সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা। তিনি জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ছয়জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুজনকে শোকজ করা হয়েছে। নোটিশগুলোতে তিনি নিজেই স্বাক্ষর করেছেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন, গাড়িচালক নাদিম হায়দার, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ, চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাত।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ভূমি অফিস পরিদর্শনে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকজনকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই তাদের স্বাক্ষর পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসনের নোটিশে এ ঘটনাকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এটি সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮-এর খ ধারার অপরাধের আওতাভুক্ত।
এ ছাড়া যথাযথ কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা অথবা নির্ধারিত সময়ের পরে অফিসে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
শোকজ নোটিশে সংশ্লিষ্টদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া স্বাক্ষর করেছেন।
এর আগে সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। একই চত্বরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের পাশাপাশি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।
সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে প্রতিমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। কিন্তু সকাল ৯টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। এ সময় তিনি হাজিরা খাতা পরীক্ষা করেন। খবর পেয়ে প্রায় ২০ মিনিট পর সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া। এরপর কিছু সময়ের মধ্যে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমাও সেখানে উপস্থিত হন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে না থাকলেও অনেকের হাজিরা আগেই দেওয়া ছিল। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল দায়িত্ব জনগণকে সেবা দেওয়া। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়। তাই নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণকে সেবা দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করানো প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সরকারি সেবা নিতে এসে জনগণ যাতে হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের নজর রাখতে হবে।
অফিসে উপস্থিতি ও হাজিরা ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কেবল শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ববোধ ও মানসিকতার পরিবর্তনও প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরে জনগণ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে জনগণকে সেবা দেওয়াই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রধান দায়িত্ব।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কারণ পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সবাই হয়তো একই ধরনের অপরাধ করেননি। কেউ কেউ আগাম স্বাক্ষর করেছেন। তদন্ত শেষ হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে জানা যাবে।
সূত্র: কালবেলা

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা। তিনি জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ছয়জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুজনকে শোকজ করা হয়েছে। নোটিশগুলোতে তিনি নিজেই স্বাক্ষর করেছেন।
কারণ দর্শানোর নোটিশ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন, গাড়িচালক নাদিম হায়দার, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ, চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাত।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ভূমি অফিস পরিদর্শনে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কয়েকজনকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। তবে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই তাদের স্বাক্ষর পাওয়া যায়। জেলা প্রশাসনের নোটিশে এ ঘটনাকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এটি সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮-এর খ ধারার অপরাধের আওতাভুক্ত।
এ ছাড়া যথাযথ কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা অথবা নির্ধারিত সময়ের পরে অফিসে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
শোকজ নোটিশে সংশ্লিষ্টদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া স্বাক্ষর করেছেন।
এর আগে সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। একই চত্বরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ের পাশাপাশি ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।
সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে প্রতিমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। কিন্তু সকাল ৯টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। এ সময় তিনি হাজিরা খাতা পরীক্ষা করেন। খবর পেয়ে প্রায় ২০ মিনিট পর সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া। এরপর কিছু সময়ের মধ্যে ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমাও সেখানে উপস্থিত হন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে না থাকলেও অনেকের হাজিরা আগেই দেওয়া ছিল। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল দায়িত্ব জনগণকে সেবা দেওয়া। এটি কোনো অনুগ্রহ নয়। তাই নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে জনগণকে সেবা দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করানো প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শুধু হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সরকারি সেবা নিতে এসে জনগণ যাতে হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের নজর রাখতে হবে।
অফিসে উপস্থিতি ও হাজিরা ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কেবল শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি সেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব নয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ববোধ ও মানসিকতার পরিবর্তনও প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরে জনগণ যেন কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে জনগণকে সেবা দেওয়াই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রধান দায়িত্ব।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষরের ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কারণ পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সবাই হয়তো একই ধরনের অপরাধ করেননি। কেউ কেউ আগাম স্বাক্ষর করেছেন। তদন্ত শেষ হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কারভাবে জানা যাবে।
সূত্র: কালবেলা

আপনার মতামত লিখুন