জেসন নামের এক ব্যক্তি দৈর্ঘ্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও পরিধি কিছুটা বাড়ানোর ইচ্ছা থেকে প্রায় এক বছর বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করেন। শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের পরিবর্তে সাময়িক হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসার পর তাঁর পরিধি ১৬ শতাংশ বেড়েছে এবং তিনি ও তাঁর সঙ্গী এতে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এতে আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।
জেসন অতিরিক্ত বড় আকারের পক্ষে নন। তাঁর মতে, কেউ কেউ ফিলার ব্যবহার করে অস্বাভাবিক মাত্রায় আকার বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
তিনি মনে করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু অতিপুরুষালি মানসিকতা নয়; পুরুষদের শরীর ও চেহারা নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশার পরিবর্তনও ভূমিকা রাখছে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখুঁত চেহারার উপস্থাপন মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে বলেও তাঁর মত।
লিঙ্গের আকার পরিবর্তনের জন্য অস্ত্রোপচার ও অস্ত্রোপচারবিহীন—দুই ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডভিত্তিক জেল ফিলার একটি প্রচলিত পদ্ধতি। একই উপাদান ঠোঁটের ফিলারেও ব্যবহৃত হয়। শরীরে স্বাভাবিকভাবে থাকা এই শর্করা অণু পানি ধরে রাখতে পারে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রেস্টউইচে চিকিৎসক জাভেদ হুসেইন এক বছরের বেশি সময় ধরে এ ধরনের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন বয়সের পুরুষের মধ্যে এর চাহিদা বেড়েছে। তাঁর রোগীদের বয়স ২০-এর মাঝামাঝি থেকে ৭২ বছর পর্যন্ত।
চিকিৎসার আগে রোগীর স্বাস্থ্য, প্রত্যাশা, চিকিৎসা নেওয়ার কারণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড প্রয়োগ করা হয় এবং ফিলার সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে পরবর্তী পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।
হুসেইনের মতে, এ চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এক পাউন্ড ১৬৬ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার বেশি। তাঁর দাবি, ফলাফল ছয় থেকে নয় মাস স্থায়ী হতে পারে এবং পরিধি ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তবে চিকিৎসাটির ঝুঁকিও রয়েছে। ব্যথা, কালশিটে ও ফিলার অসমভাবে ছড়িয়ে পড়ার মতো সমস্যা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে সংক্রমণ এবং গুরুত্বপূর্ণ গঠন ও রক্তনালির ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। এসব রক্তনালি স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হুসেইন জানান, অন্য একটি ক্লিনিকে ভুল ধরনের ফিলার ব্যবহারের পর এক রোগী গুরুতর জটিলতায় পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, ওই রোগীর ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কালো হতে শুরু করেছিল এবং তাকে জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ম্যানচেস্টারে এনএইচএসের অ্যান্ড্রোলজিস্ট ও পরামর্শক ইউরোলজিক্যাল সার্জন অধ্যাপক বৈভব মোদগিলও ব্যর্থ লিঙ্গবর্ধক চিকিৎসার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী দেখেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের জটিলতা রোগীর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হতে পারে। কিছু রোগীর ত্বকের নেক্রোসিসও হয়েছে, যেখানে ত্বকের অংশ নষ্ট হয়ে পরে খসে পড়তে পারে।
অ্যালেক্স নামের এক ব্যক্তি জার্মানিতে ভিন্ন ধরনের লিঙ্গবর্ধক অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর তিনি তীব্র ব্যথা, ব্যাপক কালশিটে এবং দীর্ঘ সময় হাঁটতে সমস্যার মুখে পড়েন। পরে মোদগিলের ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হন। অ্যালেক্সের মতে, সমাজ ও পর্নোগ্রাফির প্রভাব তাঁকে বড় আকারকে পুরুষত্বের সঙ্গে যুক্ত করার ধারণা দিয়েছিল।
লিঙ্গের আকার বাড়ানোর চিকিৎসা নেওয়া পুরুষের সঠিক সংখ্যা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব নেই। তবে অনলাইন অনুসন্ধান, বিজ্ঞাপন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা দেখে চিকিৎসক মোদগিল মনে করেন, এ ধরনের চিকিৎসার সংখ্যা বাড়ছে।
এ কারণে ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস এ বিষয়ে নতুন সুপারিশ দিয়েছে। সংগঠনটি ৩ হাজার ৭৫০ জন পুরুষকে নিয়ে করা ৩৬টি গবেষণা পর্যালোচনা করেছে। তাদের মতে, এসব চিকিৎসার পক্ষে সুপারিশ করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী প্রমাণ নেই এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার বিষয়টিও এখনো স্পষ্ট নয়।
চিকিৎসকদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, লিঙ্গে ফিলার প্রয়োগের জন্য ঠোঁটের ফিলারের মতো নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। মোদগিল পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞাকে অতিরিক্ত কঠোর মনে করলেও এ খাতের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলে মনে করেন।
তিনি জাতীয় পর্যায়ে একটি নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে এ ধরনের চিকিৎসার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংগ্রহের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এতে চিকিৎসা নেওয়ার আগে পুরুষেরা সম্ভাব্য ঝুঁকি ও উপকার সম্পর্কে আরও ভালোভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
জেসনের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হলেও চিকিৎসকদের সতর্কতা হলো, লিঙ্গের আকার নিয়ে অসন্তুষ্টি থেকে নেওয়া প্রসাধনমূলক চিকিৎসা ভুলভাবে করা হলে গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সূত্র: আমার দেশ

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
জেসন নামের এক ব্যক্তি দৈর্ঘ্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও পরিধি কিছুটা বাড়ানোর ইচ্ছা থেকে প্রায় এক বছর বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করেন। শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের পরিবর্তে সাময়িক হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ফিলার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসার পর তাঁর পরিধি ১৬ শতাংশ বেড়েছে এবং তিনি ও তাঁর সঙ্গী এতে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এতে আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে।
জেসন অতিরিক্ত বড় আকারের পক্ষে নন। তাঁর মতে, কেউ কেউ ফিলার ব্যবহার করে অস্বাভাবিক মাত্রায় আকার বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
তিনি মনে করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু অতিপুরুষালি মানসিকতা নয়; পুরুষদের শরীর ও চেহারা নিয়ে সামাজিক প্রত্যাশার পরিবর্তনও ভূমিকা রাখছে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখুঁত চেহারার উপস্থাপন মানুষের ওপর প্রভাব ফেলছে বলেও তাঁর মত।
লিঙ্গের আকার পরিবর্তনের জন্য অস্ত্রোপচার ও অস্ত্রোপচারবিহীন—দুই ধরনের পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডভিত্তিক জেল ফিলার একটি প্রচলিত পদ্ধতি। একই উপাদান ঠোঁটের ফিলারেও ব্যবহৃত হয়। শরীরে স্বাভাবিকভাবে থাকা এই শর্করা অণু পানি ধরে রাখতে পারে।
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের প্রেস্টউইচে চিকিৎসক জাভেদ হুসেইন এক বছরের বেশি সময় ধরে এ ধরনের চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন বয়সের পুরুষের মধ্যে এর চাহিদা বেড়েছে। তাঁর রোগীদের বয়স ২০-এর মাঝামাঝি থেকে ৭২ বছর পর্যন্ত।
চিকিৎসার আগে রোগীর স্বাস্থ্য, প্রত্যাশা, চিকিৎসা নেওয়ার কারণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড প্রয়োগ করা হয় এবং ফিলার সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে পরবর্তী পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।
হুসেইনের মতে, এ চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এক পাউন্ড ১৬৬ টাকা হিসাবে এর পরিমাণ ৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার বেশি। তাঁর দাবি, ফলাফল ছয় থেকে নয় মাস স্থায়ী হতে পারে এবং পরিধি ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তবে চিকিৎসাটির ঝুঁকিও রয়েছে। ব্যথা, কালশিটে ও ফিলার অসমভাবে ছড়িয়ে পড়ার মতো সমস্যা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে সংক্রমণ এবং গুরুত্বপূর্ণ গঠন ও রক্তনালির ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে। এসব রক্তনালি স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হুসেইন জানান, অন্য একটি ক্লিনিকে ভুল ধরনের ফিলার ব্যবহারের পর এক রোগী গুরুতর জটিলতায় পড়েছিলেন। তাঁর দাবি, ওই রোগীর ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কালো হতে শুরু করেছিল এবং তাকে জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
ম্যানচেস্টারে এনএইচএসের অ্যান্ড্রোলজিস্ট ও পরামর্শক ইউরোলজিক্যাল সার্জন অধ্যাপক বৈভব মোদগিলও ব্যর্থ লিঙ্গবর্ধক চিকিৎসার পর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী দেখেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের জটিলতা রোগীর জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হতে পারে। কিছু রোগীর ত্বকের নেক্রোসিসও হয়েছে, যেখানে ত্বকের অংশ নষ্ট হয়ে পরে খসে পড়তে পারে।
অ্যালেক্স নামের এক ব্যক্তি জার্মানিতে ভিন্ন ধরনের লিঙ্গবর্ধক অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর তিনি তীব্র ব্যথা, ব্যাপক কালশিটে এবং দীর্ঘ সময় হাঁটতে সমস্যার মুখে পড়েন। পরে মোদগিলের ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থ হন। অ্যালেক্সের মতে, সমাজ ও পর্নোগ্রাফির প্রভাব তাঁকে বড় আকারকে পুরুষত্বের সঙ্গে যুক্ত করার ধারণা দিয়েছিল।
লিঙ্গের আকার বাড়ানোর চিকিৎসা নেওয়া পুরুষের সঠিক সংখ্যা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব নেই। তবে অনলাইন অনুসন্ধান, বিজ্ঞাপন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা দেখে চিকিৎসক মোদগিল মনে করেন, এ ধরনের চিকিৎসার সংখ্যা বাড়ছে।
এ কারণে ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস এ বিষয়ে নতুন সুপারিশ দিয়েছে। সংগঠনটি ৩ হাজার ৭৫০ জন পুরুষকে নিয়ে করা ৩৬টি গবেষণা পর্যালোচনা করেছে। তাদের মতে, এসব চিকিৎসার পক্ষে সুপারিশ করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী প্রমাণ নেই এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার বিষয়টিও এখনো স্পষ্ট নয়।
চিকিৎসকদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, লিঙ্গে ফিলার প্রয়োগের জন্য ঠোঁটের ফিলারের মতো নির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। মোদগিল পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞাকে অতিরিক্ত কঠোর মনে করলেও এ খাতের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন বলে মনে করেন।
তিনি জাতীয় পর্যায়ে একটি নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে এ ধরনের চিকিৎসার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি তথ্য সংগ্রহের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। এতে চিকিৎসা নেওয়ার আগে পুরুষেরা সম্ভাব্য ঝুঁকি ও উপকার সম্পর্কে আরও ভালোভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
জেসনের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক হলেও চিকিৎসকদের সতর্কতা হলো, লিঙ্গের আকার নিয়ে অসন্তুষ্টি থেকে নেওয়া প্রসাধনমূলক চিকিৎসা ভুলভাবে করা হলে গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন