ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

অপরাধ

সিলেটে ব্যবসায়ী, স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে গলাকেটে হত্যা

সিলেটে ব্যবসায়ী, স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে গলাকেটে হত্যা
সিলেটে ব্যবসায়ী, স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে গলাকেটে হত্যা

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় ভয়াবহ ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে। বাসার বিভিন্ন কক্ষে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল তিনজনের মরদেহ। নিহতরা হলেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম। তিনজনকেই গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহগুলোতে একাধিক আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

বাসাটির মালিক ৮৫ বছর বয়সী আব্দুস সাত্তার সিলেটের পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি কয়লা ব্যবসার পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বয়সের কারণে বর্তমানে অনেকটা ঘরবন্দি জীবনযাপন করতেন। শুধু মসজিদে যাতায়াত করতেন। স্ত্রী সুরাইয়া বেগমকে নিয়ে নিজের বাসার দ্বিতীয় তলায় থাকতেন। তাদের সঙ্গে নগরের জল্লারপাড় এলাকার গৃহকর্মী তাহমিনা থাকতেন।

গতকাল সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে কোনো এক সময় বাসার ভেতরে তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ওই ভবনের নিচতলায় তখন রংমিস্ত্রিরা কাজ করছিলেন। সকালে তারা কাজে আসেন। সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত আব্দুস সাত্তারসহ পরিবারের তিন সদস্য সুস্থ অবস্থায় বাসায় ছিলেন।

সকাল ১০টার কিছু পর একজন রংমিস্ত্রি আব্দুস সাত্তারের ফ্ল্যাটে গেলে দরজার ভেতর থেকে রক্ত বের হতে দেখেন। বিষয়টি দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তারাও দরজার ভেতর রক্ত দেখতে পান। ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে নিহতের আত্মীয়স্বজনরাও সেখানে পৌঁছান। পুলিশ আসার আগেই তারা দরজার সিটকিনি ভেঙে ঘরে ঢুকে রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। খবর পেয়ে আশপাশের শত শত মানুষও সেখানে ভিড় করেন।

নিহতের ভাগিনা মুন্না আহমদ সাংবাদিকদের জানান, তার মামা আব্দুস সাত্তার একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন। স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় থাকতেন। প্রতিবেশীরা সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তাদের স্বাভাবিক সাড়া-শব্দ পেয়েছেন। সকাল ৯টার পর বাসার ভেতর থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণ পর চিৎকার বন্ধ হয়ে গেলে বিষয়টি আর কেউ গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। পরে দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

মুন্না আহমদ আরও জানান, তার মামার সঙ্গে কারও বড় ধরনের বিরোধ ছিল না। তিনি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করতেন। তার দুই সন্তান আমেরিকায় এবং আরও দুই সন্তান লন্ডনে থাকেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষের মেঝেতে আব্দুস সাত্তারের মরদেহ পড়ে আছে। তার পরনে ছিল লুঙ্গি ও হাফ গেঞ্জি। গাল ও পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকা মরদেহের পাশে মেঝেতে রক্ত ছড়িয়ে ছিল।

পাশের কক্ষে পড়ে ছিল তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের মরদেহ। ওই কক্ষের মেঝেতেও ছড়িয়ে ছিল রক্ত। ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ তখনও তাজা ছিল।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম। তার আগেই সেখানে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও পিবিআই কর্মকর্তারা পৌঁছান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পুলিশ কমিশনার জানান, তিনজনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আরও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এর একটি ডাকাতি। কারণ ঘরের আলমারি ও ওয়্যারড্রব খোলা ছিল এবং জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে। ডাকাতরা মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্য সম্ভাবনাটি হলো পূর্বশত্রুতা। এর মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও থাকতে পারে। কোনো পক্ষ দলিলপত্র নেওয়ার জন্য এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দুই বিষয় সামনে রেখেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানও চালানো হবে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। বাসাটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সেটির লাইন কাটা ছিল। পুলিশ বাসা, আশপাশের সড়ক এবং এলাকার অন্যান্য বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

মিতালী সংঘের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজু সাংবাদিকদের বলেন, আব্দুল সাত্তার অত্যন্ত সজ্জন মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে কারও বিরোধের কথা তারা জানেন না। তিনি নিয়মিত মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। জমি নিয়ে কোনো বিরোধের কথাও তাদের জানা ছিল না।

তবে প্রায় এক মাস আগে একজন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে তার বিরোধ হয়েছিল। পরে এলাকার লোকজন বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

ঘটনাস্থলে যান পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক। তার ধারণা, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে।

দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তারা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিন্দা ও দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার প্রত্যাশা জানান। তারা ঘটনাটিকে নৃশংস ও অমানবিক বলে উল্লেখ করেন।

নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট আওয়ামী লীগ ঘরানার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজারের আকাখাজনা গ্রামে। বর্তমানে লন্ডনপ্রবাসী তার এক মেয়ে দেশে রয়েছেন। তিনি সন্তানদের নিয়ে বিয়ানীবাজারের গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে দুপুরে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন।

স্বজনরা জানান, যে বাড়িতে আব্দুস সাত্তার খুন হয়েছেন সেটি তার নিজের। এর পাশের বহুতল ভবনটিও তার মালিকানাধীন। তিনি একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন এবং অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করেন।

নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার পুরোনো বাসিন্দা ছিলেন আব্দুস সাত্তার। প্রায় ৫০ বছর আগে তিনি সেখানে বসতি স্থাপন করেন। এরপর ধীরে ধীরে ওই এলাকায় মানুষের বসবাস বাড়তে থাকে। বর্তমানে মিতালী একটি আধুনিক মডেলের এলাকায় পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

নিহতের স্বজন তাওহীদ হোসেন জানান, আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে একটি পক্ষের জমি সংক্রান্ত মামলা চলছিল। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯ আগস্ট হওয়ার কথা ছিল। তবে শুনানির আগেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাই ওই মামলা সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

সূত্র: মানবজমিন

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


সিলেটে ব্যবসায়ী, স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে গলাকেটে হত্যা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় ভয়াবহ ট্রিপল মার্ডারের ঘটনা ঘটেছে। বাসার বিভিন্ন কক্ষে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল তিনজনের মরদেহ। নিহতরা হলেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম। তিনজনকেই গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহগুলোতে একাধিক আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।

বাসাটির মালিক ৮৫ বছর বয়সী আব্দুস সাত্তার সিলেটের পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি কয়লা ব্যবসার পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বয়সের কারণে বর্তমানে অনেকটা ঘরবন্দি জীবনযাপন করতেন। শুধু মসজিদে যাতায়াত করতেন। স্ত্রী সুরাইয়া বেগমকে নিয়ে নিজের বাসার দ্বিতীয় তলায় থাকতেন। তাদের সঙ্গে নগরের জল্লারপাড় এলাকার গৃহকর্মী তাহমিনা থাকতেন।

গতকাল সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে কোনো এক সময় বাসার ভেতরে তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ওই ভবনের নিচতলায় তখন রংমিস্ত্রিরা কাজ করছিলেন। সকালে তারা কাজে আসেন। সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত আব্দুস সাত্তারসহ পরিবারের তিন সদস্য সুস্থ অবস্থায় বাসায় ছিলেন।

সকাল ১০টার কিছু পর একজন রংমিস্ত্রি আব্দুস সাত্তারের ফ্ল্যাটে গেলে দরজার ভেতর থেকে রক্ত বের হতে দেখেন। বিষয়টি দেখে তিনি চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। তারাও দরজার ভেতর রক্ত দেখতে পান। ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

এরই মধ্যে নিহতের আত্মীয়স্বজনরাও সেখানে পৌঁছান। পুলিশ আসার আগেই তারা দরজার সিটকিনি ভেঙে ঘরে ঢুকে রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। খবর পেয়ে আশপাশের শত শত মানুষও সেখানে ভিড় করেন।

