রুশ প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুধু রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে অনুষ্ঠিতব্য ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ৩১ আগস্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হবে।
চলতি বছরে পুতিন ও জিনপিংয়ের মধ্যে এটি হবে দ্বিতীয় সরাসরি সাক্ষাৎ। এর আগে মে মাসে পুতিনের বেইজিং সফরের সময় দুই নেতা বৈঠক করেছিলেন। এবার সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ হলো রাশিয়া থেকে চীনে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য পরিকল্পিত একটি পাইপলাইন প্রকল্প। প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার ইয়ামাল অঞ্চলের গ্যাসক্ষেত্র থেকে মঙ্গোলিয়া হয়ে চীনে বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি নিয়ে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে বহু বছর ধরে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি। গ্যাসের দাম, অর্থায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহের শর্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা প্রয়োজন হওয়ায় প্রকল্পটির অগ্রগতি দীর্ঘদিন ধরেই ধীরগতির।
চলতি বছরের মে মাসে পুতিনের বেইজিং সফরের সময় রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছিলেন, প্রকল্পটির কয়েকটি চুক্তি চূড়ান্ত সমঝোতার কাছাকাছি রয়েছে। তবে এরপরও চীনের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বিশকেকে পুতিন-জিনপিংয়ের বৈঠকে প্রকল্পটি আলোচনায় আসায় এর ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে ক্রেমলিন এখনো জানায়নি যে এই বৈঠকেই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বরং প্রকল্পটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে বলেই জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার কাছে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি প্রকল্প। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরোপের বাজারে রুশ জ্বালানি রপ্তানির ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় এশিয়ার বাজার, বিশেষ করে চীন, মস্কোর জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পাইপলাইনটি বাস্তবায়ন হলে চীনে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ বাড়বে। পাশাপাশি ইউরোপের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির বড় একটি অংশ আরও বেশি করে এশিয়ার বাজারমুখী হতে পারে।
অন্যদিকে চীনের জন্য রাশিয়া থেকে স্থলপথে দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানির সুযোগ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিলে স্থলপথভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা চীনের জ্বালানি নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।
‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ চালু হলে রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি অবকাঠামো আরও পূর্বদিকে বিস্তৃত হবে এবং চীনের বাজারে রুশ গ্যাসের সরবরাহও বাড়বে। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশকে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, বিনিয়োগের কাঠামো, মঙ্গোলিয়ার ভূখণ্ড দিয়ে পাইপলাইন নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির শর্ত।
চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকেও প্রকল্পটির গুরুত্ব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় স্থলপথে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির পরিমাণ বাড়ানো বেইজিংয়ের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিওর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পুতিন ও জিনপিংয়ের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, ইরান, বেলারুশ এবং মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেবেন।
এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন ও জিনপিংয়ের বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
এরপর ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রাশিয়া ও চীনের জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ কারণে বিশকেকে পুতিন-জিনপিংয়ের বৈঠক দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইউরেশিয়ার ভবিষ্যৎ জ্বালানি বাণিজ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
তবে গ্যাসের মূল্য ও সরবরাহের শর্তসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তাই বৈঠকে আলোচনা হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আরও সময় প্রয়োজন হতে পারে।
তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও রয়টার্স

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
রুশ প্রেসিডেন্টের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা শুধু রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে অনুষ্ঠিতব্য ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ৩১ আগস্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে পুতিনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হবে।
চলতি বছরে পুতিন ও জিনপিংয়ের মধ্যে এটি হবে দ্বিতীয় সরাসরি সাক্ষাৎ। এর আগে মে মাসে পুতিনের বেইজিং সফরের সময় দুই নেতা বৈঠক করেছিলেন। এবার সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।
‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ হলো রাশিয়া থেকে চীনে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের জন্য পরিকল্পিত একটি পাইপলাইন প্রকল্প। প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে রাশিয়ার ইয়ামাল অঞ্চলের গ্যাসক্ষেত্র থেকে মঙ্গোলিয়া হয়ে চীনে বছরে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি নিয়ে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে বহু বছর ধরে আলোচনা চললেও এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি। গ্যাসের দাম, অর্থায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহের শর্তসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা প্রয়োজন হওয়ায় প্রকল্পটির অগ্রগতি দীর্ঘদিন ধরেই ধীরগতির।
চলতি বছরের মে মাসে পুতিনের বেইজিং সফরের সময় রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছিলেন, প্রকল্পটির কয়েকটি চুক্তি চূড়ান্ত সমঝোতার কাছাকাছি রয়েছে। তবে এরপরও চীনের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বিশকেকে পুতিন-জিনপিংয়ের বৈঠকে প্রকল্পটি আলোচনায় আসায় এর ভবিষ্যৎ অগ্রগতি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে ক্রেমলিন এখনো জানায়নি যে এই বৈঠকেই চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। বরং প্রকল্পটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে বলেই জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার কাছে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি প্রকল্প। ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরোপের বাজারে রুশ জ্বালানি রপ্তানির ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় এশিয়ার বাজার, বিশেষ করে চীন, মস্কোর জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পাইপলাইনটি বাস্তবায়ন হলে চীনে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ বাড়বে। পাশাপাশি ইউরোপের বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়ার পরিস্থিতিতে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানির বড় একটি অংশ আরও বেশি করে এশিয়ার বাজারমুখী হতে পারে।
অন্যদিকে চীনের জন্য রাশিয়া থেকে স্থলপথে দীর্ঘমেয়াদি গ্যাস আমদানির সুযোগ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রপথে জ্বালানি সরবরাহে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিলে স্থলপথভিত্তিক সরবরাহ ব্যবস্থা চীনের জ্বালানি নিরাপত্তায় অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।
‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ চালু হলে রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি অবকাঠামো আরও পূর্বদিকে বিস্তৃত হবে এবং চীনের বাজারে রুশ গ্যাসের সরবরাহও বাড়বে। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশকে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে গ্যাসের মূল্য নির্ধারণ, বিনিয়োগের কাঠামো, মঙ্গোলিয়ার ভূখণ্ড দিয়ে পাইপলাইন নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির শর্ত।
চীনের জ্বালানি নিরাপত্তার দিক থেকেও প্রকল্পটির গুরুত্ব রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় স্থলপথে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানির পরিমাণ বাড়ানো বেইজিংয়ের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিওর শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে পুতিন ও জিনপিংয়ের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, ইরান, বেলারুশ এবং মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেবেন।
এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে পুতিন ও জিনপিংয়ের বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতার পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।
এরপর ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তকে ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে রাশিয়া ও চীনের জ্বালানি সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ কারণে বিশকেকে পুতিন-জিনপিংয়ের বৈঠক দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি ইউরেশিয়ার ভবিষ্যৎ জ্বালানি বাণিজ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
তবে গ্যাসের মূল্য ও সরবরাহের শর্তসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তাই বৈঠকে আলোচনা হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আরও সময় প্রয়োজন হতে পারে।
তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন