বৃহস্পতিবার মালিক সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার নীতিমালা চালু হয়। সে সময় বিভিন্ন রুটের পূর্ণ ভাড়ার বিপরীতে অর্ধেক ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি কলেজ পরিচয়পত্র বা ভর্তি-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রদর্শন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে হাফ ভাড়ার সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অনেক বাসের চালক ও সহকারীরা নির্ধারিত হাফ ভাড়া নিচ্ছেন না। বরং অর্ধেক ভাড়ার পরিবর্তে অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ধামরাই রুটে পূর্ণ ভাড়া ৭০ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ৩৫ টাকার বদলে ৫০ টাকার কমে টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। একই ধরনের অভিযোগ আরও কয়েকটি রুট থেকেও পাওয়া গেছে।
বৈঠকে আরও অভিযোগ করা হয়, হাফ ভাড়ার কথা বললেই অনেক বাসকর্মী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। কোথাও কোথাও বাসে তুলতে অস্বীকৃতি জানানো হয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে অপমানজনক ভাষায় কথা বলা হয়।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ছয়টি আসনের নীতিমালাও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠে। অনেক বাসে মাত্র এক বা দুটি আসন পূর্ণ হওয়ার পরই ছয়টি আসন পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়ে বাকি শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।
মাদারীপুর–পয়সারহাট রুটের কয়েকটি বাসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ইলুহার ও শিকারপুর এলাকার শিক্ষার্থীদের ওই বাসে উঠতে না দিয়ে অন্য বাসে যেতে বলা হচ্ছে, যা চরম বৈষম্যমূলক আচরণ।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে মালিক সমিতি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুই বছর আগে প্রকাশিত হাফ ভাড়ার নোটিশটি নতুন তারিখ দিয়ে পুনরায় জারি করা হবে। যেসব রুটে ভাড়া পরিবর্তন হয়েছে, সেসব রুটের হালনাগাদ ভাড়াও নতুন নোটিশে উল্লেখ থাকবে।
এছাড়া নতুন নোটিশ প্রতিটি বাস কাউন্টার ও বাসের ভেতরে দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা সহজেই নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দেখতে পারেন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা হয়রানির সুযোগ না থাকে।
বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বলেন, "আমরা চাই মালিক সমিতির এই সিদ্ধান্ত শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। শিক্ষার্থীরা যেন নির্ধারিত হাফ ভাড়া দিতে পারে এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়।"
অন্যদিকে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন নোটিশ দ্রুত প্রকাশ করে সব বাস কাউন্টার ও বাসে টানিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিবহনগুলোকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
বৃহস্পতিবার মালিক সমিতির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার নীতিমালা চালু হয়। সে সময় বিভিন্ন রুটের পূর্ণ ভাড়ার বিপরীতে অর্ধেক ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি কলেজ পরিচয়পত্র বা ভর্তি-সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রদর্শন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে হাফ ভাড়ার সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অনেক বাসের চালক ও সহকারীরা নির্ধারিত হাফ ভাড়া নিচ্ছেন না। বরং অর্ধেক ভাড়ার পরিবর্তে অতিরিক্ত ১০ থেকে ২০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ধামরাই রুটে পূর্ণ ভাড়া ৭০ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ৩৫ টাকার বদলে ৫০ টাকার কমে টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। একই ধরনের অভিযোগ আরও কয়েকটি রুট থেকেও পাওয়া গেছে।
বৈঠকে আরও অভিযোগ করা হয়, হাফ ভাড়ার কথা বললেই অনেক বাসকর্মী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। কোথাও কোথাও বাসে তুলতে অস্বীকৃতি জানানো হয়, আবার অনেক ক্ষেত্রে অপমানজনক ভাষায় কথা বলা হয়।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ছয়টি আসনের নীতিমালাও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ ওঠে। অনেক বাসে মাত্র এক বা দুটি আসন পূর্ণ হওয়ার পরই ছয়টি আসন পূর্ণ হয়েছে বলে জানিয়ে বাকি শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।
মাদারীপুর–পয়সারহাট রুটের কয়েকটি বাসের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ইলুহার ও শিকারপুর এলাকার শিক্ষার্থীদের ওই বাসে উঠতে না দিয়ে অন্য বাসে যেতে বলা হচ্ছে, যা চরম বৈষম্যমূলক আচরণ।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে মালিক সমিতি শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুই বছর আগে প্রকাশিত হাফ ভাড়ার নোটিশটি নতুন তারিখ দিয়ে পুনরায় জারি করা হবে। যেসব রুটে ভাড়া পরিবর্তন হয়েছে, সেসব রুটের হালনাগাদ ভাড়াও নতুন নোটিশে উল্লেখ থাকবে।
এছাড়া নতুন নোটিশ প্রতিটি বাস কাউন্টার ও বাসের ভেতরে দৃশ্যমান স্থানে টানিয়ে দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা সহজেই নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা দেখতে পারেন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা হয়রানির সুযোগ না থাকে।
বৈঠক শেষে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বলেন, "আমরা চাই মালিক সমিতির এই সিদ্ধান্ত শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। শিক্ষার্থীরা যেন নির্ধারিত হাফ ভাড়া দিতে পারে এবং কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়।"
অন্যদিকে মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন নোটিশ দ্রুত প্রকাশ করে সব বাস কাউন্টার ও বাসে টানিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিবহনগুলোকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন