পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজিরহাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর আকস্মিক ভয়াবহ ভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ ও কবরস্থান সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয়রা। এতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে দশমিনা সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট তেঁতুলিয়া নদীর লঞ্চঘাট এলাকায় হঠাৎ তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে হাজিরহাট লঞ্চঘাট থেকে কেদিরহাট পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার পাকা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।এ ছাড়া হাজিরহাট জামে মসজিদ, কবরস্থান, হাজিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজিরহাট কমিউনিটি ক্লিনিকসহ পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি ও দোকানপাটের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। বুধবার নুরু মৃধা, নিজাম উদ্দিন ও ফিরোজ হোসেনসহ অন্তত ১০টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।
এদিকে ভাঙনের মুখে থাকা কবরস্থান থেকেও পূর্বপুরুষদের মরদেহ তুলে অন্যত্র দাফন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আকস্মিক ভাঙনের খবর পেয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা ও দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম। এ সময় তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ২৫টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
বুধবার দিনভর ভাঙনকবলিত এলাকায় মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা গেছে। ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোর আশঙ্কায় অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।
জরুরি প্রতিরোধের দাবিতে মানববন্ধন
ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ভাঙনকবলিত এলাকায় মানববন্ধন করেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
বুধবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. আহসান উল্লাহ। তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ৩০০ থেকে ৫০০ মিটার এলাকায় ভাঙন বন্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে পাই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। রাতেই ভাঙনের কবলে পড়া কয়েকটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করা হচ্ছে।”
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেন, “দশমিনা ও গলাচিপার বেশ কিছু এলাকা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। হাজিরহাটের ভাঙনের বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি তাৎক্ষণিকভাবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে বিষয়টি জানিয়েছি। ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অথবা পাশ দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে জনগণকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অবহিত করেছি।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে হাজিরহাটের কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সড়ক যোগাযোগ এবং অন্যান্য জনপদের অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজিরহাট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর আকস্মিক ভয়াবহ ভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা পেতে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, মসজিদ ও কবরস্থান সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন স্থানীয়রা। এতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন।
এ ছাড়া হাজিরহাট জামে মসজিদ, কবরস্থান, হাজিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাজিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজিরহাট কমিউনিটি ক্লিনিকসহ পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি ও দোকানপাটের মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। বুধবার নুরু মৃধা, নিজাম উদ্দিন ও ফিরোজ হোসেনসহ অন্তত ১০টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে।
এদিকে ভাঙনের মুখে থাকা কবরস্থান থেকেও পূর্বপুরুষদের মরদেহ তুলে অন্যত্র দাফন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
আকস্মিক ভাঙনের খবর পেয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা ও দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম। এ সময় তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ঝুঁকিতে থাকা প্রায় ২৫টি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
বুধবার দিনভর ভাঙনকবলিত এলাকায় মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা গেছে। ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোর আশঙ্কায় অনেককে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।
জরুরি প্রতিরোধের দাবিতে মানববন্ধন
ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ভাঙনকবলিত এলাকায় মানববন্ধন করেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
বুধবার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. আহসান উল্লাহ। তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে ৩০০ থেকে ৫০০ মিটার এলাকায় ভাঙন বন্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখতে পাই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। রাতেই ভাঙনের কবলে পড়া কয়েকটি পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করা হচ্ছে।”
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর বলেন, “দশমিনা ও গলাচিপার বেশ কিছু এলাকা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। হাজিরহাটের ভাঙনের বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি তাৎক্ষণিকভাবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবকে বিষয়টি জানিয়েছি। ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অথবা পাশ দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে জনগণকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অবহিত করেছি।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে হাজিরহাটের কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সড়ক যোগাযোগ এবং অন্যান্য জনপদের অবকাঠামো নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন