গতকাল বিকেলে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের নতুন জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ’ বিষয়ে দলের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জ্বালানি খাত সংস্কারের পরিবর্তে এর নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে।
গোলাম পরওয়ার জানান, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়ার জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ খসড়া নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন বিপিসি চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার চার দিনের মধ্যেই খসড়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পরওয়ার বলেন, এটি সংস্কার নয়, বরং দায়িত্ব হস্তান্তর। তার ভাষায়, এটি প্রতিযোগিতা নয়, দুর্নীতি ও লুটপাটের লাইসেন্স।
বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দিলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দাম কমবে—সরকারের এমন যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন পরওয়ার। তিনি বলেন, এ ব্যবসার জন্য গভীর সমুদ্রবন্দর, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং, বড় ট্যাংক টার্মিনাল, পাইপলাইন ও বিপুল ব্যাংকিং সক্ষমতা দরকার। ফলে বাস্তবে সীমিতসংখ্যক বড় শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষেই এ বাজারে প্রবেশ করা সম্ভব।
এ কারণে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভেঙে বেসরকারি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিপিসিকে অদক্ষ ও লোকসানি দেখিয়ে বেসরকারিকরণের যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেটিও প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত। দলের সেক্রেটারি জেনারেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর আগে ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি যথাক্রমে ১ হাজার ৯৮৩ কোটি এবং ৭ হাজার ৮৭ কোটি টাকা লোকসান করেছিল।
জামায়াতের দাবি, বর্তমান জ্বালানি সংকট বিপিসির ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার কারণে হয়নি; এর মূল কারণ বিশ্ববাজার ও ভূরাজনৈতিক সংকট।
জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশে ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে দাম না বাড়ানোর কারণে বিপিসি প্রতিদিন প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটকে কেন্দ্র করে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তার মতে, এতে বড় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ কমতে পারে। ফলে দরদাতা সংকট, বেশি দামে পণ্য কেনা এবং সিন্ডিকেটের সুযোগ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
পরওয়ার বলেন, দ্রুততা ও স্বচ্ছতা একে অপরের বিরোধী নয়। কিন্তু এখানে দ্রুততার অজুহাতে স্বচ্ছতাকে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি বাজার কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে গেলে প্রতি লিটারে সামান্য অতিরিক্ত মুনাফাও বছরে হাজার কোটি টাকার বাড়তি আয়ে পরিণত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জ্বালানি তেলকে সাধারণ পণ্য নয়, বরং কৃষি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, বিমান চলাচল ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
বাংলাদেশে একটি মাত্র শোধনাগার—ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং সীমিত মজুত সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুদ্ধ বা দুর্যোগের সময় বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্র কীভাবে নির্দেশ দেবে। দুর্গম ও অলাভজনক এলাকায় জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্বও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নেবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনের আইনি সুরক্ষা কমানোর উদ্যোগ নিয়েও অভিযোগ করেন পরওয়ার। তার দাবি, শ্রম আইনের ১৮৭ ধারা জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ক্ষেত্রে রহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এটি শুধু বিরোধী দলের রাজনৈতিক বক্তব্য নয় দাবি করে পরওয়ার সিপিডি, ক্যাব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতামত তুলে ধরেন।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, জ্বালানি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হওয়ায় এটিকে মুনাফার খাত না বানিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণে সীমিত মুনাফায় পরিচালনা করাই জনস্বার্থসম্মত।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানিকে মুনাফার পরিবর্তে সেবা খাত হিসেবে বিবেচনার পক্ষে অবস্থান করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানার আশঙ্কা তুলে ধরে পরওয়ার বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থায় গেলে এলপিজি খাতের মতো সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে পারে।
জামায়াতের দাবি, গত ২ আগস্ট বাঙ্কারিং নীতিমালায় পরিবর্তন এনে মেরিন ফুয়েল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে জামায়াত।
একই সঙ্গে খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করে অন্তত ৬০ দিন জনমত নেওয়া, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানি এবং বেসরকারিকরণের পরিবর্তে বিপিসির সংস্কারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
এ ছাড়া স্বাধীন নিরীক্ষা, বোর্ডে পেশাদারদের নিয়োগ, ক্রয়ে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতি ত্রৈমাসিকে আমদানি মূল্য ও পরিমাণ প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট ও কৌশলগত মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা কমানোর সব সুপারিশ প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে জামায়াত।
পরওয়ার বলেন, জামায়াত বাজার অর্থনীতি বা বেসরকারি বিনিয়োগের বিরোধিতা করে না; তাদের আপত্তি জবাবদিহিহীন হস্তান্তরের বিরুদ্ধে। তার বক্তব্য, প্রতিযোগিতা মানে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের হাতবদল নয়। সংস্কারের অর্থ প্রতিষ্ঠান বিক্রি করা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করা। জ্বালানি নিরাপত্তার অর্থ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ, কোনো গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পাবনা-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
সূত্র: মানবজমিন

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