নিহতের ভাগিনা মুন্না আহমদ সাংবাদিকদের জানান, তার মামা আব্দুস সাত্তার একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন। স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় থাকতেন। প্রতিবেশীরা সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তাদের স্বাভাবিক সাড়া-শব্দ পেয়েছেন। সকাল ৯টার পর বাসার ভেতর থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণ পর চিৎকার বন্ধ হয়ে গেলে বিষয়টি আর কেউ গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি। পরে দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখা গেলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

মুন্না আহমদ আরও জানান, তার মামার সঙ্গে কারও বড় ধরনের বিরোধ ছিল না। তিনি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবেই বসবাস করতেন। তার দুই সন্তান আমেরিকায় এবং আরও দুই সন্তান লন্ডনে থাকেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষের মেঝেতে আব্দুস সাত্তারের মরদেহ পড়ে আছে। তার পরনে ছিল লুঙ্গি ও হাফ গেঞ্জি। গাল ও পেটে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলাকাটা অবস্থায় পড়ে থাকা মরদেহের পাশে মেঝেতে রক্ত ছড়িয়ে ছিল।

পাশের কক্ষে পড়ে ছিল তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের মরদেহ। ওই কক্ষের মেঝেতেও ছড়িয়ে ছিল রক্ত। ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ তখনও তাজা ছিল।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম। তার আগেই সেখানে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও পিবিআই কর্মকর্তারা পৌঁছান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর পুলিশ কমিশনার জানান, তিনজনকেই গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আরও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এর একটি ডাকাতি। কারণ ঘরের আলমারি ও ওয়্যারড্রব খোলা ছিল এবং জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে। ডাকাতরা মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্য সম্ভাবনাটি হলো পূর্বশত্রুতা। এর মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও থাকতে পারে। কোনো পক্ষ দলিলপত্র নেওয়ার জন্য এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দুই বিষয় সামনে রেখেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানও চালানো হবে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। বাসাটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সেটির লাইন কাটা ছিল। পুলিশ বাসা, আশপাশের সড়ক এবং এলাকার অন্যান্য বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

মিতালী সংঘের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক নাজু সাংবাদিকদের বলেন, আব্দুল সাত্তার অত্যন্ত সজ্জন মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে কারও বিরোধের কথা তারা জানেন না। তিনি নিয়মিত মসজিদে গিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন। জমি নিয়ে কোনো বিরোধের কথাও তাদের জানা ছিল না।

তবে প্রায় এক মাস আগে একজন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে তার বিরোধ হয়েছিল। পরে এলাকার লোকজন বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।

ঘটনাস্থলে যান পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক। তার ধারণা, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে।

দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তারা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিন্দা ও দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার প্রত্যাশা জানান। তারা ঘটনাটিকে নৃশংস ও অমানবিক বলে উল্লেখ করেন।

নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট আওয়ামী লীগ ঘরানার ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজারের আকাখাজনা গ্রামে। বর্তমানে লন্ডনপ্রবাসী তার এক মেয়ে দেশে রয়েছেন। তিনি সন্তানদের নিয়ে বিয়ানীবাজারের গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে দুপুরে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন।

স্বজনরা জানান, যে বাড়িতে আব্দুস সাত্তার খুন হয়েছেন সেটি তার নিজের। এর পাশের বহুতল ভবনটিও তার মালিকানাধীন। তিনি একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন এবং অন্য ফ্ল্যাটগুলোতে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করেন।

নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার পুরোনো বাসিন্দা ছিলেন আব্দুস সাত্তার। প্রায় ৫০ বছর আগে তিনি সেখানে বসতি স্থাপন করেন। এরপর ধীরে ধীরে ওই এলাকায় মানুষের বসবাস বাড়তে থাকে। বর্তমানে মিতালী একটি আধুনিক মডেলের এলাকায় পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

নিহতের স্বজন তাওহীদ হোসেন জানান, আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে একটি পক্ষের জমি সংক্রান্ত মামলা চলছিল। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯ আগস্ট হওয়ার কথা ছিল। তবে শুনানির আগেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাই ওই মামলা সংক্রান্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

সূত্র: মানবজমিন


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সিলেটে ব্যবসায়ী, স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে গলাকেটে হত্যা
0:00 0:00
1.0x