ঢাকা    শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

সারাদেশ

ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙন, দুই দিনে বিলীন ১৬ বসতঘর ও ১০ একর জমি

ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙন, দুই দিনে বিলীন ১৬ বসতঘর ও ১০ একর জমি
ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙন, দুই দিনে বিলীন ১৬ বসতঘর ও ১০ একর জমি

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৬টি বসতঘর এবং প্রায় ১০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরে ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়তে থাকায় কোদালকাটি ইউনিয়নের উত্তর কোদালকাটি ও পাইকেনটারী পাড়া এলাকায় নদীতীরজুড়ে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা।

স্থানীয়রা জানান, ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে কোদালকাটি মণ্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনসার ডিলারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ব্যাপারীপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসাসহ অসংখ্য বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আরও অনেক বসতভিটা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

ভিটেমাটি হারানো মোতালেব হোসেন বলেন, ‘তৃতীয়বারের মতো আমার বাড়িঘর ভেঙে গেল। এক চর থেকে আরেক চরে চলে যাই, তারপরও মনে হয় কোথাও আমার স্থায়ী ঠাঁই হচ্ছে না।’

বিধবা সালেহা বেওয়া বলেন, ‘আমার স্বামী নেই। নদীতে আমার ঘরও ভেঙে গেছে। এখন আমি কোথায় গিয়ে উঠব?’

এ ছাড়া স্বামী পরিত্যক্তা হাজেরা, জাইদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ, হাছেন আলী, এরশাদুল ও জাকির হোসেন বলেন, ‘নদীভাঙনে আমাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা চলে গেছে। আমরা গৃহহীন হয়ে পড়েছি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন কোথায় থাকব, কীভাবে সংসার চালাব—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। দ্রুত নদীভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

কোদালকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছফের আলী বলেন, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও বহু পরিবার ভিটেমাটি হারাতে পারে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীভাঙন প্রতিরোধে একটি প্রকল্প রয়েছে, তবে সেটি এখনো অনুমোদন পায়নি। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙন, দুই দিনে বিলীন ১৬ বসতঘর ও ১০ একর জমি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৬টি বসতঘর এবং প্রায় ১০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরে ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়তে থাকায় কোদালকাটি ইউনিয়নের উত্তর কোদালকাটি ও পাইকেনটারী পাড়া এলাকায় নদীতীরজুড়ে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিনই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা।

স্থানীয়রা জানান, ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে কোদালকাটি মণ্ডলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনসার ডিলারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ব্যাপারীপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসাসহ অসংখ্য বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। ভাঙন অব্যাহত থাকলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আরও অনেক বসতভিটা নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

ভিটেমাটি হারানো মোতালেব হোসেন বলেন, ‘তৃতীয়বারের মতো আমার বাড়িঘর ভেঙে গেল। এক চর থেকে আরেক চরে চলে যাই, তারপরও মনে হয় কোথাও আমার স্থায়ী ঠাঁই হচ্ছে না।’

বিধবা সালেহা বেওয়া বলেন, ‘আমার স্বামী নেই। নদীতে আমার ঘরও ভেঙে গেছে। এখন আমি কোথায় গিয়ে উঠব?’

এ ছাড়া স্বামী পরিত্যক্তা হাজেরা, জাইদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ, হাছেন আলী, এরশাদুল ও জাকির হোসেন বলেন, ‘নদীভাঙনে আমাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা চলে গেছে। আমরা গৃহহীন হয়ে পড়েছি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এখন কোথায় থাকব, কীভাবে সংসার চালাব—তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। দ্রুত নদীভাঙন ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

কোদালকাটি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছফের আলী বলেন, ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও বহু পরিবার ভিটেমাটি হারাতে পারে। তিনি জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, উজানে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রহ্মপুত্র নদে ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীভাঙন প্রতিরোধে একটি প্রকল্প রয়েছে, তবে সেটি এখনো অনুমোদন পায়নি। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙন, দুই দিনে বিলীন ১৬ বসতঘর ও ১০ একর জমি
0:00 0:00
1.0x