ঢাকা    রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে না: নাহিদ ইসলাম

গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে না: নাহিদ ইসলাম
গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে না: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবার অধিকার নিশ্চিত করতেই তারা সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার ভাষায়, গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও সুসংহত হবে। একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হলে তার সুফল সব নাগরিকই ভোগ করবেন।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অবদান নিয়ে আয়োজিত ‘সম্প্রীতির জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের কথা বলা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য এখনো তারা ধারণ করছেন। তিনি বলেন, কীভাবে সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা যায়, তা নিয়েই এ আলোচনা সভার আয়োজন। তার মতে, গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং শুরু থেকেই আন্দোলনের চরিত্র ছিল অসাম্প্রদায়িক। তিনি আরও জানান, ওই গণঅভ্যুত্থানে অন্তত নয়জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি শহীদ হয়েছেন।

ফ্যাসিস্ট সরকার সবসময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আওয়ামী লীগ নিজেদের অসাম্প্রদায়িক এবং অন্যদের সাম্প্রদায়িক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করত। নির্বাচনের আগে তারা এ ধরনের প্রচারণাও চালাত। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনেও একই ধরনের একটি প্রবণতা দেখা গেছে। তার মতে, সংখ্যালঘুদের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা উচিত এবং কোনো একটি দলের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। কারণ, একটি দলের সঙ্গে এককভাবে সম্পৃক্ত হলে সেই দলের সব অপরাধ ও অপকর্মের দায়ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বর্তাতে পারে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করা, যাতে তারা নিজেদের অনিরাপদ মনে না করেন।

জুলাই-পরবর্তী সম্প্রীতির প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মন্দির পাহারা দিয়েছেন। তবে তিনি এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, তা চান না। তার ভাষায়, সংকটের সময় বিভাজনের ঊর্ধ্বে ওঠার সক্ষমতা জুলাইয়ে দেখা গেছে। এরপরও বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি শুধু গুম ও খুন নয়, অতীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলসহ সব ধরনের হামলার ঘটনারও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে পুরোনো ধাঁচের দমন-পীড়ন ফিরে আসছে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দেশে আবারও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন ছিল। তার মতে, জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি ছিল সংস্কার। যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচার প্রক্রিয়ায় অঙ্গীকার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিশ্চিত করা হতো, তাহলে সরকারকে সহযোগিতা করা সম্ভব ছিল। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সফল করা এবং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে এখনো সবার দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের, সেন্ট মেরি ক্যাথেড্রালের পরিচালক ফাদার এলবার্ট টমাস রোজারিও, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে না: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবার অধিকার নিশ্চিত করতেই তারা সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার ভাষায়, গণতন্ত্র শক্তিশালী হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও সুসংহত হবে। একই সঙ্গে বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হলে তার সুফল সব নাগরিকই ভোগ করবেন।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অবদান নিয়ে আয়োজিত ‘সম্প্রীতির জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যে বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের কথা বলা হয়েছিল, সেই লক্ষ্য এখনো তারা ধারণ করছেন। তিনি বলেন, কীভাবে সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা যায়, তা নিয়েই এ আলোচনা সভার আয়োজন। তার মতে, গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং শুরু থেকেই আন্দোলনের চরিত্র ছিল অসাম্প্রদায়িক। তিনি আরও জানান, ওই গণঅভ্যুত্থানে অন্তত নয়জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তি শহীদ হয়েছেন।

ফ্যাসিস্ট সরকার সবসময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে আওয়ামী লীগ নিজেদের অসাম্প্রদায়িক এবং অন্যদের সাম্প্রদায়িক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করত। নির্বাচনের আগে তারা এ ধরনের প্রচারণাও চালাত। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনেও একই ধরনের একটি প্রবণতা দেখা গেছে। তার মতে, সংখ্যালঘুদের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা উচিত এবং কোনো একটি দলের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। কারণ, একটি দলের সঙ্গে এককভাবে সম্পৃক্ত হলে সেই দলের সব অপরাধ ও অপকর্মের দায়ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বর্তাতে পারে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করা, যাতে তারা নিজেদের অনিরাপদ মনে না করেন।

জুলাই-পরবর্তী সম্প্রীতির প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মন্দির পাহারা দিয়েছেন। তবে তিনি এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, তা চান না। তার ভাষায়, সংকটের সময় বিভাজনের ঊর্ধ্বে ওঠার সক্ষমতা জুলাইয়ে দেখা গেছে। এরপরও বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। পাশাপাশি শুধু গুম ও খুন নয়, অতীতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি দখলসহ সব ধরনের হামলার ঘটনারও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে পুরোনো ধাঁচের দমন-পীড়ন ফিরে আসছে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দেশে আবারও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন ছিল। তার মতে, জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি ছিল সংস্কার। যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, বিচার প্রক্রিয়ায় অঙ্গীকার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিশ্চিত করা হতো, তাহলে সরকারকে সহযোগিতা করা সম্ভব ছিল। তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সফল করা এবং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে এখনো সবার দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব প্রীতম দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয় মহাথের, সেন্ট মেরি ক্যাথেড্রালের পরিচালক ফাদার এলবার্ট টমাস রোজারিও, এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত হবে না: নাহিদ ইসলাম
0:00 0:00
1.0x