ঢাকা    সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

অর্থনীতি

বাজেয়াপ্ত ও অখালাসকৃত পণ্য নিষ্পত্তিতে এনবিআরের নতুন স্থায়ী আদেশ

বাজেয়াপ্ত ও অখালাসকৃত পণ্য নিষ্পত্তিতে এনবিআরের নতুন স্থায়ী আদেশ
বাজেয়াপ্ত ও অখালাসকৃত পণ্য নিষ্পত্তিতে এনবিআরের নতুন স্থায়ী আদেশ

দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনে পড়ে থাকা অখালাসকৃত পণ্য এবং চোরাচালানের অভিযোগে বাজেয়াপ্ত পণ্য দ্রুত, স্বচ্ছ ও আধুনিক পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির জন্য নতুন স্থায়ী আদেশ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

‘স্থায়ী আদেশ নং- ৪৩/কাস্টমস/২০২৬’ নামে আদেশটি সোমবার জারি করা হয়েছে। ২০২৩ সালের কাস্টমস আইনের বিভিন্ন ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন আদেশের মাধ্যমে ২০২৩ সালের ২ জুলাই জারি করা ৯১ নম্বর স্থায়ী আদেশটি প্রতিস্থাপিত হবে।

কাস্টমস গুদামে জমে থাকা পণ্যের চাপ কমানো, সরকারি রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়ানো এবং কাস্টমস কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করাই নতুন আদেশের প্রধান উদ্দেশ্য।

নিলামে অগ্রাধিকার পাবে লাইভ ই-নিলাম

নতুন আদেশ অনুযায়ী, জব্দ বা অখালাসকৃত পণ্য নিষ্পত্তির প্রধান পদ্ধতি হবে অনলাইন বা ‘লাইভ ই-নিলাম’ (Live E-Auction)। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে ই-নিলাম করা সম্ভব না হলে প্রচলিত প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সুযোগ থাকবে।

ই-নিলাম প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’ (ASYCUDA World) সিস্টেম ব্যবহার করে অখালাসকৃত পণ্যের তালিকা তৈরি এবং লট প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংরক্ষিত মূল্য ও জামানতের নিয়ম

নিলামের জন্য লট প্রস্তুত করার পর পণ্যের গুণগত মান, পরিমাণসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করে সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হবে। আমদানির পর প্রথম বছর বাদ দিয়ে পরবর্তী বছরগুলোতে প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সংরক্ষিত মূল্য কমানোর বিধান রাখা হয়েছে।

ই-নিলামে অংশ নিতে দরদাতাকে ৫ শতাংশ হারে জামানত ই-পেমেন্টের মাধ্যমে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত হিসাবে জমা দিতে হবে।

পচনশীল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিশেষ ব্যবস্থা

নতুন আদেশে পচনশীল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চিনি, লবণ, ডাল ও সয়াবিন তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পচনশীল পণ্য এনবিআর নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি টিসিবির কাছে বিক্রি করা যাবে।

এ ছাড়া অখালাসকৃত পচনশীল পণ্য খাওয়ার উপযোগী থাকলে এবং এর মেয়াদ তিন মাসের কম হলে তা সরকারি এতিমখানায় বিনামূল্যে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যবহারের অনুপযোগী ও ক্ষতিকর পণ্য ধ্বংসের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ধ্বংস কমিটি’ গঠনের রূপরেখাও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য পণ্য হস্তান্তর

আটক করা সোনা, রুপা, প্ল্যাটিনাম, হিরাসহ মূল্যবান ধাতু এবং বৈদেশিক মুদ্রা যথাযথ নিরাপত্তার সঙ্গে কাস্টমস গুদাম বা বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষণ করতে হবে।

বিস্ফোরক, যুদ্ধাস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে। মাদক, মদ ও বিদেশি সিগারেট বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হবে।

এ ছাড়া শিল্প কারখানায় ব্যবহারের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)-এর কাছে ন্যূনতম মূল্যের ৬০ শতাংশ দামে বিক্রি করা যাবে।

দাবিদারকে নোটিশ, এরপর নিলাম

পণ্য নিলামে তোলার আগে আমদানিকারক বা দাবিদারকে সাত কার্যদিবসের সময় দিয়ে নোটিশ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সাড়া না পাওয়া গেলে পণ্য নিলামে তোলা হবে।

নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ নির্ধারিত অগ্রাধিকার অনুযায়ী বণ্টন করা হবে। প্রথমে নিলাম পরিচালনার খরচ পরিশোধ করা হবে। এরপর শিপিং বা কনটেইনার ভাড়া, সরকারি কাস্টমস শুল্ক ও কর এবং জিম্মাদারের পাওনা পরিশোধ করা হবে। সব খরচ পরিশোধের পর অর্থ অবশিষ্ট থাকলে পণ্যের মালিক আবেদন করলে তা ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

নিলাম কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি বা জালিয়াতির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নতুন স্থায়ী আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬


বাজেয়াপ্ত ও অখালাসকৃত পণ্য নিষ্পত্তিতে এনবিআরের নতুন স্থায়ী আদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশের বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও শুল্ক স্টেশনে পড়ে থাকা অখালাসকৃত পণ্য এবং চোরাচালানের অভিযোগে বাজেয়াপ্ত পণ্য দ্রুত, স্বচ্ছ ও আধুনিক পদ্ধতিতে নিষ্পত্তির জন্য নতুন স্থায়ী আদেশ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

‘স্থায়ী আদেশ নং- ৪৩/কাস্টমস/২০২৬’ নামে আদেশটি সোমবার জারি করা হয়েছে। ২০২৩ সালের কাস্টমস আইনের বিভিন্ন ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে এটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন আদেশের মাধ্যমে ২০২৩ সালের ২ জুলাই জারি করা ৯১ নম্বর স্থায়ী আদেশটি প্রতিস্থাপিত হবে।

কাস্টমস গুদামে জমে থাকা পণ্যের চাপ কমানো, সরকারি রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়ানো এবং কাস্টমস কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করাই নতুন আদেশের প্রধান উদ্দেশ্য।

নিলামে অগ্রাধিকার পাবে লাইভ ই-নিলাম

নতুন আদেশ অনুযায়ী, জব্দ বা অখালাসকৃত পণ্য নিষ্পত্তির প্রধান পদ্ধতি হবে অনলাইন বা ‘লাইভ ই-নিলাম’ (Live E-Auction)। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে ই-নিলাম করা সম্ভব না হলে প্রচলিত প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সুযোগ থাকবে।

ই-নিলাম প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড’ (ASYCUDA World) সিস্টেম ব্যবহার করে অখালাসকৃত পণ্যের তালিকা তৈরি এবং লট প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংরক্ষিত মূল্য ও জামানতের নিয়ম

নিলামের জন্য লট প্রস্তুত করার পর পণ্যের গুণগত মান, পরিমাণসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করে সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হবে। আমদানির পর প্রথম বছর বাদ দিয়ে পরবর্তী বছরগুলোতে প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সংরক্ষিত মূল্য কমানোর বিধান রাখা হয়েছে।

ই-নিলামে অংশ নিতে দরদাতাকে ৫ শতাংশ হারে জামানত ই-পেমেন্টের মাধ্যমে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত হিসাবে জমা দিতে হবে।

পচনশীল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিশেষ ব্যবস্থা

নতুন আদেশে পচনশীল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চিনি, লবণ, ডাল ও সয়াবিন তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পচনশীল পণ্য এনবিআর নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি টিসিবির কাছে বিক্রি করা যাবে।

এ ছাড়া অখালাসকৃত পচনশীল পণ্য খাওয়ার উপযোগী থাকলে এবং এর মেয়াদ তিন মাসের কম হলে তা সরকারি এতিমখানায় বিনামূল্যে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যবহারের অনুপযোগী ও ক্ষতিকর পণ্য ধ্বংসের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ধ্বংস কমিটি’ গঠনের রূপরেখাও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূল্যবান ধাতু ও অন্যান্য পণ্য হস্তান্তর

আটক করা সোনা, রুপা, প্ল্যাটিনাম, হিরাসহ মূল্যবান ধাতু এবং বৈদেশিক মুদ্রা যথাযথ নিরাপত্তার সঙ্গে কাস্টমস গুদাম বা বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষণ করতে হবে।

বিস্ফোরক, যুদ্ধাস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে। মাদক, মদ ও বিদেশি সিগারেট বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন বা অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়া হবে।

এ ছাড়া শিল্প কারখানায় ব্যবহারের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ)-এর কাছে ন্যূনতম মূল্যের ৬০ শতাংশ দামে বিক্রি করা যাবে।

দাবিদারকে নোটিশ, এরপর নিলাম

পণ্য নিলামে তোলার আগে আমদানিকারক বা দাবিদারকে সাত কার্যদিবসের সময় দিয়ে নোটিশ দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সাড়া না পাওয়া গেলে পণ্য নিলামে তোলা হবে।

নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ নির্ধারিত অগ্রাধিকার অনুযায়ী বণ্টন করা হবে। প্রথমে নিলাম পরিচালনার খরচ পরিশোধ করা হবে। এরপর শিপিং বা কনটেইনার ভাড়া, সরকারি কাস্টমস শুল্ক ও কর এবং জিম্মাদারের পাওনা পরিশোধ করা হবে। সব খরচ পরিশোধের পর অর্থ অবশিষ্ট থাকলে পণ্যের মালিক আবেদন করলে তা ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

নিলাম কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি বা জালিয়াতির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নতুন স্থায়ী আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
বাজেয়াপ্ত ও অখালাসকৃত পণ্য নিষ্পত্তিতে এনবিআরের নতুন স্থায়ী আদেশ
0:00 0:00
1.0x