সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ চিকিৎসাকেন্দ্র সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ৫০০। বর্তমানে প্রায় ৭০০ শয্যার সক্ষমতা দিয়ে কোনোভাবে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অথচ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হলেও সেগুলোর সবগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে থাকা সিটি স্ক্যান ও এমআরআই মেশিনে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এসব যন্ত্রের বিকল্প বা ব্যাকআপ ব্যবস্থা না থাকায় কোনোটি বিকল হলে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ এনে মেরামত করতে হয়। ফলে মেরামতে সময় লাগে এবং রোগীদের দুর্ভোগও বাড়ে।
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির ইত্তেফাককে বলেন, যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া এবং পরে তা মেরামত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে ৫২ বছর আগে নির্ধারিত ৫০০ শয্যার জনবল কাঠামো দিয়েই বর্তমানে ৩ হাজারের বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। রোগী এলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সীমিত জনবল নিয়েই সবাইকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের ব্যাপক চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিরাতে ভর্তি রোগীসহ অন্তত ৭ হাজার মানুষ হাসপাতালে অবস্থান করেন। কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এরপরও হাসপাতাল থেকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতাল পরিচালক আরও জানান, ইতোমধ্যে শিশু হৃদরোগীদের জটিল অস্ত্রোপচারসহ অন্যান্য রোগীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এসব অর্জন অনেক সময় দৃশ্যমান হয়ে ওঠে না।
সূত্র অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের চার জেলার ৪০টি উপজেলার মধ্যে ৩৬টিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা সদরে ২৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতাল রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এক্স-রে, ইসিজি, এনালাইজার ও আলট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু এসব যন্ত্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অনেক যন্ত্রই পড়ে আছে। ফলে যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শুধু উপজেলা পর্যায়েই নয়, সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসেও জনবল সংকট রয়েছে। বিভাগীয় পরিচালক এবং মাত্র একজন সহকারী পরিচালককে দিয়ে চার জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এতে দায়িত্ব পালনে তাদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীম ইত্তেফাককে বলেন, বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, হবিগঞ্জ জেলায় স্বাস্থ্য সহকারী পদে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কমপ্লেক্সগুলোতে সনোলজি মেশিন থাকলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য অনুমোদিত পদ নেই। ফলে রোগীরা এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি বিভাগে আরও অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজন রয়েছে।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগে বিভিন্ন গ্রেডের বিভিন্ন পদে মোট মঞ্জুরিকৃত জনবল রয়েছে ৮ হাজার ৪১১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪ হাজার ৮৫৫ জন। ফলে ৩ হাজার ৫৫৬টি পদই শূন্য রয়েছে।
জনবল সংকটের সবচেয়ে গুরুতর চিত্রগুলোর একটি দেখা যাচ্ছে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট পদে। সিলেট বিভাগে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদ রয়েছে ১১৭টি। এর মধ্যে ৭১টি পদই বর্তমানে শূন্য।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত স্বাভাবিক গতিতে পরিচালনা করা কঠিন। তাই সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জনবল সংকট নিরসনে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: ইত্তেফাক

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সিলেট বিভাগের সর্বোচ্চ চিকিৎসাকেন্দ্র সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ৫০০। বর্তমানে প্রায় ৭০০ শয্যার সক্ষমতা দিয়ে কোনোভাবে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অথচ হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক বিভিন্ন চিকিৎসা সরঞ্জাম স্থাপন করা হলেও সেগুলোর সবগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালের রেডিওলজি বিভাগে থাকা সিটি স্ক্যান ও এমআরআই মেশিনে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এসব যন্ত্রের বিকল্প বা ব্যাকআপ ব্যবস্থা না থাকায় কোনোটি বিকল হলে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ এনে মেরামত করতে হয়। ফলে মেরামতে সময় লাগে এবং রোগীদের দুর্ভোগও বাড়ে।
সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির ইত্তেফাককে বলেন, যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া এবং পরে তা মেরামত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে ৫২ বছর আগে নির্ধারিত ৫০০ শয্যার জনবল কাঠামো দিয়েই বর্তমানে ৩ হাজারের বেশি রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। রোগী এলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সীমিত জনবল নিয়েই সবাইকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের ব্যাপক চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। প্রতিরাতে ভর্তি রোগীসহ অন্তত ৭ হাজার মানুষ হাসপাতালে অবস্থান করেন। কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এরপরও হাসপাতাল থেকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
হাসপাতাল পরিচালক আরও জানান, ইতোমধ্যে শিশু হৃদরোগীদের জটিল অস্ত্রোপচারসহ অন্যান্য রোগীদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এসব অর্জন অনেক সময় দৃশ্যমান হয়ে ওঠে না।
সূত্র অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের চার জেলার ৪০টি উপজেলার মধ্যে ৩৬টিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা সদরে ২৫০ শয্যার সরকারি হাসপাতাল রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এক্স-রে, ইসিজি, এনালাইজার ও আলট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু এসব যন্ত্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় অনেক যন্ত্রই পড়ে আছে। ফলে যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শুধু উপজেলা পর্যায়েই নয়, সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসেও জনবল সংকট রয়েছে। বিভাগীয় পরিচালক এবং মাত্র একজন সহকারী পরিচালককে দিয়ে চার জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এতে দায়িত্ব পালনে তাদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীম ইত্তেফাককে বলেন, বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, হবিগঞ্জ জেলায় স্বাস্থ্য সহকারী পদে কিছু নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা কমপ্লেক্সগুলোতে সনোলজি মেশিন থাকলেও সেগুলো পরিচালনার জন্য অনুমোদিত পদ নেই। ফলে রোগীরা এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি বিভাগে আরও অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রয়োজন রয়েছে।
সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগে বিভিন্ন গ্রেডের বিভিন্ন পদে মোট মঞ্জুরিকৃত জনবল রয়েছে ৮ হাজার ৪১১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৪ হাজার ৮৫৫ জন। ফলে ৩ হাজার ৫৫৬টি পদই শূন্য রয়েছে।
জনবল সংকটের সবচেয়ে গুরুতর চিত্রগুলোর একটি দেখা যাচ্ছে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট পদে। সিলেট বিভাগে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদ রয়েছে ১১৭টি। এর মধ্যে ৭১টি পদই বর্তমানে শূন্য।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি খাত স্বাভাবিক গতিতে পরিচালনা করা কঠিন। তাই সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জনবল সংকট নিরসনে সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন