সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য ও এক নারী শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ পাঁচ দফা দাবিতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, কয়েকটি ফেসবুক পেজ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নোবিপ্রবির নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এক নারী শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে একটি পোস্টে তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।শিক্ষার্থীদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে।
মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো—অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আপত্তিকর ও চরিত্রহননমূলক পোস্ট, কমেন্টসহ অন্যান্য কনটেন্ট অপসারণ এবং এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ; এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও পেজগুলোকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; কোনো প্রমাণ ছাড়া নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিকভাবে হেয়, অপমান ও হয়রানির চেষ্টার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা ও সাইবার অপরাধ তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ; ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন ও অনলাইন হয়রানি থেকে সুরক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অযাচিত ট্যাগিং রোধে তদন্ত কমিটি গঠন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ইসরাত সূচি বলেন, “আজকে একজন নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে যা ঘটেছে, কাল তা আমার সঙ্গেও ঘটতে পারে। আমি একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং প্রশাসনের কাছে এর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব বাচ্চু বলেন, “আপনারা দেখেছেন, গতকাল থেকে আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের, একজন নারী শিক্ষার্থীকে কীভাবে স্লাটশেমিং বা তাঁর চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা নোবিপ্রবিয়ান হিসেবে আমাদের অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। আমাদের বোনদের মাদক এবং দেহব্যবসার সঙ্গে তুলনা করা খুবই জঘন্য অপরাধ। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি, যাতে এ ধরনের ঘটনা দ্বিতীয়বার না ঘটে।”
পরিসংখ্যান বিভাগের নারী শিক্ষার্থী মার্জনা তাকওয়াও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, “আমরা এ ব্যাপারে অবগত আছি এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টিকে আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সুধারাম থানায় একটি জিডি করা হয়েছে এবং আশা করি তারাও এ ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “ছাত্রদের একটি অংশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমরা এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছি এবং সুধারাম থানার এসপির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। তিনি আমাদের এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা পুরো ঘটনা জানার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
শিক্ষার্থীরা জানান, আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘NSTU Outsider’, ‘NSTU Observer’, ‘নোবিপ্রবিয়ানস’সহ আরও কয়েকটি ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করে নোবিপ্রবির এক নারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মানহানিকর অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। একই পোস্টে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এর প্রতিবাদে সোমবার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য ও এক নারী শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এসব ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ পাঁচ দফা দাবিতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, কয়েকটি ফেসবুক পেজ থেকে দীর্ঘদিন ধরে নোবিপ্রবির নারী শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ভিত্তিহীন ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি এক নারী শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে একটি পোস্টে তাঁর সম্মানহানির চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।শিক্ষার্থীদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করছে।
মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো—অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আপত্তিকর ও চরিত্রহননমূলক পোস্ট, কমেন্টসহ অন্যান্য কনটেন্ট অপসারণ এবং এ ধরনের অপপ্রচার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ; এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও পেজগুলোকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; কোনো প্রমাণ ছাড়া নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিকভাবে হেয়, অপমান ও হয়রানির চেষ্টার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা ও সাইবার অপরাধ তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ; ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন ও অনলাইন হয়রানি থেকে সুরক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং সাইবার বুলিং, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অযাচিত ট্যাগিং রোধে তদন্ত কমিটি গঠন করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ইসরাত সূচি বলেন, “আজকে একজন নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে যা ঘটেছে, কাল তা আমার সঙ্গেও ঘটতে পারে। আমি একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং প্রশাসনের কাছে এর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব বাচ্চু বলেন, “আপনারা দেখেছেন, গতকাল থেকে আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের, একজন নারী শিক্ষার্থীকে কীভাবে স্লাটশেমিং বা তাঁর চরিত্রহননের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা নোবিপ্রবিয়ান হিসেবে আমাদের অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। আমাদের বোনদের মাদক এবং দেহব্যবসার সঙ্গে তুলনা করা খুবই জঘন্য অপরাধ। আমরা প্রশাসনের কাছে এর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি, যাতে এ ধরনের ঘটনা দ্বিতীয়বার না ঘটে।”
পরিসংখ্যান বিভাগের নারী শিক্ষার্থী মার্জনা তাকওয়াও ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ এফ এম আরিফুর রহমান বলেন, “আমরা এ ব্যাপারে অবগত আছি এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টিকে আমরা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সুধারাম থানায় একটি জিডি করা হয়েছে এবং আশা করি তারাও এ ব্যাপারে আমাদের সাহায্য করবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, “ছাত্রদের একটি অংশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমরা এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছি এবং সুধারাম থানার এসপির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। তিনি আমাদের এ ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা পুরো ঘটনা জানার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
শিক্ষার্থীরা জানান, আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘NSTU Outsider’, ‘NSTU Observer’, ‘নোবিপ্রবিয়ানস’সহ আরও কয়েকটি ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করে নোবিপ্রবির এক নারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মানহানিকর অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। একই পোস্টে নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের নিয়েও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এর প্রতিবাদে সোমবার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

আপনার মতামত লিখুন