বিশেষ করে জীবিকা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে অনেক পুরুষ স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের ছেড়ে দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থান করেন। এ সময় কখনো কখনো তাদের স্ত্রী পরকীয়া, অবৈধ সম্পর্ক এবং জেনা-ব্যভিচারের মতো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার পর নিজের ভুল উপলব্ধি করে তওবা করলে তার সঙ্গে স্বামীর সংসার করা জায়েজ কি না—এমন প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই রয়েছে।
সম্প্রতি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহর কাছে এক ব্যক্তি এ বিষয়ে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, পরকীয়া বা ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়ার কারণে স্বামী-স্ত্রীর বিদ্যমান বিবাহ আপনাআপনি বাতিল হয়ে যায় না। স্ত্রী তওবা করার পরও নতুন করে বিয়ে পড়ানোর প্রয়োজন নেই; আগের বিবাহই বহাল থাকে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, স্ত্রীকে অবশ্যই আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। খাঁটি তওবার জন্য পাপের কারণে অনুতপ্ত হওয়া, সঙ্গে সঙ্গে সেই পাপের কাজ ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর কখনো ওই কাজে জড়িত না হওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, এরপর স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করবেন কি না, সেটি সম্পূর্ণভাবে স্বামীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। স্বামী যদি মনে করেন, তিনি স্ত্রীকে ক্ষমা করে অতীতের বিষয়টি পেছনে ফেলে নতুনভাবে সুন্দর দাম্পত্য জীবন শুরু করতে পারবেন, তাহলে তিনি সংসার চালিয়ে যেতে পারেন।
আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে মানুষের পাপ গোপন রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই স্ত্রীর এমন পাপের বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ না করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উত্তম।
তবে স্বামী যদি মনে করেন, এ ধরনের বিশ্বাসভঙ্গ মেনে নিয়ে তার পক্ষে স্বাভাবিকভাবে সংসার করা সম্ভব নয় এবং এর ফলে দাম্পত্য জীবনে স্থায়ী অশান্তি সৃষ্টি হবে, তাহলে শরীয়ত তাকে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া কিংবা আলাদা হয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
তবে স্ত্রী যদি প্রথমবার এমন ভুল করে এবং পরে আন্তরিকভাবে তওবা করে, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়াই উচিত বলে মত দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সূত্র: যুগান্তর

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশেষ করে জীবিকা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে অনেক পুরুষ স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের ছেড়ে দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থান করেন। এ সময় কখনো কখনো তাদের স্ত্রী পরকীয়া, অবৈধ সম্পর্ক এবং জেনা-ব্যভিচারের মতো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার পর নিজের ভুল উপলব্ধি করে তওবা করলে তার সঙ্গে স্বামীর সংসার করা জায়েজ কি না—এমন প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই রয়েছে।
সম্প্রতি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহর কাছে এক ব্যক্তি এ বিষয়ে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, পরকীয়া বা ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়ার কারণে স্বামী-স্ত্রীর বিদ্যমান বিবাহ আপনাআপনি বাতিল হয়ে যায় না। স্ত্রী তওবা করার পরও নতুন করে বিয়ে পড়ানোর প্রয়োজন নেই; আগের বিবাহই বহাল থাকে।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, স্ত্রীকে অবশ্যই আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। খাঁটি তওবার জন্য পাপের কারণে অনুতপ্ত হওয়া, সঙ্গে সঙ্গে সেই পাপের কাজ ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর কখনো ওই কাজে জড়িত না হওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, এরপর স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করবেন কি না, সেটি সম্পূর্ণভাবে স্বামীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। স্বামী যদি মনে করেন, তিনি স্ত্রীকে ক্ষমা করে অতীতের বিষয়টি পেছনে ফেলে নতুনভাবে সুন্দর দাম্পত্য জীবন শুরু করতে পারবেন, তাহলে তিনি সংসার চালিয়ে যেতে পারেন।
আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে মানুষের পাপ গোপন রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই স্ত্রীর এমন পাপের বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ না করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উত্তম।
তবে স্বামী যদি মনে করেন, এ ধরনের বিশ্বাসভঙ্গ মেনে নিয়ে তার পক্ষে স্বাভাবিকভাবে সংসার করা সম্ভব নয় এবং এর ফলে দাম্পত্য জীবনে স্থায়ী অশান্তি সৃষ্টি হবে, তাহলে শরীয়ত তাকে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া কিংবা আলাদা হয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।
তবে স্ত্রী যদি প্রথমবার এমন ভুল করে এবং পরে আন্তরিকভাবে তওবা করে, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়াই উচিত বলে মত দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।
সূত্র: যুগান্তর

আপনার মতামত লিখুন