ঢাকা    শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

বিনোদন

একাত্তরে মুসলিম লীগের রাজনীতির কারণে শান্তি কমিটিতে ছিলেন বাবা: আসিফ আকবর

একাত্তরে মুসলিম লীগের রাজনীতির কারণে শান্তি কমিটিতে ছিলেন বাবা: আসিফ আকবর
একাত্তরে মুসলিম লীগের রাজনীতির কারণে শান্তি কমিটিতে ছিলেন বাবা: আসিফ আকবর

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। এবার বাবার রাজনৈতিক পরিচয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন আসিফ আকবর।

আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও তিনি মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান আসিফ।

মুসলিম লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণেই ১৯৭১ সালে আলী আকবর শান্তি কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন আসিফ। তবে তার দাবি, শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তার বাবা সে সময় বহু মানুষের জীবন, সম্পদ ও বাড়িঘর রক্ষা করেছিলেন।

আসিফ বলেন, তার বাবা কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা ও সেক্রেটারি ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি মুসলিম লীগের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই শান্তি কমিটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছিল। তবে ওই কমিটিতে থাকার সুযোগে তিনি অনেক মানুষের জানমাল, বাড়িঘর ও এলাকা রক্ষায় ভূমিকা রেখেছিলেন বলে দাবি করেন আসিফ।

বাবার ভূমিকার পক্ষে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আসিফের দাবি, তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসির হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। এসব ঘটনা তার লেখা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলী আকবরের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ বলেন, বিষয়টি সরাসরি ওইভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। তার দাবি, মুসলিম লীগের একজন নেতা হিসেবে তার বাবার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছিলেন।

আসিফের ভাষ্য, তার বাবা যেহেতু অনেক মানুষের জীবন ও জানমাল রক্ষা করেছেন, তাই তাকে সরাসরি স্বাধীনতার বিপক্ষের ব্যক্তি বলা যায় না। মুসলিম লীগের সদস্য হিসেবে তার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি সেটিই পালন করেছিলেন বলে দাবি করেন আসিফ।

শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা নয়, ছয় দফা আন্দোলন নিয়েও বাবার অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আসিফ। তার দাবি, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর মুসলিম লীগের প্রতিনিধি হিসেবে আলী আকবর একটি চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়া এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

তবে সেই চিঠিটি বর্তমানে পরিবারের কাছে নেই বলে জানান আসিফ। তার মতে, ১৯৭১ সালের সময়কার অনেক নথি ও কাগজপত্র সে সময় সংরক্ষণ করা হয়নি। তবে তার বড় ভাইয়েরা ওই ঘটনার বিষয়ে অবগত বলে জানান তিনি।

স্বাধীনতার পর আলী আকবরের কাস্টডিতে যাওয়ার বিষয়টিও ব্যাখ্যা করেছেন আসিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী তার বাবাকে ফোন করে নিরাপত্তার স্বার্থে কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

আসিফ জানান, সে সময় নতুন করে অনেক যুবক মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়ায় তার বাবার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওই পরামর্শ পাওয়ার পর ১৭ ডিসেম্বর আলী আকবর নিজেই কাস্টডিতে চলে যান।

এরপর তার বাবার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে জানান আসিফ। এর মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আসিফের দাবি, ১৯৭৪ সালে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তার বাবা এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেন এবং কারাগার থেকে মুক্তি পান। সাধারণ ক্ষমার আওতায় নয়, আদালতে আইনি লড়াই করেই তার বাবা মুক্তি পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন আসিফ। একই সঙ্গে দালাল আইনের অধীনেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কোনো সাজাও দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

সূত্র: ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


একাত্তরে মুসলিম লীগের রাজনীতির কারণে শান্তি কমিটিতে ছিলেন বাবা: আসিফ আকবর

প্রকাশের তারিখ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের বাবা অ্যাডভোকেট আলী আকবরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে। এবার বাবার রাজনৈতিক পরিচয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন আসিফ আকবর।

আসিফের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বাবা কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দলটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এমনকি ১৯৮০ সালেও তিনি মুসলিম লীগের হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান আসিফ।

মুসলিম লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণেই ১৯৭১ সালে আলী আকবর শান্তি কমিটির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছেন আসিফ। তবে তার দাবি, শান্তি কমিটিতে থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তার বাবা সে সময় বহু মানুষের জীবন, সম্পদ ও বাড়িঘর রক্ষা করেছিলেন।

আসিফ বলেন, তার বাবা কুমিল্লা জেলা মুসলিম লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা ও সেক্রেটারি ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি মুসলিম লীগের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। মুসলিম লীগের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই শান্তি কমিটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা তৈরি হয়েছিল। তবে ওই কমিটিতে থাকার সুযোগে তিনি অনেক মানুষের জানমাল, বাড়িঘর ও এলাকা রক্ষায় ভূমিকা রেখেছিলেন বলে দাবি করেন আসিফ।

বাবার ভূমিকার পক্ষে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আসিফের দাবি, তার বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে ফাঁসির হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। এসব ঘটনা তার লেখা ‘আকবর ফিফটি নট আউট’ বইয়ে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলী আকবরের সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে আসিফ বলেন, বিষয়টি সরাসরি ওইভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। তার দাবি, মুসলিম লীগের একজন নেতা হিসেবে তার বাবার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি মূলত সেটিই পালন করেছিলেন।

আসিফের ভাষ্য, তার বাবা যেহেতু অনেক মানুষের জীবন ও জানমাল রক্ষা করেছেন, তাই তাকে সরাসরি স্বাধীনতার বিপক্ষের ব্যক্তি বলা যায় না। মুসলিম লীগের সদস্য হিসেবে তার ওপর যে দায়িত্ব ছিল, তিনি সেটিই পালন করেছিলেন বলে দাবি করেন আসিফ।

শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভূমিকা নয়, ছয় দফা আন্দোলন নিয়েও বাবার অবস্থানের কথা জানিয়েছেন আসিফ। তার দাবি, ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পর মুসলিম লীগের প্রতিনিধি হিসেবে আলী আকবর একটি চিঠি লিখে ছয় দফা মেনে নেওয়া এবং পূর্ব পাকিস্তানকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

তবে সেই চিঠিটি বর্তমানে পরিবারের কাছে নেই বলে জানান আসিফ। তার মতে, ১৯৭১ সালের সময়কার অনেক নথি ও কাগজপত্র সে সময় সংরক্ষণ করা হয়নি। তবে তার বড় ভাইয়েরা ওই ঘটনার বিষয়ে অবগত বলে জানান তিনি।

স্বাধীনতার পর আলী আকবরের কাস্টডিতে যাওয়ার বিষয়টিও ব্যাখ্যা করেছেন আসিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা স্বাধীন হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আহমদ আলী তার বাবাকে ফোন করে নিরাপত্তার স্বার্থে কাস্টডিতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

আসিফ জানান, সে সময় নতুন করে অনেক যুবক মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেওয়ায় তার বাবার নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওই পরামর্শ পাওয়ার পর ১৭ ডিসেম্বর আলী আকবর নিজেই কাস্টডিতে চলে যান।

এরপর তার বাবার বিরুদ্ধে কয়েকটি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে জানান আসিফ। এর মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আসিফের দাবি, ১৯৭৪ সালে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তার বাবা এসব অভিযোগ থেকে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেন এবং কারাগার থেকে মুক্তি পান। সাধারণ ক্ষমার আওতায় নয়, আদালতে আইনি লড়াই করেই তার বাবা মুক্তি পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন আসিফ। একই সঙ্গে দালাল আইনের অধীনেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং কোনো সাজাও দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

সূত্র: ইত্তেফাক


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
একাত্তরে মুসলিম লীগের রাজনীতির কারণে শান্তি কমিটিতে ছিলেন বাবা: আসিফ আকবর
0:00 0:00
1.0x