তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে। বিকেল ৫টার দিকে তার মরদেহ গ্রহণ করেন বড় ভাই রাজু মিয়া।
পতাকা বৈঠক ও মরদেহ হস্তান্তরের সময় কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, ত্রিপুরার ইরানি থানার ইন্সপেক্টর শ্রীকান্ত চক্রবর্তী, বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের আলীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম, বিএসএফের মাগুরউলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি রোহিত, কুলাউড়া থানার এসআই ফরহাদ মাতব্বর এবং কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিলভেস্টার পাঠান উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানায়, রোববার ভোরে কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা কানু মিয়ার ছেলে রেনু মিয়া (৩৬), রইস আলীর ছেলে সুমন মিয়া (১৮) এবং রইস আলীর সঙ্গে তারা মিয়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগরের শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাগুরউলী এলাকায় প্রবেশ করেন। সিগারেট, নাসির বিড়িসহ চোরাইপণ্য আনতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ সময় বিএসএফের টহল দল তাদের আটকানোর চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। পরে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যান।
কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সোমবার বিকেলে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ তারা মিয়ার মরদেহ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তারা মিয়ার মা আজিরুন্নেছা বলেন, তার ছেলে কখনো চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। স্থানীয় সুমনসহ কয়েকজন টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তিনি বাধা দিলেও ছেলে তার কথা শোনেনি। পরে তারা ভারতে প্রবেশ করলে বিএসএফ তার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি বলেন, ‘আমার বুকটা খালি হই গেল।’
৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশি তরুণ তারা মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কর্মকর্তাদের কাছে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এসব কার্যক্রম বন্ধে বিজিবির উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হবে।
সূত্র: আমার দেশ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে। বিকেল ৫টার দিকে তার মরদেহ গ্রহণ করেন বড় ভাই রাজু মিয়া।
পতাকা বৈঠক ও মরদেহ হস্তান্তরের সময় কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, ত্রিপুরার ইরানি থানার ইন্সপেক্টর শ্রীকান্ত চক্রবর্তী, বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের আলীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম, বিএসএফের মাগুরউলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি রোহিত, কুলাউড়া থানার এসআই ফরহাদ মাতব্বর এবং কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিলভেস্টার পাঠান উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানায়, রোববার ভোরে কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা কানু মিয়ার ছেলে রেনু মিয়া (৩৬), রইস আলীর ছেলে সুমন মিয়া (১৮) এবং রইস আলীর সঙ্গে তারা মিয়া পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগরের শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাগুরউলী এলাকায় প্রবেশ করেন। সিগারেট, নাসির বিড়িসহ চোরাইপণ্য আনতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন বলে বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ সময় বিএসএফের টহল দল তাদের আটকানোর চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। পরে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যান।
কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সোমবার বিকেলে চাতলাপুর স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশ তারা মিয়ার মরদেহ কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তারা মিয়ার মা আজিরুন্নেছা বলেন, তার ছেলে কখনো চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। স্থানীয় সুমনসহ কয়েকজন টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। তিনি বাধা দিলেও ছেলে তার কথা শোনেনি। পরে তারা ভারতে প্রবেশ করলে বিএসএফ তার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করে। তিনি বলেন, ‘আমার বুকটা খালি হই গেল।’
৪৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশি তরুণ তারা মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে বিএসএফ কর্মকর্তাদের কাছে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি সীমান্তবর্তী এলাকায় কিছু উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এসব কার্যক্রম বন্ধে বিজিবির উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হবে।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন