ঢাকা    রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি
নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে পৌঁছেছে। একই ঘটনায় এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৭৩৪ জন এবং তিব্বতে ১৬ জন মারা গেছেন।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং এলাকায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে নেপালের ১০৪, ভারতের ৪৯, লাটভিয়ার ৩৩, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ এবং যুক্তরাজ্যের ১৫ নাগরিক রয়েছেন।

নেপালে মৃতের সংখ্যা ৭৩৪ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২ হাজার ৪৯৮ বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজদের মধ্যে ৩১টি দেশের ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ভারতের ১৭৮, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫, ইউক্রেনের ৫৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন।

দুর্যোগের পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চলছে। এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু এবং নদীর পানি আবারও বাড়ার আশঙ্কার কারণে উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ রোববার সকালে সতর্ক করেছে, রাসুয়া জেলায় ভোতেকোশী নদীর পানির প্রবাহ আরও বেড়েছে। এতে উদ্ধারকারী দলগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দুর্গত এলাকায় কাজের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হলো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার। ত্রিশুলি-৩এ ও ত্রিশুলি-৩বি প্রকল্পের বিভিন্ন টানেলে এখনো শতাধিক মানুষ আটকা থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার রাতে নেপাল সেনাবাহিনী ত্রিশুলি-৩এ প্রকল্পের একটি টানেলের ভেতরে ছোট একটি পাইপ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। ওই পাইপের মাধ্যমে টানেলের ভেতরে বাতাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এরপর আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে খননকাজ শুরু এবং উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুঙ জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে বাতাস পাঠানোর পর উদ্ধার অভিযানের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে। আটকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নেপালের অনুরোধের পর চীনও টানেল উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। মোট নয়জন চীনা বিশেষজ্ঞ নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্ধার অভিযানে কারিগরি সহায়তা করছেন। ধসে পড়া ও কাদায় বন্ধ হয়ে যাওয়া টানেলে কীভাবে প্রবেশ করা যায়, তা নির্ধারণে তারা নেপালি উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কাজ করছেন।

তিব্বতের গিরং সীমান্ত এলাকাতেও বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চলছে। ভূমিধসের জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে গিরং বন্দর সীমান্তচৌকি পর্যন্ত যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন চীনা প্রকৌশলী ও উদ্ধারকারীরা।

সীমান্তমুখী সড়কের বিভিন্ন অংশ প্রায় দুই মিটার পর্যন্ত কাদায় ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের মাটি পুরোপুরি ধুয়ে গেছে। ভারী যন্ত্রপাতি ও খননযন্ত্র ব্যবহার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।

উদ্ধার তৎপরতায় চীন ভারী সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য ড্রোন এবং দুর্গম এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে। তিব্বতের সামরিক কমান্ডও খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী ও উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে।

দুর্যোগের পর ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে একাধিক অস্থায়ী হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে একটি হ্রদ ভেঙে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে চীনের জলবিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি বাধা অনেকটাই সরে যাওয়ায় নদীর পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে হ্রদভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কমেছে।

তবে নতুন করে আরও একটি বড় জলাধার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চীনা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ধসে পড়া হিমবাহের কাছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটারের একটি জলাধার তৈরি হচ্ছে। আশপাশে ঝুলন্ত বরফের স্তরেও ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় ভূমিধস বা আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।

নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় চীনের তিব্বত অংশে উদ্ধার অভিযান একপর্যায়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবারও উদ্ধারকাজ শুরু হয়। গিরং সীমান্তচৌকির কাছে ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই গ্রামবাসীকে জীবিত উদ্ধারের খবরও পাওয়া গেছে।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। কেউ নিখোঁজ স্বজনের ছবি নিয়ে হাসপাতালে ঘুরছেন, আবার কেউ নিখোঁজদের তালিকায় আপনজনের নাম খুঁজছেন। অনেক পরিবার এখনো স্বজনদের কোনো খবর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শশীর খানাল জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশটির পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ভারী সরঞ্জাম, বিশেষায়িত প্রযুক্তি, মরদেহ শনাক্তকরণ ও সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৩১টি দেশের ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি কর্মীরাও রয়েছেন।

নেপাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও উদ্ধার তৎপরতায় স্যাটেলাইট এবং নদীর পানির তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা করেছেন। দুর্যোগের পর নতুন ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং উদ্ধারকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হিসেবে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত নেমে আসাকে দায়ী করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর পানির স্তর হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ব্যাপক বন্যা সৃষ্টি হয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার সড়ক, সেতু, বসতি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এবারের নির্দিষ্ট হিমবাহ ধসের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা কতটা ছিল, তা নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের প্রচেষ্টাও চলছে। নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কার মধ্যে উদ্ধারকারী দলগুলোকে দ্রুততার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে কাজ করতে হচ্ছে।

মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাবের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। উদ্ধার অভিযান এবং তথ্য যাচাই চলমান থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে পৌঁছেছে। একই ঘটনায় এখনো ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে ৭৩৪ জন এবং তিব্বতে ১৬ জন মারা গেছেন।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং এলাকায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে নেপালের ১০৪, ভারতের ৪৯, লাটভিয়ার ৩৩, যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ এবং যুক্তরাজ্যের ১৫ নাগরিক রয়েছেন।

নেপালে মৃতের সংখ্যা ৭৩৪ এবং নিখোঁজের সংখ্যা ২ হাজার ৪৯৮ বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজদের মধ্যে ৩১টি দেশের ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ভারতের ১৭৮, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫, ইউক্রেনের ৫৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন রয়েছেন।

দুর্যোগের পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চলছে। এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু এবং নদীর পানি আবারও বাড়ার আশঙ্কার কারণে উদ্ধারকারীদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ রোববার সকালে সতর্ক করেছে, রাসুয়া জেলায় ভোতেকোশী নদীর পানির প্রবাহ আরও বেড়েছে। এতে উদ্ধারকারী দলগুলোর জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দুর্গত এলাকায় কাজের সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার অভিযানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়গুলোর একটি হলো জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার। ত্রিশুলি-৩এ ও ত্রিশুলি-৩বি প্রকল্পের বিভিন্ন টানেলে এখনো শতাধিক মানুষ আটকা থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার রাতে নেপাল সেনাবাহিনী ত্রিশুলি-৩এ প্রকল্পের একটি টানেলের ভেতরে ছোট একটি পাইপ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে। ওই পাইপের মাধ্যমে টানেলের ভেতরে বাতাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এরপর আটকে থাকা ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছাতে খননকাজ শুরু এবং উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুঙ জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে বাতাস পাঠানোর পর উদ্ধার অভিযানের পরবর্তী ধাপ শুরু হবে। আটকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নেপালের অনুরোধের পর চীনও টানেল উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে। মোট নয়জন চীনা বিশেষজ্ঞ নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্ধার অভিযানে কারিগরি সহায়তা করছেন। ধসে পড়া ও কাদায় বন্ধ হয়ে যাওয়া টানেলে কীভাবে প্রবেশ করা যায়, তা নির্ধারণে তারা নেপালি উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে কাজ করছেন।

তিব্বতের গিরং সীমান্ত এলাকাতেও বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চলছে। ভূমিধসের জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে গিরং বন্দর সীমান্তচৌকি পর্যন্ত যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন চীনা প্রকৌশলী ও উদ্ধারকারীরা।

সীমান্তমুখী সড়কের বিভিন্ন অংশ প্রায় দুই মিটার পর্যন্ত কাদায় ঢেকে গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের মাটি পুরোপুরি ধুয়ে গেছে। ভারী যন্ত্রপাতি ও খননযন্ত্র ব্যবহার করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।

উদ্ধার তৎপরতায় চীন ভারী সরঞ্জাম পরিবহনের জন্য ড্রোন এবং দুর্গম এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করছে। তিব্বতের সামরিক কমান্ডও খাদ্য, চিকিৎসাসামগ্রী ও উদ্ধার সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য দুটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করেছে।

দুর্যোগের পর ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে একাধিক অস্থায়ী হ্রদ সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে একটি হ্রদ ভেঙে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে চীনের জলবিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি বাধা অনেকটাই সরে যাওয়ায় নদীর পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে হ্রদভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি কমেছে।

তবে নতুন করে আরও একটি বড় জলাধার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চীনা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ধসে পড়া হিমবাহের কাছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটারের একটি জলাধার তৈরি হচ্ছে। আশপাশে ঝুলন্ত বরফের স্তরেও ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফায় ভূমিধস বা আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।

নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় চীনের তিব্বত অংশে উদ্ধার অভিযান একপর্যায়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে আবারও উদ্ধারকাজ শুরু হয়। গিরং সীমান্তচৌকির কাছে ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই গ্রামবাসীকে জীবিত উদ্ধারের খবরও পাওয়া গেছে।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। কেউ নিখোঁজ স্বজনের ছবি নিয়ে হাসপাতালে ঘুরছেন, আবার কেউ নিখোঁজদের তালিকায় আপনজনের নাম খুঁজছেন। অনেক পরিবার এখনো স্বজনদের কোনো খবর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শশীর খানাল জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর দেশটির পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি ভারী সরঞ্জাম, বিশেষায়িত প্রযুক্তি, মরদেহ শনাক্তকরণ ও সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৩১টি দেশের ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত বিদেশি কর্মীরাও রয়েছেন।

নেপাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও উদ্ধার তৎপরতায় স্যাটেলাইট এবং নদীর পানির তথ্য আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা করেছেন। দুর্যোগের পর নতুন ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং উদ্ধারকারী দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ তথ্য বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হিসেবে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত নেমে আসাকে দায়ী করা হচ্ছে। এর ফলে নদীর পানির স্তর হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ব্যাপক বন্যা সৃষ্টি হয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার সড়ক, সেতু, বসতি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে এবারের নির্দিষ্ট হিমবাহ ধসের ঘটনায় জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা কতটা ছিল, তা নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি টানেলে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের প্রচেষ্টাও চলছে। নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কার মধ্যে উদ্ধারকারী দলগুলোকে দ্রুততার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখে কাজ করতে হচ্ছে।

মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দেওয়া হিসাবের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। উদ্ধার অভিযান এবং তথ্য যাচাই চলমান থাকায় হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
নেপাল-তিব্বতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃত ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি
0:00 0:00
1.0x