বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনের বৈঠক থেকে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের ওয়াকআউটের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, স্পিকার বিরোধীদলকে ‘অসহিষ্ণু’ হিসেবে উপস্থাপনের ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অথচ গত ছয় মাস ধরে বিরোধীদল সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে এবং দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির আমলে বিরোধীদল যে ধরনের আচরণ করেছিল, বর্তমান বিরোধীদল তেমন কোনো আচরণ করেনি। বরং গত ছয় মাস সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথা তারা বলে এসেছে এবং সহযোগিতাও করেছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জনগণের দুর্ভোগ যখন একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায়, তখন জনগণের হয়ে কথা বলা বিরোধীদলের দায়িত্ব। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পেছনেও এটিই কারণ।
তিনি বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ গত ১৮০ দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের সঙ্গে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার আগের ছয় মাসের পরিস্থিতির তুলনা করে জানতে চাওয়া হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কতটা সফল হয়েছে এবং ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন কি না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ বর্তমানে ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় হত্যা, ধর্ষণ, হামলা, ক্যাম্পাসে সহিংসতা এবং বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটছে। সংসদ সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এসব তথ্য শুধু বিরোধীদলের বক্তব্য নয়; পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপাত্তেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের কটূক্তি করেছেন। এর প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হলেও স্পিকারের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলসহ তিনটি বিল উত্থাপনের জন্য সংসদে আনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা এসব বিল নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিচ্ছিন্নভাবে না এনে গণভোটের গণরায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে আলোচনা করা উচিত।
তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারসংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও আইনগুলো নিয়ে বিশেষ কমিটিতে আলোচনা করার কথা থাকলেও সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এখন সরকার নিজেদের মতো করে এসব বিল আলাদাভাবে সংসদে এনে পাস করানোর চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বলে জানান নাহিদ ইসলাম।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, ওই পরিষদের মাধ্যমেই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারসংক্রান্ত যেসব অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনের বৈঠক থেকে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের ওয়াকআউটের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, স্পিকার বিরোধীদলকে ‘অসহিষ্ণু’ হিসেবে উপস্থাপনের ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। অথচ গত ছয় মাস ধরে বিরোধীদল সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে এবং দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির আমলে বিরোধীদল যে ধরনের আচরণ করেছিল, বর্তমান বিরোধীদল তেমন কোনো আচরণ করেনি। বরং গত ছয় মাস সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথা তারা বলে এসেছে এবং সহযোগিতাও করেছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জনগণের দুর্ভোগ যখন একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায়, তখন জনগণের হয়ে কথা বলা বিরোধীদলের দায়িত্ব। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পেছনেও এটিই কারণ।
তিনি বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত ও শফিকুল ইসলাম মাসুদ গত ১৮০ দিনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন করেন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যের সঙ্গে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার আগের ছয় মাসের পরিস্থিতির তুলনা করে জানতে চাওয়া হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কতটা সফল হয়েছে এবং ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন কি না।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ বর্তমানে ব্যাপক নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় হত্যা, ধর্ষণ, হামলা, ক্যাম্পাসে সহিংসতা এবং বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটছে। সংসদ সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এসব তথ্য শুধু বিরোধীদলের বক্তব্য নয়; পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপাত্তেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের কটূক্তি করেছেন। এর প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হলেও স্পিকারের ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, বৃহস্পতিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলসহ তিনটি বিল উত্থাপনের জন্য সংসদে আনা হয়। বিরোধীদলীয় নেতা এসব বিল নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারসংক্রান্ত বিষয়গুলো বিচ্ছিন্নভাবে না এনে গণভোটের গণরায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয় করে আলোচনা করা উচিত।
তিনি অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারসংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও আইনগুলো নিয়ে বিশেষ কমিটিতে আলোচনা করার কথা থাকলেও সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এখন সরকার নিজেদের মতো করে এসব বিল আলাদাভাবে সংসদে এনে পাস করানোর চেষ্টা করছে।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বলে জানান নাহিদ ইসলাম।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান। তিনি বলেন, ওই পরিষদের মাধ্যমেই গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারসংক্রান্ত যেসব অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, সেগুলো পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব

আপনার মতামত লিখুন