পরীক্ষা কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে আন্দোলনরত তরুণদের বিরুদ্ধে মামলা না করা এবং কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার আশ্বাস দিয়েছিল মোদি সরকার। তবে সেই প্রতিশ্রুতির পরও আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশি অভিযান ও দমন-পীড়ন চলমান রয়েছে।
সরকারের এ অবস্থানকে 'বিশ্বাসঘাতকতা' উল্লেখ করে আন্দোলনকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলের মধ্যে লিখিত গ্যারান্টি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সিজেপি দেশব্যাপী আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। কিন্তু আন্দোলন স্থগিত হওয়ার পর বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশি পদক্ষেপ শুরু হওয়ায় সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, "আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে। সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতেই আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা মানে দেশের লাখ লাখ তরুণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।"
বিহার: শনিবারের রাজ্যব্যাপী বনধকে ঘিরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভকারীদের ছবি ও পোস্টার টানিয়ে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। সিওয়ান জেলায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের সময় একপর্যায়ে একে-৪৭ দিয়ে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এতে একাধিক বিক্ষোভকারী আহত হন।
পশ্চিমবঙ্গ: কলকাতায় বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠার পর সুভেন্দু অধিকারী সরকার নতুন চালু হওয়া বিতর্কিত 'অ্যান্টি-গুন্ডা' আইন প্রয়োগ করে। এই আইনের আওতায় বিচার ছাড়াই সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনে (আগাম আটক) রাখা যায়। এছাড়া বহু মানুষকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
আসাম: শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিকল্পনায় একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার অভিযোগে লাখিমপুর জেলা থেকে তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে আসাম পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ভারতের অখণ্ডতা বিনষ্টের মতো গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে।
অন্যান্য রাজ্য: মধ্যপ্রদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লিতে আন্দোলনরত তরুণদের জন্য খাবার ও পানি সরবরাহকারী স্বেচ্ছাসেবকদের পরিবারের সদস্যদের উত্তরপ্রদেশ পুলিশ হয়রানি ও সাময়িকভাবে আটক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
লিখিত প্রতিশ্রুতির আলটিমেটাম
সিজেপি জানিয়েছে, সরকারের আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখেই তরুণ সমাজ আলোচনার পথ বেছে নিয়েছিল। মঙ্গলবারের মধ্যে লিখিত নিশ্চয়তা না পেলে দেশের বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ তরুণদের সঙ্গে নিয়ে আবারও কঠোর আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত দিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।
এখন সবার নজর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে—তারা আন্দোলনকারীদের লিখিত নিশ্চয়তা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে, নাকি তরুণদের ক্ষোভ আবারও রাজপথে নতুন আন্দোলনের জন্ম দেবে।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব
ছবি: দৈনিক ইনকিলাব

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
পরীক্ষা কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে আন্দোলনরত তরুণদের বিরুদ্ধে মামলা না করা এবং কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার আশ্বাস দিয়েছিল মোদি সরকার। তবে সেই প্রতিশ্রুতির পরও আসাম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশি অভিযান ও দমন-পীড়ন চলমান রয়েছে।
সরকারের এ অবস্থানকে 'বিশ্বাসঘাতকতা' উল্লেখ করে আন্দোলনকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলের মধ্যে লিখিত গ্যারান্টি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সিজেপি দেশব্যাপী আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয়। কিন্তু আন্দোলন স্থগিত হওয়ার পর বিভিন্ন রাজ্যে পুলিশি পদক্ষেপ শুরু হওয়ায় সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, "আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে এবং দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করতে হবে। সরকারের আশ্বাসের ভিত্তিতেই আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম। প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা মানে দেশের লাখ লাখ তরুণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।"
বিহার: শনিবারের রাজ্যব্যাপী বনধকে ঘিরে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভকারীদের ছবি ও পোস্টার টানিয়ে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। সিওয়ান জেলায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের সময় একপর্যায়ে একে-৪৭ দিয়ে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এতে একাধিক বিক্ষোভকারী আহত হন।
পশ্চিমবঙ্গ: কলকাতায় বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠার পর সুভেন্দু অধিকারী সরকার নতুন চালু হওয়া বিতর্কিত 'অ্যান্টি-গুন্ডা' আইন প্রয়োগ করে। এই আইনের আওতায় বিচার ছাড়াই সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনে (আগাম আটক) রাখা যায়। এছাড়া বহু মানুষকে শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
আসাম: শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিকল্পনায় একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার অভিযোগে লাখিমপুর জেলা থেকে তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে আসাম পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ এবং ভারতের অখণ্ডতা বিনষ্টের মতো গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে।
অন্যান্য রাজ্য: মধ্যপ্রদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লিতে আন্দোলনরত তরুণদের জন্য খাবার ও পানি সরবরাহকারী স্বেচ্ছাসেবকদের পরিবারের সদস্যদের উত্তরপ্রদেশ পুলিশ হয়রানি ও সাময়িকভাবে আটক করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
লিখিত প্রতিশ্রুতির আলটিমেটাম
সিজেপি জানিয়েছে, সরকারের আশ্বাসের ওপর আস্থা রেখেই তরুণ সমাজ আলোচনার পথ বেছে নিয়েছিল। মঙ্গলবারের মধ্যে লিখিত নিশ্চয়তা না পেলে দেশের বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ তরুণদের সঙ্গে নিয়ে আবারও কঠোর আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত দিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।
এখন সবার নজর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে—তারা আন্দোলনকারীদের লিখিত নিশ্চয়তা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে, নাকি তরুণদের ক্ষোভ আবারও রাজপথে নতুন আন্দোলনের জন্ম দেবে।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব
ছবি: দৈনিক ইনকিলাব

আপনার মতামত লিখুন