ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

শিক্ষাঙ্গন

উপকূলীয় উপজেলা মনপুরায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট চরমে, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত।

উপকূলীয় উপজেলা মনপুরায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট চরমে, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত।
সংগ্রহীত

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা উপকূলে চরম শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের একাধিক পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও একজন শিক্ষক, আবার কোথাও দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠাদান। এতে শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এই উপকূলে ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৫ টিতে প্রধান শিক্ষক রযেছে। ১৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য আছে। অপরদিকে সহকারি শিক্ষককের ৩০ টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিনে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস হচ্ছে না। আবার কোথাও একজন শিক্ষক গণিত, ইংরেজী ও বিজ্ঞানের মত ক্লাস নিচ্ছেন। আবারও কোথাও একজন শিক্ষক একই সময়ে একাধিক ক্লাস নিতে দেখা যায়। অনেক সময় শিক্ষক সংকটের কারণে ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধূলা করতে দেখা যায়। কোথাও শিক্ষক সংকটে ক্লাস না হওয়ায় উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য।

বিভিন্ন স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস হয় না। যার ফলে অবিভাবকরা বাধ্য হয়ে কোচিং ও প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। আবার অনেকে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানো তাদের জন্য বাড়তি চাপ বলে অভিমত জানান।

এই ব্যাপারে মনপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ আজাদুর রহমান জানান, প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট রয়েছে। তারপরও সীমিত জনবল দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে নানা সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সরকার দ্রুত যেইসমস্ত পদে শিক্ষক পদায়ন করে সংকট দূর করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসরাফ জানান, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো বেশ কিছু শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আগামী অক্টোবরে নতুন নিয়োগকৃত শিক্ষক যোগদান করলে সংকট কিছুটা দূর হবে। তারপরও দ্রুত শিক্ষক পদায়ন ও যোগদানের বিষয়টি উধ্বর্তন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি ও হাজিরহাট মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, প্রাথমকি শিক্ষা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের মূল ভিত্তি। তাই দ্রুত শিক্ষক সংকট দূর করতে হবে। তা নাহলে শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে এর প্রভাব পড়বে।

অপরদিকে স্থানীয়বাসিন্দাদের দাবি, বিচ্ছিন্ন দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পদায়ন করে শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষারমান বজায় রাখার আহবান তাদের।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


উপকূলীয় উপজেলা মনপুরায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট চরমে, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত।

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা উপকূলে চরম শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের একাধিক পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। কোথাও একজন শিক্ষক, আবার কোথাও দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠাদান। এতে শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এই উপকূলে ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৫ টিতে প্রধান শিক্ষক রযেছে। ১৮ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য আছে। অপরদিকে সহকারি শিক্ষককের ৩০ টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য অবস্থায় রয়েছে।

সরেজমিনে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে রুটিন অনুযায়ী ক্লাস হচ্ছে না। আবার কোথাও একজন শিক্ষক গণিত, ইংরেজী ও বিজ্ঞানের মত ক্লাস নিচ্ছেন। আবারও কোথাও একজন শিক্ষক একই সময়ে একাধিক ক্লাস নিতে দেখা যায়। অনেক সময় শিক্ষক সংকটের কারণে ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধূলা করতে দেখা যায়। কোথাও শিক্ষক সংকটে ক্লাস না হওয়ায় উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য।

বিভিন্ন স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থীদের অভিভাবক জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস হয় না। যার ফলে অবিভাবকরা বাধ্য হয়ে কোচিং ও প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। আবার অনেকে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানো তাদের জন্য বাড়তি চাপ বলে অভিমত জানান।

এই ব্যাপারে মনপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সাধারন সম্পাদক মোঃ আজাদুর রহমান জানান, প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট রয়েছে। তারপরও সীমিত জনবল দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে নানা সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সরকার দ্রুত যেইসমস্ত পদে শিক্ষক পদায়ন করে সংকট দূর করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আসরাফ জানান, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো বেশ কিছু শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আগামী অক্টোবরে নতুন নিয়োগকৃত শিক্ষক যোগদান করলে সংকট কিছুটা দূর হবে। তারপরও দ্রুত শিক্ষক পদায়ন ও যোগদানের বিষয়টি উধ্বর্তন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

এদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি ও হাজিরহাট মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন জানান, প্রাথমকি শিক্ষা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের মূল ভিত্তি। তাই দ্রুত শিক্ষক সংকট দূর করতে হবে। তা নাহলে শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে এর প্রভাব পড়বে।

অপরদিকে স্থানীয়বাসিন্দাদের দাবি, বিচ্ছিন্ন দুর্গম দ্বীপাঞ্চলের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি পদায়ন করে শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষারমান বজায় রাখার আহবান তাদের।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
উপকূলীয় উপজেলা মনপুরায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট চরমে, শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত।
0:00 0:00
1.0x