প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে শামসু বিবি, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়েশা গিলামানা’ নামে পরিচিত, গুলিতে নিহত হয়েছেন। ২৮ বছর বয়সী এই টিকটকারকে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি লক্ষ্য করে গুলি করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আয়েশার টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৩ লাখ অনুসারী ছিল। ইউটিউবেও তাঁর প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার সাবস্ক্রাইবার রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট ট্যাক্সিলায় গাড়ি চালানোর সময় আয়েশাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের একজন গাড়ির দিকে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তাঁর ঘাড়ে লাগে। এতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি একটি চলন্ত ডাম্প ট্রাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই আয়েশার মৃত্যু হয়।
কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটে?
আয়েশার বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনি ১৫ বছর বয়সী ছোট বোন আসমিয়া বিবি ও ভাই নিয়ামতুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এর আগে কাশিফ ওরফে কাশী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তাঁর ফোন আসে। ওই ফোনের পরই তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে একটি গ্যাস স্টেশনের কাছাকাছি এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি আয়েশার গাড়ির পাশে আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ব্যক্তি গুলি ছোড়ে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি ডাম্প ট্রাকে ধাক্কা খায়। এতে আয়েশা নিহত হন। একই ঘটনায় তাঁর ছোট বোন আসমিয়াও গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনজন আটক
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে। ট্যাক্সিলা, অ্যাটক ও খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা কাশিফ, কওসার ও জাভেদ নামে তিন ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। আয়েশার পরিবারের করা অভিযোগেও ওই তিনজনের নাম রয়েছে।
তবে আটক তিনজন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন—এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তিগত তথ্যও বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে জিওফেন্সিংয়ের মাধ্যমে হামলার সময় ওই এলাকায় সক্রিয় মোবাইল ফোনগুলোর তথ্য শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া আয়েশার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যে অভিযোগে নাম থাকা কাশিফ, কওসার ও জাভেদ ঘটনার সময় মুরিতে ছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে তাঁরা নিজেরা সেখানে ছিলেন কি না, তাঁদের ফোন অন্য কেউ ব্যবহার করেছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তকারীরা যাচাই করছেন।
হত্যার কারণ এখনো অজানা
আয়েশা গিলামানাকে কেন হত্যা করা হলো, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পারিবারিকভাবে কোনো আর্থিক বিরোধ ছিল কি না, কিংবা অন্য কোনো কারণে তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল কি না—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।
কার নির্দেশে হামলা চালানো হয়েছে, হামলাকারীরা কারা এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সম্পর্ক কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার কারণ বা আটক ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে শামসু বিবি, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘আয়েশা গিলামানা’ নামে পরিচিত, গুলিতে নিহত হয়েছেন। ২৮ বছর বয়সী এই টিকটকারকে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি লক্ষ্য করে গুলি করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আয়েশার টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৩ লাখ অনুসারী ছিল। ইউটিউবেও তাঁর প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার সাবস্ক্রাইবার রয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট ট্যাক্সিলায় গাড়ি চালানোর সময় আয়েশাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের একজন গাড়ির দিকে গুলি ছোড়ে। একটি গুলি তাঁর ঘাড়ে লাগে। এতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি একটি চলন্ত ডাম্প ট্রাকে ধাক্কা দেয়। ঘটনাস্থলেই আয়েশার মৃত্যু হয়।
কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটে?
আয়েশার বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন তিনি ১৫ বছর বয়সী ছোট বোন আসমিয়া বিবি ও ভাই নিয়ামতুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এর আগে কাশিফ ওরফে কাশী নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তাঁর ফোন আসে। ওই ফোনের পরই তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে একটি গ্যাস স্টেশনের কাছাকাছি এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি আয়েশার গাড়ির পাশে আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের পেছনে থাকা ব্যক্তি গুলি ছোড়ে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি ডাম্প ট্রাকে ধাক্কা খায়। এতে আয়েশা নিহত হন। একই ঘটনায় তাঁর ছোট বোন আসমিয়াও গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে ইসলামাবাদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
তিনজন আটক
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে। ট্যাক্সিলা, অ্যাটক ও খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা কাশিফ, কওসার ও জাভেদ নামে তিন ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। আয়েশার পরিবারের করা অভিযোগেও ওই তিনজনের নাম রয়েছে।
তবে আটক তিনজন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিলেন—এমন তথ্য এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে।
প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত
হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তিগত তথ্যও বিশ্লেষণ করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে জিওফেন্সিংয়ের মাধ্যমে হামলার সময় ওই এলাকায় সক্রিয় মোবাইল ফোনগুলোর তথ্য শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এ ছাড়া আয়েশার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক অবস্থানসংক্রান্ত তথ্যে অভিযোগে নাম থাকা কাশিফ, কওসার ও জাভেদ ঘটনার সময় মুরিতে ছিলেন বলে জানা গেছে।
তবে তাঁরা নিজেরা সেখানে ছিলেন কি না, তাঁদের ফোন অন্য কেউ ব্যবহার করেছিল কি না—এসব বিষয়ও তদন্তকারীরা যাচাই করছেন।
হত্যার কারণ এখনো অজানা
আয়েশা গিলামানাকে কেন হত্যা করা হলো, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পারিবারিকভাবে কোনো আর্থিক বিরোধ ছিল কি না, কিংবা অন্য কোনো কারণে তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল কি না—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।
কার নির্দেশে হামলা চালানো হয়েছে, হামলাকারীরা কারা এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সম্পর্ক কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার কারণ বা আটক ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন