দোয়া মুমিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বিপদ-আপদ, প্রয়োজন কিংবা জীবনের নানা সমস্যায় মানুষ আল্লাহর কাছে দোয়া করে। তবে অনেক সময় দোয়া করার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে অনেকে মনে করেন, ‘আমার দোয়া কি কবুল হচ্ছে না?’ ইসলামের দৃষ্টিতে দোয়া কবুল হওয়া মানেই সবসময় চাওয়া বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া নয়।
দোয়া কবুলের বিষয়ে কোরআনের নির্দেশনা:-
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।”
—সূরা গাফির, আয়াত ৬০
অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আমি তো নিকটেই আছি। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।”
—সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৬
দোয়া কবুলের জন্য যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণঃ-
১. একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করা দোয়ার সময় অন্তর থেকে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া উচিত।
২. হালাল উপার্জন ও হালাল খাবার সহিহ হাদিসে হারাম উপার্জন ও হারাম খাবারের কারণে দোয়া কবুলে বাধা সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
—সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০১৫
৩. দোয়া করে অধৈর্য না হওয়া। রাসুল (সঃ) ﷺ বলেছেন, বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে যতক্ষণ সে তাড়াহুড়া করে এ কথা না বলে যে, ‘আমি দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হয়নি।’
—সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩৪০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭৩৫
৪. গুনাহের জন্য দোয়া না করা।দোয়া এমন কোনো বিষয়ের জন্য হওয়া উচিত নয় যা ইসলামে নিষিদ্ধ বা অন্যের ওপর জুলুমের কারণ হয়।
৫. আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা।দোয়ার সময় আল্লাহ অবশ্যই শুনছেন—এ বিশ্বাস রাখা জরুরি। কখন, কীভাবে এবং কোন উপায়ে দোয়ার জবাব দেওয়া হবে, তা আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
শেষ কথাঃ-
দোয়া করে সঙ্গে সঙ্গে নিজের চাওয়া পূরণ না হলে হতাশ হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ বান্দার দোয়া শোনেন এবং তাঁর হিকমত অনুযায়ী জবাব দেন। তাই দোয়ার পাশাপাশি নামাজ, তওবা, হালাল উপার্জন ও সৎকর্মের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত।

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬
দোয়া মুমিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বিপদ-আপদ, প্রয়োজন কিংবা জীবনের নানা সমস্যায় মানুষ আল্লাহর কাছে দোয়া করে। তবে অনেক সময় দোয়া করার পরও কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে অনেকে মনে করেন, ‘আমার দোয়া কি কবুল হচ্ছে না?’ ইসলামের দৃষ্টিতে দোয়া কবুল হওয়া মানেই সবসময় চাওয়া বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া নয়।
দোয়া কবুলের বিষয়ে কোরআনের নির্দেশনা:-
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমরা আমার কাছে দোয়া করো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।”
—সূরা গাফির, আয়াত ৬০
অন্য একটি আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আমি তো নিকটেই আছি। আহ্বানকারী যখন আমাকে আহ্বান করে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।”
—সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৮৬
দোয়া কবুলের জন্য যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণঃ-
১. একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করা দোয়ার সময় অন্তর থেকে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়া উচিত।
২. হালাল উপার্জন ও হালাল খাবার সহিহ হাদিসে হারাম উপার্জন ও হারাম খাবারের কারণে দোয়া কবুলে বাধা সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
—সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০১৫
৩. দোয়া করে অধৈর্য না হওয়া। রাসুল (সঃ) ﷺ বলেছেন, বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে যতক্ষণ সে তাড়াহুড়া করে এ কথা না বলে যে, ‘আমি দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হয়নি।’
—সহিহ বুখারি, হাদিস ৬৩৪০; সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৭৩৫
৪. গুনাহের জন্য দোয়া না করা।দোয়া এমন কোনো বিষয়ের জন্য হওয়া উচিত নয় যা ইসলামে নিষিদ্ধ বা অন্যের ওপর জুলুমের কারণ হয়।
৫. আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রাখা।দোয়ার সময় আল্লাহ অবশ্যই শুনছেন—এ বিশ্বাস রাখা জরুরি। কখন, কীভাবে এবং কোন উপায়ে দোয়ার জবাব দেওয়া হবে, তা আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
শেষ কথাঃ-
দোয়া করে সঙ্গে সঙ্গে নিজের চাওয়া পূরণ না হলে হতাশ হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ বান্দার দোয়া শোনেন এবং তাঁর হিকমত অনুযায়ী জবাব দেন। তাই দোয়ার পাশাপাশি নামাজ, তওবা, হালাল উপার্জন ও সৎকর্মের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত।

আপনার মতামত লিখুন