গতকাল বিকেলে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সরকারের নতুন জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়নের পদক্ষেপ’ বিষয়ে দলের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জ্বালানি খাত সংস্কারের পরিবর্তে এর নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর আর্থিক চাপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে।
গোলাম পরওয়ার জানান, পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণনের দায়িত্ব বেসরকারি খাতে দেওয়ার জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ খসড়া নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন বিপিসি চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার চার দিনের মধ্যেই খসড়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পরওয়ার বলেন, এটি সংস্কার নয়, বরং দায়িত্ব হস্তান্তর। তার ভাষায়, এটি প্রতিযোগিতা নয়, দুর্নীতি ও লুটপাটের লাইসেন্স।
বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দিলে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং দাম কমবে—সরকারের এমন যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন পরওয়ার। তিনি বলেন, এ ব্যবসার জন্য গভীর সমুদ্রবন্দর, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং, বড় ট্যাংক টার্মিনাল, পাইপলাইন ও বিপুল ব্যাংকিং সক্ষমতা দরকার। ফলে বাস্তবে সীমিতসংখ্যক বড় শিল্পগোষ্ঠীর পক্ষেই এ বাজারে প্রবেশ করা সম্ভব।
এ কারণে রাষ্ট্রীয় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভেঙে বেসরকারি একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিপিসিকে অদক্ষ ও লোকসানি দেখিয়ে বেসরকারিকরণের যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেটিও প্রত্যাখ্যান করেছে জামায়াত। দলের সেক্রেটারি জেনারেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি ৩ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এর আগে ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি যথাক্রমে ১ হাজার ৯৮৩ কোটি এবং ৭ হাজার ৮৭ কোটি টাকা লোকসান করেছিল।
জামায়াতের দাবি, বর্তমান জ্বালানি সংকট বিপিসির ব্যবস্থাপনাগত ব্যর্থতার কারণে হয়নি; এর মূল কারণ বিশ্ববাজার ও ভূরাজনৈতিক সংকট।
জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশে ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে দাম না বাড়ানোর কারণে বিপিসি প্রতিদিন প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও সরবরাহ সংকটকে কেন্দ্র করে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০২৬ মেয়াদের পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের সময়সীমা ৪২ দিন থেকে কমিয়ে ১০ দিন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তার মতে, এতে বড় আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণ কমতে পারে। ফলে দরদাতা সংকট, বেশি দামে পণ্য কেনা এবং সিন্ডিকেটের সুযোগ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
পরওয়ার বলেন, দ্রুততা ও স্বচ্ছতা একে অপরের বিরোধী নয়। কিন্তু এখানে দ্রুততার অজুহাতে স্বচ্ছতাকে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি বাজার কয়েকটি গোষ্ঠীর হাতে গেলে প্রতি লিটারে সামান্য অতিরিক্ত মুনাফাও বছরে হাজার কোটি টাকার বাড়তি আয়ে পরিণত হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জ্বালানি তেলকে সাধারণ পণ্য নয়, বরং কৃষি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, বিমান চলাচল ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
বাংলাদেশে একটি মাত্র শোধনাগার—ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং সীমিত মজুত সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুদ্ধ বা দুর্যোগের সময় বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে রাষ্ট্র কীভাবে নির্দেশ দেবে। দুর্গম ও অলাভজনক এলাকায় জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্বও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নেবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনের আইনি সুরক্ষা কমানোর উদ্যোগ নিয়েও অভিযোগ করেন পরওয়ার। তার দাবি, শ্রম আইনের ১৮৭ ধারা জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ক্ষেত্রে রহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এটি শুধু বিরোধী দলের রাজনৈতিক বক্তব্য নয় দাবি করে পরওয়ার সিপিডি, ক্যাব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতামত তুলে ধরেন।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, জ্বালানি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হওয়ায় এটিকে মুনাফার খাত না বানিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণে সীমিত মুনাফায় পরিচালনা করাই জনস্বার্থসম্মত।
ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানিকে মুনাফার পরিবর্তে সেবা খাত হিসেবে বিবেচনার পক্ষে অবস্থান করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোশাহিদা সুলতানার আশঙ্কা তুলে ধরে পরওয়ার বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থায় গেলে এলপিজি খাতের মতো সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে পারে।
জামায়াতের দাবি, গত ২ আগস্ট বাঙ্কারিং নীতিমালায় পরিবর্তন এনে মেরিন ফুয়েল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণন বেসরকারি খাতে দেওয়ার উদ্যোগ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে জামায়াত।
একই সঙ্গে খসড়া নীতিমালাসহ সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ করে অন্তত ৬০ দিন জনমত নেওয়া, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অধীনে উন্মুক্ত শুনানি এবং বেসরকারিকরণের পরিবর্তে বিপিসির সংস্কারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
এ ছাড়া স্বাধীন নিরীক্ষা, বোর্ডে পেশাদারদের নিয়োগ, ক্রয়ে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতি ত্রৈমাসিকে আমদানি মূল্য ও পরিমাণ প্রকাশের দাবিও জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট ও কৌশলগত মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা কমানোর সব সুপারিশ প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছে জামায়াত।
পরওয়ার বলেন, জামায়াত বাজার অর্থনীতি বা বেসরকারি বিনিয়োগের বিরোধিতা করে না; তাদের আপত্তি জবাবদিহিহীন হস্তান্তরের বিরুদ্ধে। তার বক্তব্য, প্রতিযোগিতা মানে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের হাতবদল নয়। সংস্কারের অর্থ প্রতিষ্ঠান বিক্রি করা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করা। জ্বালানি নিরাপত্তার অর্থ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ, কোনো গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পাবনা-১ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
সূত্র: মানবজমিন

আপনার মতামত লিখুন