শনিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, নিখোঁজ ও গুম হওয়া প্রত্যেক নাগরিককে দ্রুত অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি গুমের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করে তাদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। বছরের পর বছর প্রিয়জনের কোনো সন্ধান না পেয়ে অনেক পরিবার মানসিক ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশে গুমের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী মত দমনের উদ্দেশ্যে ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, গুমের শিকার সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম দীর্ঘ সময় পর ফিরে এসেছেন। তবে জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিবির নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ আরও অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে তিনি জানান।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল বলে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, পরবর্তী সরকার ওই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর না করে নতুন একটি খসড়া আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
নতুন খসড়া আইনে গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপর দেওয়ার বিষয়টির সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব আবার একই ধরনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
সরকারের অধীনে গুমের তথ্যভাণ্ডার রাখার বিষয়েও উদ্বেগ জানান জামায়াত আমির। পাশাপাশি নতুন খসড়া আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমের তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের বাইরে রাখারও সমালোচনা করেন তিনি।
বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, গুমের মতো বিশেষ ধরনের অপরাধের যথাযথ অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য স্বাধীন ও বিশেষ একটি আইনি কাঠামো প্রয়োজন। একই সঙ্গে জনগণের মৌলিক অধিকার, আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুমকে একটি বিশেষ অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: ইত্তেফাক

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
শনিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, নিখোঁজ ও গুম হওয়া প্রত্যেক নাগরিককে দ্রুত অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি গুমের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। এ উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করে তাদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি। বছরের পর বছর প্রিয়জনের কোনো সন্ধান না পেয়ে অনেক পরিবার মানসিক ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশে গুমের প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিরোধী মত দমনের উদ্দেশ্যে ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, গুমের শিকার সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম দীর্ঘ সময় পর ফিরে এসেছেন। তবে জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিবির নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ আরও অনেকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে তিনি জানান।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে একটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল বলে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, পরবর্তী সরকার ওই অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর না করে নতুন একটি খসড়া আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
নতুন খসড়া আইনে গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপর দেওয়ার বিষয়টির সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব আবার একই ধরনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
সরকারের অধীনে গুমের তথ্যভাণ্ডার রাখার বিষয়েও উদ্বেগ জানান জামায়াত আমির। পাশাপাশি নতুন খসড়া আইনে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুমের তদন্ত ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের বাইরে রাখারও সমালোচনা করেন তিনি।
বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, গুমের মতো বিশেষ ধরনের অপরাধের যথাযথ অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য স্বাধীন ও বিশেষ একটি আইনি কাঠামো প্রয়োজন। একই সঙ্গে জনগণের মৌলিক অধিকার, আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুমকে একটি বিশেষ অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন