বুধবার (১২ আগস্ট) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সিফাত হোসেন প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর এক দিন পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও ‘মঞ্চ ২৪’-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী সিফাতের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ জমা দেন।
সিফাতের অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে ‘জুলাই ব্যবসায়ী ও হাদী ব্যবসায়ী’ লিখে একটি পোস্ট করেন তিনি। তার দাবি, সেখানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠন কিংবা পেজের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্নভাবে হুমকি পেতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে সিফাত বলেন, ফাহিম ফারুকী তাকে ১০ লাখ টাকার মানহানি মামলা করার কথা বলেছেন। বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। হাদী ব্যবসায়ীদের সমালোচনা করায় তাকে ‘যে কোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে’ বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সিফাত।
এ ছাড়া ডিজিএফআই ও এনএসআইকে ব্যবহার করে তাকে বাসা থেকে তুলে নেওয়া এবং ‘বর্তমান প্রশাসন আমার পকেটে’—এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তবে সিফাতের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাহিম ফারুকী। তিনি বলেন, সিফাতই তাকে হুমকি দিয়েছেন এবং বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছেন। বর্তমান সময়ে নিজেকে একজন ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিক এবং রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা প্রয়োজন মনে করেছেন বলে জানান ফাহিম। তার দাবি, প্রশাসন বিষয়টি অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সমাধান করেছে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার প্রক্টরের কাছে দেওয়া অভিযোগে ফাহিম ফারুকী দাবি করেন, সিফাত হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মানহানিকর ও চরিত্রহননমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে আক্রমণ বা ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব কারণে ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন ফাহিম।
লিখিত অভিযোগে ফাহিম আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক বিষয়ে সক্রিয় এবং আধিপত্যবাদবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যে সম্পৃক্ত। এ কারণে এর আগেও বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। সিফাতের সঙ্গে আগে শ্রেণিকক্ষেও মতবিরোধের ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ফাহিম অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদনও করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, সিফাত লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে দুজনের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। ফাহিম ফারুকীও অন্য একজনের মাধ্যমে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে রাজশাহীর বাইরে রয়েছেন। রাজশাহীতে ফিরলে দুজনকেই ডেকে তাদের বক্তব্য শোনা হবে। এরপর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানান প্রক্টর।
সূত্র: কালবেলা।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬
বুধবার (১২ আগস্ট) ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সিফাত হোসেন প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এর এক দিন পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও ‘মঞ্চ ২৪’-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী সিফাতের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ জমা দেন।
সিফাতের অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে ‘জুলাই ব্যবসায়ী ও হাদী ব্যবসায়ী’ লিখে একটি পোস্ট করেন তিনি। তার দাবি, সেখানে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, সংগঠন কিংবা পেজের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই বিভিন্নভাবে হুমকি পেতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে সিফাত বলেন, ফাহিম ফারুকী তাকে ১০ লাখ টাকার মানহানি মামলা করার কথা বলেছেন। বিষয়টি জানতে চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। হাদী ব্যবসায়ীদের সমালোচনা করায় তাকে ‘যে কোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে’ বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সিফাত।
এ ছাড়া ডিজিএফআই ও এনএসআইকে ব্যবহার করে তাকে বাসা থেকে তুলে নেওয়া এবং ‘বর্তমান প্রশাসন আমার পকেটে’—এমন বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
তবে সিফাতের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাহিম ফারুকী। তিনি বলেন, সিফাতই তাকে হুমকি দিয়েছেন এবং বিষয়টি প্রশাসনকে জানিয়েছেন। বর্তমান সময়ে নিজেকে একজন ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিক এবং রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত উল্লেখ করে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা প্রয়োজন মনে করেছেন বলে জানান ফাহিম। তার দাবি, প্রশাসন বিষয়টি অবগত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে সমাধান করেছে।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার প্রক্টরের কাছে দেওয়া অভিযোগে ফাহিম ফারুকী দাবি করেন, সিফাত হোসাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মানহানিকর ও চরিত্রহননমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে আক্রমণ বা ক্ষতির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব কারণে ব্যক্তিগতভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন ফাহিম।
লিখিত অভিযোগে ফাহিম আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক বিষয়ে সক্রিয় এবং আধিপত্যবাদবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যে সম্পৃক্ত। এ কারণে এর আগেও বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। সিফাতের সঙ্গে আগে শ্রেণিকক্ষেও মতবিরোধের ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ফাহিম অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আবেদনও করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, সিফাত লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে দুজনের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। ফাহিম ফারুকীও অন্য একজনের মাধ্যমে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে রাজশাহীর বাইরে রয়েছেন। রাজশাহীতে ফিরলে দুজনকেই ডেকে তাদের বক্তব্য শোনা হবে। এরপর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে জানান প্রক্টর।
সূত্র: কালবেলা।

আপনার মতামত লিখুন