গত সপ্তাহে উগান্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা জানিয়েছিলেন, তার দেশ ইনভিক্টাস গেমসে অংশ নেবে না। রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছিলেন। তার আশঙ্কা ছিল, প্রিন্স হ্যারি ও মেগানকে ঘিরে চলমান বিতর্কের কারণে উগান্ডার ইনভিক্টাস গেমসে অংশগ্রহণকে রাজার অবস্থানের বিপক্ষে অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে কাইনেরুগাবার ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। উগান্ডার পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের মুখপাত্র ক্রিস মাজেজি জানান, রাজা ও রানি ক্যামিলার প্রধান ব্যক্তিগত সচিব ক্লাইভ অ্যালডারটনের সঙ্গে কাইনেরুগাবার টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। ওই কথোপকথনে অ্যালডারটন জানান, ইনভিক্টাস গেমসে উগান্ডার অংশগ্রহণ নিয়ে রাজা চার্লসের কোনো আপত্তি নেই। বরং তিনি দেশটিকে গেমসের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
রাজার পক্ষ থেকে পাওয়া এই বার্তার পর কাইনেরুগাবা কৃতজ্ঞতা জানান এবং উগান্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ইনভিক্টাস গেমসে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি আবার শুরু করার নির্দেশ দেন। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই উগান্ডার অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।
চলতি বছরের শুরুতে উগান্ডা প্রথমবারের মতো ইনভিক্টাস গেমসে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর আগে লন্ডনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রিন্স হ্যারি ও উগান্ডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিরিওয়া কিওয়ানুকা যৌথভাবে দেশটির অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে উগান্ডা ইনভিক্টাস গেমসের ২৬তম অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে যুক্ত হয়।
যুদ্ধ বা সামরিক দায়িত্ব পালনের সময় আহত, অসুস্থ কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সদস্য ও সাবেক সেনাসদস্যদের জন্য ইনভিক্টাস গেমস একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন। ইনভিক্টাস গেমস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী রব ওয়েন ওবিই উগান্ডার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উগান্ডা ইনভিক্টাস পরিবারের অংশ হিসেবেই থাকবে এবং বার্মিংহাম ২০২৭ গেমসে অংশ নেবে।
উগান্ডার অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে প্রধানত ব্রিটিশ রাজপরিবারকে ঘিরে প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তৈরি বিতর্ক ভূমিকা রেখেছে। এর আগে বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছিল, ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স বর্তমানে কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য নন এবং তাদের ব্যক্তিগত নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই পরিস্থিতিতেই কাইনেরুগাবা প্রথমে গেমস থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কাইনেরুগাবা প্রেসিডেন্ট ইওওয়েরি মুসেভেনির জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং ২০২৪ সালে উগান্ডার সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেন। প্রিন্স হ্যারির মতো তিনিও যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্টের সাবেক শিক্ষার্থী। তাকে মুসেভেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইনভিক্টাস গেমস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বার্মিংহাম ২০২৭ গেমস শুরু হতে এখন আর ৩০০ দিনেরও কম সময় বাকি। উগান্ডার ফিরে আসার ফলে দেশটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ইনভিক্টাস সম্প্রদায়ের পরিধিও আরও বিস্তৃত হয়েছে।
সূত্র: আমার দেশ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গত সপ্তাহে উগান্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা জানিয়েছিলেন, তার দেশ ইনভিক্টাস গেমসে অংশ নেবে না। রাজা তৃতীয় চার্লসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছিলেন। তার আশঙ্কা ছিল, প্রিন্স হ্যারি ও মেগানকে ঘিরে চলমান বিতর্কের কারণে উগান্ডার ইনভিক্টাস গেমসে অংশগ্রহণকে রাজার অবস্থানের বিপক্ষে অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে কাইনেরুগাবার ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। উগান্ডার পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের মুখপাত্র ক্রিস মাজেজি জানান, রাজা ও রানি ক্যামিলার প্রধান ব্যক্তিগত সচিব ক্লাইভ অ্যালডারটনের সঙ্গে কাইনেরুগাবার টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। ওই কথোপকথনে অ্যালডারটন জানান, ইনভিক্টাস গেমসে উগান্ডার অংশগ্রহণ নিয়ে রাজা চার্লসের কোনো আপত্তি নেই। বরং তিনি দেশটিকে গেমসের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন।
রাজার পক্ষ থেকে পাওয়া এই বার্তার পর কাইনেরুগাবা কৃতজ্ঞতা জানান এবং উগান্ডার প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ইনভিক্টাস গেমসে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি আবার শুরু করার নির্দেশ দেন। ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই উগান্ডার অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।
চলতি বছরের শুরুতে উগান্ডা প্রথমবারের মতো ইনভিক্টাস গেমসে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর আগে লন্ডনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রিন্স হ্যারি ও উগান্ডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিরিওয়া কিওয়ানুকা যৌথভাবে দেশটির অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে উগান্ডা ইনভিক্টাস গেমসের ২৬তম অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে যুক্ত হয়।
যুদ্ধ বা সামরিক দায়িত্ব পালনের সময় আহত, অসুস্থ কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সদস্য ও সাবেক সেনাসদস্যদের জন্য ইনভিক্টাস গেমস একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজন। ইনভিক্টাস গেমস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী রব ওয়েন ওবিই উগান্ডার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উগান্ডা ইনভিক্টাস পরিবারের অংশ হিসেবেই থাকবে এবং বার্মিংহাম ২০২৭ গেমসে অংশ নেবে।
উগান্ডার অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে প্রধানত ব্রিটিশ রাজপরিবারকে ঘিরে প্রিন্স হ্যারি ও মেগানের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তৈরি বিতর্ক ভূমিকা রেখেছে। এর আগে বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছিল, ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স বর্তমানে কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য নন এবং তাদের ব্যক্তিগত নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই পরিস্থিতিতেই কাইনেরুগাবা প্রথমে গেমস থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
কাইনেরুগাবা প্রেসিডেন্ট ইওওয়েরি মুসেভেনির জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং ২০২৪ সালে উগান্ডার সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেন। প্রিন্স হ্যারির মতো তিনিও যুক্তরাজ্যের রয়্যাল মিলিটারি একাডেমি স্যান্ডহার্স্টের সাবেক শিক্ষার্থী। তাকে মুসেভেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইনভিক্টাস গেমস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বার্মিংহাম ২০২৭ গেমস শুরু হতে এখন আর ৩০০ দিনেরও কম সময় বাকি। উগান্ডার ফিরে আসার ফলে দেশটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ইনভিক্টাস সম্প্রদায়ের পরিধিও আরও বিস্তৃত হয়েছে।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন