্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে এমন পণ্যের বড় অংশ কৃষিপণ্য ও ওয়াইন। ইসরায়েলের মোট বাণিজ্যের তুলনায় এসব পণ্যের পরিমাণ খুবই কম। নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে জেরুজালেমের কাছাকাছি পশ্চিম তীরে থাকা ‘ই–ওয়ান’ বসতি প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাবিত ভূমির ওপর প্রকল্পটি গড়ে উঠছে। এড মিলিব্যান্ডের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
তবে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ মঙ্গলবারই পশ্চিম তীরে আরও এক হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও জাতিসংঘ এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে মনে করে।
সূত্র: জেবি/এসডি

বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড।
তিনি বলেন, অবিচার ও মানুষের দুর্ভোগের বিষয়ে যুক্তরাজ্য শুধু মৌখিক প্রতিবাদ জানিয়ে আর বসে থাকবে না। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে এখন সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, ‘চুপচাপ দাঁড়িয়ে মানুষের আরও দুর্দশা এবং দ্বিরাষ্ট্র সমাধান ধ্বংস হতে দেখাটা আমরা আজ থেকে বাদ দিলাম।’ যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে থাকলেও ইসরায়েল এর বিরোধিতা করে আসছে।
এদিকে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরই মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মধ্যে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ তেল আবিবে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের দাবি করেছেন। অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পূর্ব জেরুজালেমে থাকা ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের কাজে এই কনস্যুলেটটি ব্যবহৃত হয়।
গত জুলাইয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া এড মিলিব্যান্ড আরও বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারত্ব সম্পূর্ণ অবৈধ। লন্ডনের বিশ্বাস, পশ্চিম তীরের কয়েকটি এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর জাতিগত নিধন চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেছেন, আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য ইসরায়েলের নির্বাচনে ব্রিটেন হস্তক্ষেপ করছে।
তবে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে বছরে প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ডের বাণিজ্য থাকলেও নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব খুব বড় হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ পশ্চিম তীরের বসতিতে উৎপাদিত পণ্য এবং ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে উৎপাদিত পণ্যের পার্থক্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে এমন পণ্যের বড় অংশ কৃষিপণ্য ও ওয়াইন। ইসরায়েলের মোট বাণিজ্যের তুলনায় এসব পণ্যের পরিমাণ খুবই কম। নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কিংবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে জেরুজালেমের কাছাকাছি পশ্চিম তীরে থাকা ‘ই–ওয়ান’ বসতি প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাবিত ভূমির ওপর প্রকল্পটি গড়ে উঠছে। এড মিলিব্যান্ডের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দ্বিরাষ্ট্র সমাধান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।
তবে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ মঙ্গলবারই পশ্চিম তীরে আরও এক হাজার নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও জাতিসংঘ এবং বিশ্বের অধিকাংশ দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে অবৈধ বলে মনে করে।
সূত্র: জেবি/এসডি

আপনার মতামত লিখুন