বুধবার মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ইসরাইলের এক কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোয়েল লায়নকে ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এর আগে তিনি মলদোভায় ইসরাইলের প্রথম আবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত আর্মেনিয়ায় অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
চলতি বছরের শুরুতে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইরিত লিলিয়ানের অবসরের পর তুরস্কে রাষ্ট্রদূতের পদটি খালি ছিল। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বুধবার আংকারায় পৌঁছান জোয়েল লায়ন। সেখানে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেন।
ইসরাইলি ওই কর্মকর্তা জানান, আংকারায় দূতাবাসের কার্যক্রম সীমিত রাখার পেছনে রাজনৈতিক কারণ নেই; এর মূল কারণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
তার দাবি, দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়নি। স্থানীয় কর্মীরা এখনো তুরস্কে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে আংকারা ও ইস্তাম্বুল থেকে ইসরাইলি কর্মীদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপর জোয়েল লায়নের সফরকে তুরস্কে কোনো জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তার প্রথম সফর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২২ ও ২০২৩ সালে তুরস্ক-ইসরাইল সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হলেও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর দুই দেশের সম্পর্কে দ্রুত অবনতি ঘটে।
ইসরাইল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর আংকারা প্রথমদিকে এর নিন্দা জানায়। পরবর্তী সময়ে গাজায় ইসরাইলের অভিযানকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দেয় তুরস্ক। ২০২৪ সালে ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে দেশটি।
চলতি বছরের শুরু থেকে সিরিয়া ইস্যুতেও তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। গত মাসে উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইসরাইল। ঘাঁটিটি তুরস্কের সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ইসরাইলের দাবি, তুরস্ক ওই বিমানঘাঁটিতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
ইসরাইলের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ব্যবস্থা তাদের বিমান হামলা পরিচালনার স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে।
তুরস্ক আশা করছে, আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরাজিত হলে দুই দেশের মধ্যে আবারও সংলাপের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে ইসরাইলি ওই কর্মকর্তা মনে করেন, নেতানিয়াহুর সরকার অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে।
তার মতে, ইসরাইলে এ ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে দেশটির নীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে তুরস্কের গণমাধ্যমে ইসরাইলবিরোধী ‘উসকানি’র বিষয়টি উল্লেখ করেছেন ওই ইসরাইলি কর্মকর্তা।
সূত্র: আমার দেশ

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ইসরাইলের এক কর্মকর্তা বিষয়টি জানিয়েছেন।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোয়েল লায়নকে ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এর আগে তিনি মলদোভায় ইসরাইলের প্রথম আবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ওই পদে ছিলেন। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত আর্মেনিয়ায় অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
চলতি বছরের শুরুতে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইরিত লিলিয়ানের অবসরের পর তুরস্কে রাষ্ট্রদূতের পদটি খালি ছিল। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বুধবার আংকারায় পৌঁছান জোয়েল লায়ন। সেখানে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেন।
ইসরাইলি ওই কর্মকর্তা জানান, আংকারায় দূতাবাসের কার্যক্রম সীমিত রাখার পেছনে রাজনৈতিক কারণ নেই; এর মূল কারণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
তার দাবি, দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়নি। স্থানীয় কর্মীরা এখনো তুরস্কে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।
২০২৩ সালের শেষ দিকে আংকারা ও ইস্তাম্বুল থেকে ইসরাইলি কর্মীদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এরপর জোয়েল লায়নের সফরকে তুরস্কে কোনো জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তার প্রথম সফর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২২ ও ২০২৩ সালে তুরস্ক-ইসরাইল সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হলেও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর দুই দেশের সম্পর্কে দ্রুত অবনতি ঘটে।
ইসরাইল গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করার পর আংকারা প্রথমদিকে এর নিন্দা জানায়। পরবর্তী সময়ে গাজায় ইসরাইলের অভিযানকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দেয় তুরস্ক। ২০২৪ সালে ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে দেশটি।
চলতি বছরের শুরু থেকে সিরিয়া ইস্যুতেও তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। গত মাসে উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইসরাইল। ঘাঁটিটি তুরস্কের সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ইসরাইলের দাবি, তুরস্ক ওই বিমানঘাঁটিতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
ইসরাইলের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ব্যবস্থা তাদের বিমান হামলা পরিচালনার স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে।
তুরস্ক আশা করছে, আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরাজিত হলে দুই দেশের মধ্যে আবারও সংলাপের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে ইসরাইলি ওই কর্মকর্তা মনে করেন, নেতানিয়াহুর সরকার অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে।
তার মতে, ইসরাইলে এ ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে দেশটির নীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে তুরস্কের গণমাধ্যমে ইসরাইলবিরোধী ‘উসকানি’র বিষয়টি উল্লেখ করেছেন ওই ইসরাইলি কর্মকর্তা।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন