ঢাকা    মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই সামরিক ঘাঁটিতে উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই সামরিক ঘাঁটিতে উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই সামরিক ঘাঁটিতে উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বীপটির দক্ষিণাঞ্চলে স্নায়ুযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি পুরোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু করা হবে। পাশাপাশি পূর্ব উপকূলের আরও একটি সামরিক স্থাপনায় মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি বাড়ানো হবে। বর্তমানে ওই স্থাপনাটি ডেনমার্কের সিরিয়াস ডগ স্লেড প্যাট্রোলের ব্যবহারে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে মঙ্গলবার স্বাক্ষর হতে যাওয়া একটি নতুন চুক্তির আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সামরিক স্থাপনা দুটি হলো নারসারসুয়াক ও মেস্টারসভিগ। ১৯৫০-এর দশকে নারসারসুয়াকে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান’ ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ওই এলাকার জনসংখ্যা কমে মাত্র কয়েক ডজনে নেমে আসে। অন্যদিকে মেস্টারসভিগের সামরিক স্থাপনাটি বর্তমানে ডেনিশ বিশেষ বাহিনীর সিরিয়াস ডগ স্লেড প্যাট্রোল ব্যবহার করছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন চুক্তিটি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি সূত্র জানিয়েছে, স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত চুক্তির বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত নাও হতে পারে।

চুক্তির বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ডেনমার্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এই চুক্তির ফলে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং বিষয়টি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সামগ্রিক নজরদারির আওতায় আসবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের ধারাবাহিক চাপের পর এই সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ ট্রাম্প আগেই প্রকাশ করেছিলেন। গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।

গত জানুয়ারিতে এ বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকি আরও তীব্র হয়। এর ফলে ন্যাটোর মধ্যে কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং মার্কিন চাপ কমাতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল। বর্তমানে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র চালু সামরিক স্থাপনা হলো পিটুফিক স্পেস ঘাঁটি। সেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সেনা কর্মরত রয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই সামরিক ঘাঁটিতে উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বীপটির দক্ষিণাঞ্চলে স্নায়ুযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত একটি পুরোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু করা হবে। পাশাপাশি পূর্ব উপকূলের আরও একটি সামরিক স্থাপনায় মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি বাড়ানো হবে। বর্তমানে ওই স্থাপনাটি ডেনমার্কের সিরিয়াস ডগ স্লেড প্যাট্রোলের ব্যবহারে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে মঙ্গলবার স্বাক্ষর হতে যাওয়া একটি নতুন চুক্তির আওতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র জানিয়েছে।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সামরিক স্থাপনা দুটি হলো নারসারসুয়াক ও মেস্টারসভিগ। ১৯৫০-এর দশকে নারসারসুয়াকে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্লুই ওয়েস্ট ওয়ান’ ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর ওই এলাকার জনসংখ্যা কমে মাত্র কয়েক ডজনে নেমে আসে। অন্যদিকে মেস্টারসভিগের সামরিক স্থাপনাটি বর্তমানে ডেনিশ বিশেষ বাহিনীর সিরিয়াস ডগ স্লেড প্যাট্রোল ব্যবহার করছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন চুক্তিটি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি সূত্র জানিয়েছে, স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত চুক্তির বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত নাও হতে পারে।

চুক্তির বিষয়ে মন্তব্য জানতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হোয়াইট হাউস থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ডেনমার্কের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন এই চুক্তির ফলে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং বিষয়টি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সামগ্রিক নজরদারির আওতায় আসবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের ধারাবাহিক চাপের পর এই সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহ ট্রাম্প আগেই প্রকাশ করেছিলেন। গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে সামরিক কিংবা অর্থনৈতিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি।

গত জানুয়ারিতে এ বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকি আরও তীব্র হয়। এর ফলে ন্যাটোর মধ্যে কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং মার্কিন চাপ কমাতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় বসে।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক স্থাপনা এবং ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন ছিল। বর্তমানে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র চালু সামরিক স্থাপনা হলো পিটুফিক স্পেস ঘাঁটি। সেখানে প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সেনা কর্মরত রয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গ্রিনল্যান্ডে আরও দুই সামরিক ঘাঁটিতে উপস্থিতি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
0:00 0:00
1.0x