ঢাকা    রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

রাজনীতি

জামায়াত রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করেছিল: রাশেদ খাঁন

জামায়াত রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করেছিল: রাশেদ খাঁন
জামায়াত রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করেছিল: রাশেদ খাঁন

লংমার্চকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

সম্প্রতি জামায়াতের লংমার্চ নিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে লংমার্চে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়ায় পুলিশি নিরাপত্তায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত তাদের গাড়িবহর যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি সহযোগিতা না চাইলেও একই ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এরপরও জামায়াত পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হয়েছিল। এসব লাঠি পরবর্তী সময়ে গাড়িবহরে তোলা হয়েছিল কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে জামায়াতের বহরে থাকা শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে ছাত্রদল ও যুবদলকে উদ্দেশ করে স্লোগান দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন রাশেদ।

রাশেদ খাঁনের দাবি, পুরো লংমার্চটি মূলত জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। তবে জামায়াত সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে মাঝামাঝি অবস্থান থেকে রাজনীতি করতে চাইছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকের কাছেই লংমার্চটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলে পরিচালিত এনসিপির কর্মসূচি বলে মনে হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় এনসিপিকে সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে রাজনৈতিকভাবে এগোতে চাইছে।

রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে সামনে আনার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। তাদের অনেকের ধারণা, এনসিপি আজ না হলেও ভবিষ্যতে জামায়াতের জোট থেকে বের হয়ে যাবে। ফলে এনসিপিকে কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—এ নিয়ে সচেতন নেতাকর্মীদের মধ্যে আক্ষেপ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াতের জোট প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁনের দাবি, মাওলানা মামুনুল হকের দলসহ জোটের অন্যান্য দল বিএনপির কাছ থেকে পর্যাপ্ত আসন না পাওয়ার কারণেই জামায়াতের দিকে গেছে। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন ছাড়তে রাজি হলে এসব দল আবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন দেয়নি, এ কারণেই তারা জামায়াতের সঙ্গে গেছে। মাওলানা মামুনুল হকের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপির সঙ্গেই থাকত বলে দাবি করেন তিনি। জোটের অন্য দলগুলোও একটি করে আসন না পাওয়ায় জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে এসব দল আবার অবস্থান পরিবর্তন করবে বলেও তিনি মনে করেন।

পোস্টের শেষাংশে জামায়াতকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশের মানচিত্রবিরোধী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে আগের অভিযোগগুলোও পুনরায় তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে জামায়াত সম্পর্কে এনসিপির অতীতের কঠোর বক্তব্যগুলো মনে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, জামায়াত যাদের ওপর আস্থা রেখে অর্থ ব্যয় করছে, একসময় তারাই জামায়াতকে এমনভাবে ছেড়ে যাবে যে দলটি আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না। তিনি জামায়াতকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশের মানচিত্রবিরোধী শক্তি এবং ভারতের ‘এক্সটেনশন’ হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি সংস্কারের নামে ভণ্ডামির অভিযোগও করেন। একই সঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকে অতীতে জামায়াতকে ‘ইসলামিক দল নয়’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন।

ভবিষ্যতে এনসিপির নেতারা কী ধরনের বক্তব্য দেন, তা নোট করে রাখার জন্য এখন থেকেই ‘ভবিষ্যতের ডায়েরি’ কিনে রাখার কথাও বলেন তিনি। জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রাশেদ দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভবিষ্যতে তাদের নিজেদেরই আফসোস করতে হবে—এমন মন্তব্য করে পোস্টটি শেষ করেন রাশেদ খাঁন।

সূত্র: দ্য নিউজ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জামায়াত রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করেছিল: রাশেদ খাঁন

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

লংমার্চকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।

সম্প্রতি জামায়াতের লংমার্চ নিয়ে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে লংমার্চে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়ায় পুলিশি নিরাপত্তায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত তাদের গাড়িবহর যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি সহযোগিতা না চাইলেও একই ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হতো বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এরপরও জামায়াত পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হয়েছিল। এসব লাঠি পরবর্তী সময়ে গাড়িবহরে তোলা হয়েছিল কি না, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে জামায়াতের বহরে থাকা শীর্ষ নেতারা উসকানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে ছাত্রদল ও যুবদলকে উদ্দেশ করে স্লোগান দেওয়ার কথাও তুলে ধরেন রাশেদ।

