জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বারইপাড়া-খালেকনগর বাজার এলাকায় ভুট্টার বীজ ও ফলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে এক পক্ষকে ৬৫ হাজার ৫৯০ টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, তাদের বক্তব্য যথাযথভাবে না শুনেই একতরফাভাবে জরিমানার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বারইপাড়া খালেকনগর বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. আশরাফের কাছ থেকে মোহাম্মদ হাফিজুর আকন্দ ও সুলতান আকন্দ প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে চাষের জন্য ভুট্টার বীজ নেন। পরে তারা জমিতে ওই বীজ রোপণ করেন। তাদের দাবি, ভুট্টার গাছ প্রথমদিকে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠলেও পরবর্তীতে আশপাশের জমিতে ভালো ফলন হলেও হাফিজুর আকন্দ ও সুলতান আকন্দের জমিতে প্রত্যাশিত ফলন হয়নি।
এ নিয়ে বীজ সরবরাহকারী আশরাফের কাছে তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা আলোচনা ও বিচার-সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে আশরাফকে জরিমানা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং তিনি পরিস্থিতির কারণে জরিমানায় রাজি হন।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও হাফিজুর আকন্দ ও সুলতান আকন্দ ওই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হননি বলে জানা গেছে। এরপর আশরাফের দোকান বন্ধ করে দেওয়া এবং তাকে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগকারী পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজের পর আশরাফ কয়েকজনের সঙ্গে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে তুতার রহমান হাফেজিয়া মাদ্রাসার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সুলতান আকন্দের পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ মো. হাকিম আলী, মো. হুকুম আলী ও মো. সামাদ আকন্দ তার পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সেখানে ভুট্টার ক্ষেতের ক্ষতিপূরণের টাকা কবে দেওয়া হবে—এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি, তাদের মধ্যে প্রতিবেদক মো. মহরম খান ও রাজিব মণ্ডলসহ আরও অনেকে ছিলেন বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।
পরে আশরাফকে নিয়ে বিষয়টি আবারও সালিশে বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শুক্রবার নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন সমস্যার কারণে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, হাটমাগুরা গ্রামের আলম সোনার বাড়িতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সালিশে তোর গোলাবাড়ির কুদ্দুস সোনারুসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এবং আলম সোনার পরিবারের সদস্যসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, সালিশে তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ৬৫ হাজার ৫৯০ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আশরাফ পক্ষের দাবি, পরিস্থিতির কারণে তারা ওই জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। টাকা পরিশোধের সময় আশরাফের চাচা মো. হযরত মণ্ডল, মো. সুরোজ মণ্ডলসহ পরিবারের আরও সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সালিশে আশরাফ পক্ষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরার পর্যাপ্ত সুযোগ না পেয়েই ভয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।
ভুট্টার বীজের মান, জমির ফলন কম হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং জরিমানার বৈধতা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এ বিষয়ে মোহাম্মদ হাফিজুর আকন্দ, সুলতান আকন্দ ও সংশ্লিষ্ট সালিশকারীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে সংবাদে তা সংযোজন করা হবে।
জামালপুর মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি
মো. মহরম খান

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বারইপাড়া-খালেকনগর বাজার এলাকায় ভুট্টার বীজ ও ফলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে সালিশ বৈঠকে এক পক্ষকে ৬৫ হাজার ৫৯০ টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, তাদের বক্তব্য যথাযথভাবে না শুনেই একতরফাভাবে জরিমানার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বারইপাড়া খালেকনগর বাজারের কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. আশরাফের কাছ থেকে মোহাম্মদ হাফিজুর আকন্দ ও সুলতান আকন্দ প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে চাষের জন্য ভুট্টার বীজ নেন। পরে তারা জমিতে ওই বীজ রোপণ করেন। তাদের দাবি, ভুট্টার গাছ প্রথমদিকে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠলেও পরবর্তীতে আশপাশের জমিতে ভালো ফলন হলেও হাফিজুর আকন্দ ও সুলতান আকন্দের জমিতে প্রত্যাশিত ফলন হয়নি।
এ নিয়ে বীজ সরবরাহকারী আশরাফের কাছে তারা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা আলোচনা ও বিচার-সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে আশরাফকে জরিমানা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং তিনি পরিস্থিতির কারণে জরিমানায় রাজি হন।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও হাফিজুর আকন্দ ও সুলতান আকন্দ ওই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হননি বলে জানা গেছে। এরপর আশরাফের দোকান বন্ধ করে দেওয়া এবং তাকে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগকারী পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজের পর আশরাফ কয়েকজনের সঙ্গে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে তুতার রহমান হাফেজিয়া মাদ্রাসার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সুলতান আকন্দের পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ মো. হাকিম আলী, মো. হুকুম আলী ও মো. সামাদ আকন্দ তার পথরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সেখানে ভুট্টার ক্ষেতের ক্ষতিপূরণের টাকা কবে দেওয়া হবে—এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি, তাদের মধ্যে প্রতিবেদক মো. মহরম খান ও রাজিব মণ্ডলসহ আরও অনেকে ছিলেন বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।
পরে আশরাফকে নিয়ে বিষয়টি আবারও সালিশে বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে শুক্রবার নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন সমস্যার কারণে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানা যায়।
পরবর্তীতে শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, হাটমাগুরা গ্রামের আলম সোনার বাড়িতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
সালিশে তোর গোলাবাড়ির কুদ্দুস সোনারুসহ স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এবং আলম সোনার পরিবারের সদস্যসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, সালিশে তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ৬৫ হাজার ৫৯০ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আশরাফ পক্ষের দাবি, পরিস্থিতির কারণে তারা ওই জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হন। টাকা পরিশোধের সময় আশরাফের চাচা মো. হযরত মণ্ডল, মো. সুরোজ মণ্ডলসহ পরিবারের আরও সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সালিশে আশরাফ পক্ষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরার পর্যাপ্ত সুযোগ না পেয়েই ভয়ে সেখান থেকে চলে আসেন।
ভুট্টার বীজের মান, জমির ফলন কম হওয়ার প্রকৃত কারণ এবং জরিমানার বৈধতা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে এ বিষয়ে মোহাম্মদ হাফিজুর আকন্দ, সুলতান আকন্দ ও সংশ্লিষ্ট সালিশকারীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে সংবাদে তা সংযোজন করা হবে।
জামালপুর মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি
মো. মহরম খান

আপনার মতামত লিখুন