ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে পার পাবে না, আবার বাউনবাইরা আহো’: হাসনাতকে রহমতুল্লাহ কাসেমী

জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে পার পাবে না, আবার বাউনবাইরা আহো’: হাসনাতকে রহমতুল্লাহ কাসেমী
জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে পার পাবে না, আবার বাউনবাইরা আহো’: হাসনাতকে রহমতুল্লাহ কাসেমী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনা জাতীয় সংসদে ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর কঠোর সমালোচনা করেছেন মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমী।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার জামিয়া রশিদিয়া ছতরপুর মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমী নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে কনসার্টে লাউডস্পিকারে গান বাজানো হচ্ছিল। পুলিশ লাইন্সের পাশেই হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত জামিয়া দারুল আরকামের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছিলেন। উচ্চশব্দে গান বাজানোর কারণে তাদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটলে বিষয়টি জানানো হয় পুলিশ সুপারকে। পরে এসপি লাউডস্পিকার বন্ধের নির্দেশ দিলে তা বন্ধ করে শিক্ষার্থীরা নিজ ক্যাম্পাসে ফিরে যান।

রহমতুল্লাহ কাসেমীর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর পুলিশ সুপার ডিআইজি সাহেবকে এগিয়ে দিতে গেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আবার উচ্চশব্দে গান বাজানো শুরু করেন। তখন শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন এবং মারধর করে আহত করেন। পরে পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি মাদরাসায় গিয়ে ক্ষমা চান এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেন।

মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমী আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও হাসনাত আবদুল্লাহ পরদিন সংসদে ঘটনাটি তুলে ধরে শিক্ষার্থীদেরই অভিযুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা একজন তরুণ সংসদ সদস্যের কাছ থেকে সহযোদ্ধা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এমন বক্তব্যে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আগে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সবসময় নিপীড়িত মানুষের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেলেও এবারই প্রথম কোনো বিরোধী দলের এমপিকে নিপীড়িতদের অভিযুক্ত করতে দেখেছেন।

রহমতুল্লাহ কাসেমী আরও লেখেন, সিনেমা ও গান-বাজনার পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে মাদরাসার শিক্ষার্থী ও আলেমদের বিরুদ্ধে অবস্থান করে ‘শাহবাগী’ হওয়ার জন্য জুলাই বিপ্লবে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে মাঠে নামেননি। জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে গাদ্দারি করে পার পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অপরাধে বহু ক্যাপ্টেন চিরতরে নিষিদ্ধ হতে পারে।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘এই পচা মালগুলো মস্তিষ্কে এবং কালচারালি এখনো আওয়ামী স্বৈরাচারকেই রিপ্রেজেন্ট করে শুধু খোলস পাল্টিয়ে মানুষকে ধোকা দিচ্ছে। সময় আসলে আবার ঠিকই আওয়ামী লীগ হয়ে যাবে—চান্দু তোমরা আবার বাউনবাইরা আহো।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমা বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ‘এই ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না? আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, নাকি তিনি ব্যর্থ হয়েছেন?’

তার এই বক্তব্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্টও দেওয়া হয়। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কওমি শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে পার পাবে না, আবার বাউনবাইরা আহো’: হাসনাতকে রহমতুল্লাহ কাসেমী

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে উচ্চশব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনা জাতীয় সংসদে ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর কঠোর সমালোচনা করেছেন মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমী।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার জামিয়া রশিদিয়া ছতরপুর মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমী নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে কনসার্টে লাউডস্পিকারে গান বাজানো হচ্ছিল। পুলিশ লাইন্সের পাশেই হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত জামিয়া দারুল আরকামের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছিলেন। উচ্চশব্দে গান বাজানোর কারণে তাদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটলে বিষয়টি জানানো হয় পুলিশ সুপারকে। পরে এসপি লাউডস্পিকার বন্ধের নির্দেশ দিলে তা বন্ধ করে শিক্ষার্থীরা নিজ ক্যাম্পাসে ফিরে যান।

রহমতুল্লাহ কাসেমীর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর পুলিশ সুপার ডিআইজি সাহেবকে এগিয়ে দিতে গেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আবার উচ্চশব্দে গান বাজানো শুরু করেন। তখন শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের ওপর চড়াও হন এবং মারধর করে আহত করেন। পরে পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি মাদরাসায় গিয়ে ক্ষমা চান এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেন।

মুফতি রহমতুল্লাহ কাসেমী আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও হাসনাত আবদুল্লাহ পরদিন সংসদে ঘটনাটি তুলে ধরে শিক্ষার্থীদেরই অভিযুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা একজন তরুণ সংসদ সদস্যের কাছ থেকে সহযোদ্ধা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এমন বক্তব্যে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আগে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সবসময় নিপীড়িত মানুষের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেলেও এবারই প্রথম কোনো বিরোধী দলের এমপিকে নিপীড়িতদের অভিযুক্ত করতে দেখেছেন।

রহমতুল্লাহ কাসেমী আরও লেখেন, সিনেমা ও গান-বাজনার পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে মাদরাসার শিক্ষার্থী ও আলেমদের বিরুদ্ধে অবস্থান করে ‘শাহবাগী’ হওয়ার জন্য জুলাই বিপ্লবে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা তাদের সঙ্গে মাঠে নামেননি। জুলাই বিপ্লবের চেতনার সঙ্গে গাদ্দারি করে পার পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অপরাধে বহু ক্যাপ্টেন চিরতরে নিষিদ্ধ হতে পারে।’

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘এই পচা মালগুলো মস্তিষ্কে এবং কালচারালি এখনো আওয়ামী স্বৈরাচারকেই রিপ্রেজেন্ট করে শুধু খোলস পাল্টিয়ে মানুষকে ধোকা দিচ্ছে। সময় আসলে আবার ঠিকই আওয়ামী লীগ হয়ে যাবে—চান্দু তোমরা আবার বাউনবাইরা আহো।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বক্তব্য দেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও নৌকাবাইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে সাংস্কৃতিক জেলা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে গান-বাজনা ও সিনেমা বন্ধের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাসনাত আবদুল্লাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ‘এই ছয় মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন কি না? আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখতে পেরেছেন কি না, নাকি তিনি ব্যর্থ হয়েছেন?’

তার এই বক্তব্য পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্টও দেওয়া হয়। এরই মধ্যে শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কওমি শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে পার পাবে না, আবার বাউনবাইরা আহো’: হাসনাতকে রহমতুল্লাহ কাসেমী
0:00 0:00
1.0x