ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

বিশেষ সংবাদ

দক্ষিণ শাহবাজপুর থেকে ভোলা ইতিহাস সংগ্রাম ও সম্ভাবনার দ্বীপ জেলা

দক্ষিণ শাহবাজপুর থেকে ভোলা ইতিহাস সংগ্রাম ও সম্ভাবনার দ্বীপ জেলা
সংগৃহীত

বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ দ্বীপ জেলা ভোলা। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীবেষ্টিত এ জেলার ইতিহাস শুধু একটি ভূখণ্ডের নয়; এটি নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মানুষের সংগ্রাম ও অগাধ সম্ভাবনারও ইতিহাস। দক্ষিণ শাহবাজপুর নামে পরিচিত এই জনপদ সময়ের পরিক্রমায় আজ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় জেলায় পরিণত হয়েছে।

ইতিহাসবিদ ও সরকারি তথ্যসূত্রে জানা যায়, একসময় ভোলা দক্ষিণ শাহবাজপুর নামে পরিচিত ছিল। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর বয়ে আনা পলিমাটি জমে ধীরে ধীরে এ দ্বীপাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোথাও নতুন চর জেগেছে, আবার কোথাও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ব্রিটিশ আমলে ১৮৪৫ সালে দক্ষিণ শাহবাজপুর নোয়াখালী জেলার অধীনে একটি সাব-ডিভিশন হিসেবে প্রশাসনিক স্বীকৃতি পায়। পরে ১৮৬৯ সালে এটি বরিশাল জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮৭৬ সালে প্রশাসনিক সদর দপ্তর দৌলতখান থেকে বর্তমান ভোলা শহরে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ প্রশাসনিক বিবর্তনের পর ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ভোলা পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

ভোলা নামকরণ নিয়েও রয়েছে নানা জনশ্রুতি। সবচেয়ে প্রচলিত মত অনুযায়ী, ভোলা গাজী নামে এক ব্যক্তির নাম থেকেই জেলার নামকরণ হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক দলিল সীমিত হওয়ায় বিষয়টি এখনো লোককথা হিসেবেই বিবেচিত।

ভোলার ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ১৯৭০ সালের ১১ নভেম্বরের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়। ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং উপকূলীয় জনপদ ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্যোগ শুধু ভোলার নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসেরও অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে স্বীকৃত।

বর্তমানে ভোলা সাতটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। জেলার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি, মৎস্য ও প্রাকৃতিক গ্যাস। শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ ও ইলিশা—এই তিনটি গ্যাসক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাসের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি মনপুরা, চর কুকরি-মুকরি, তারুয়া সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও পর্যটন এলাকা ভোলাকে পর্যটনের সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক গ্যাস, নদীপথ, কৃষি, মৎস্য এবং পর্যটনের সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে ভোলা ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন শিল্পায়ন, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, টেকসই নদীশাসন এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন।

শত বছরের নানা প্রতিকূলতা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও ভোলা আজও তার স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। নদীর বুকে জেগে ওঠা এই দ্বীপ জেলা এখন উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও টেকসই সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায়।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


দক্ষিণ শাহবাজপুর থেকে ভোলা ইতিহাস সংগ্রাম ও সম্ভাবনার দ্বীপ জেলা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ দ্বীপ জেলা ভোলা। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীবেষ্টিত এ জেলার ইতিহাস শুধু একটি ভূখণ্ডের নয়; এটি নদীভাঙন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মানুষের সংগ্রাম ও অগাধ সম্ভাবনারও ইতিহাস। দক্ষিণ শাহবাজপুর নামে পরিচিত এই জনপদ সময়ের পরিক্রমায় আজ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় জেলায় পরিণত হয়েছে।

ইতিহাসবিদ ও সরকারি তথ্যসূত্রে জানা যায়, একসময় ভোলা দক্ষিণ শাহবাজপুর নামে পরিচিত ছিল। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর বয়ে আনা পলিমাটি জমে ধীরে ধীরে এ দ্বীপাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কোথাও নতুন চর জেগেছে, আবার কোথাও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

ব্রিটিশ আমলে ১৮৪৫ সালে দক্ষিণ শাহবাজপুর নোয়াখালী জেলার অধীনে একটি সাব-ডিভিশন হিসেবে প্রশাসনিক স্বীকৃতি পায়। পরে ১৮৬৯ সালে এটি বরিশাল জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮৭৬ সালে প্রশাসনিক সদর দপ্তর দৌলতখান থেকে বর্তমান ভোলা শহরে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ প্রশাসনিক বিবর্তনের পর ১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ভোলা পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

ভোলা নামকরণ নিয়েও রয়েছে নানা জনশ্রুতি। সবচেয়ে প্রচলিত মত অনুযায়ী, ভোলা গাজী নামে এক ব্যক্তির নাম থেকেই জেলার নামকরণ হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক দলিল সীমিত হওয়ায় বিষয়টি এখনো লোককথা হিসেবেই বিবেচিত।

ভোলার ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা ১৯৭০ সালের ১১ নভেম্বরের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়। ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং উপকূলীয় জনপদ ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত হয়। এই দুর্যোগ শুধু ভোলার নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসেরও অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে স্বীকৃত।

বর্তমানে ভোলা সাতটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। জেলার অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি কৃষি, মৎস্য ও প্রাকৃতিক গ্যাস। শাহবাজপুর, ভোলা নর্থ ও ইলিশা—এই তিনটি গ্যাসক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাসের মজুত রয়েছে। পাশাপাশি মনপুরা, চর কুকরি-মুকরি, তারুয়া সমুদ্রসৈকতসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও পর্যটন এলাকা ভোলাকে পর্যটনের সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক গ্যাস, নদীপথ, কৃষি, মৎস্য এবং পর্যটনের সম্ভাবনাকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে ভোলা ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন শিল্পায়ন, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, টেকসই নদীশাসন এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন।

শত বছরের নানা প্রতিকূলতা, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেও ভোলা আজও তার স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। নদীর বুকে জেগে ওঠা এই দ্বীপ জেলা এখন উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও টেকসই সম্ভাবনার নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায়।



ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
দক্ষিণ শাহবাজপুর থেকে ভোলা ইতিহাস সংগ্রাম ও সম্ভাবনার দ্বীপ জেলা
0:00 0:00
1.0x