রাশেদ খাঁনের দাবি, পুরো লংমার্চটি মূলত জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। তবে জামায়াত সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে এনসিপির নেতাদের সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে মাঝামাঝি অবস্থান থেকে রাজনীতি করতে চাইছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকের কাছেই লংমার্চটি জামায়াতের ব্যবস্থাপনা, অর্থায়ন ও জনবলে পরিচালিত এনসিপির কর্মসূচি বলে মনে হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, জামায়াত সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ঝুঁকি নিতে না চাওয়ায় এনসিপিকে সামনে রেখে এবং আওয়ামী লীগকে পেছনে রেখে রাজনৈতিকভাবে এগোতে চাইছে।

রাশেদ খাঁন বলেন, জামায়াত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী ও অ্যাক্টিভিস্ট এনসিপিকে জামায়াতের মুখপাত্র হিসেবে সামনে আনার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। তাদের অনেকের ধারণা, এনসিপি আজ না হলেও ভবিষ্যতে জামায়াতের জোট থেকে বের হয়ে যাবে। ফলে এনসিপিকে কেন এত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—এ নিয়ে সচেতন নেতাকর্মীদের মধ্যে আক্ষেপ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াতের জোট প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁনের দাবি, মাওলানা মামুনুল হকের দলসহ জোটের অন্যান্য দল বিএনপির কাছ থেকে পর্যাপ্ত আসন না পাওয়ার কারণেই জামায়াতের দিকে গেছে। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন ছাড়তে রাজি হলে এসব দল আবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, এনসিপিকে বিএনপি চারটির বেশি আসন দেয়নি, এ কারণেই তারা জামায়াতের সঙ্গে গেছে। মাওলানা মামুনুল হকের দলও পর্যাপ্ত আসন পেলে বিএনপির সঙ্গেই থাকত বলে দাবি করেন তিনি। জোটের অন্য দলগুলোও একটি করে আসন না পাওয়ায় জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ। ভবিষ্যতে বিএনপি বেশি আসন সমন্বয় করতে পারলে এসব দল আবার অবস্থান পরিবর্তন করবে বলেও তিনি মনে করেন।

পোস্টের শেষাংশে জামায়াতকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশের মানচিত্রবিরোধী শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে আগের অভিযোগগুলোও পুনরায় তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে জামায়াত সম্পর্কে এনসিপির অতীতের কঠোর বক্তব্যগুলো মনে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, জামায়াত যাদের ওপর আস্থা রেখে অর্থ ব্যয় করছে, একসময় তারাই জামায়াতকে এমনভাবে ছেড়ে যাবে যে দলটি আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে না। তিনি জামায়াতকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও দেশের মানচিত্রবিরোধী শক্তি এবং ভারতের ‘এক্সটেনশন’ হিসেবে অভিহিত করার পাশাপাশি সংস্কারের নামে ভণ্ডামির অভিযোগও করেন। একই সঙ্গে এনসিপির পক্ষ থেকে অতীতে জামায়াতকে ‘ইসলামিক দল নয়’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন।

ভবিষ্যতে এনসিপির নেতারা কী ধরনের বক্তব্য দেন, তা নোট করে রাখার জন্য এখন থেকেই ‘ভবিষ্যতের ডায়েরি’ কিনে রাখার কথাও বলেন তিনি। জামায়াতের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রাশেদ দাবি করেন, এনসিপি ২০৩১ সালের জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। বিভিন্ন বিদেশি সংস্থা ও শক্তি তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সবশেষে জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে ভবিষ্যতে তাদের নিজেদেরই আফসোস করতে হবে—এমন মন্তব্য করে পোস্টটি শেষ করেন রাশেদ খাঁন।

সূত্র: দ্য নিউজ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
জামায়াত রাতের বেলা মতিঝিলে লাঠিসোঁটা জড়ো করেছিল: রাশেদ খাঁন
0:00 0:00
1.0x