ঢাকা    বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

অস্ত্রের চেয়ে রাষ্ট্রের স্থিতিস্থাপকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ

অস্ত্রের চেয়ে রাষ্ট্রের স্থিতিস্থাপকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ
অস্ত্রের চেয়ে রাষ্ট্রের স্থিতিস্থাপকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ


কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কেবল সেনাবাহিনী, অস্ত্র কিংবা সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল নয়। সংকট মোকাবিলার সামর্থ্য, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। অস্ত্র সীমান্ত সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে একটি রাষ্ট্রের টিকে থাকার সক্ষমতা নির্ভর করে তার সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতার ওপর।

জাতীয় স্থিতিস্থাপকতা বলতে কোনো সংকট বা বড় ধরনের আঘাতের মুখে তা সামলে নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করা এবং সংকট তৈরি হওয়ার আগেই মানুষের জীবনযাত্রার মৌলিক প্রয়োজনগুলো সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতাকে বোঝায়।

একটি রাষ্ট্রের কাছে সেনাবাহিনী, অর্থ, তেল, ভৌগোলিক সুবিধা ও আন্তর্জাতিক জোট থাকতে পারে। কিন্তু এসব সম্পদ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সংকটের সময়ে সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনগণ কতটা প্রস্তুত—এসব বিষয়ই প্রকৃত শক্তির পরীক্ষা।

আধুনিক সময়ে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা শুধু সীমান্ত পাহারা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সামাজিক সচেতনতা, সংকট ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে বাইরের শক্তির জন্য সুযোগে পরিণত হতে না দেওয়ার বিষয়গুলোও যুক্ত হয়েছে।

গত কয়েক দশকে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্য, পানি ও জ্বালানির ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও মৌলিক শিল্পের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত উৎপাদননির্ভর ব্যবস্থার বদলে সম্পদনির্ভর কাঠামোর ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে এসব রাষ্ট্রের নিজস্ব সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে।

জাতীয় স্থিতিস্থাপকতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার জন্য এমন কার্যকর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যারা সংকটকালেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দক্ষ প্রতিষ্ঠান, সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা এবং দেশের অভ্যন্তরকে সংঘাত বা প্রক্সি লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে না দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করতে আয় ও অর্থনীতির বৈচিত্র্য, পর্যাপ্ত মজুত এবং এমন একটি সরবরাহব্যবস্থা প্রয়োজন, যা সামান্য আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে ভেঙে পড়বে না। একইভাবে সামাজিক স্থিতিস্থাপকতার জন্য দরকার সামাজিক সংহতি, মানুষের পারস্পরিক আস্থা এবং দায়িত্বশীল সমালোচনার সুযোগ।

খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও তথ্যকেও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শুষ্ক ও অস্থিতিশীল অঞ্চলে এসব সম্পদের নিরাপত্তার কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। কোনো রাষ্ট্র তার জনগণের খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও তথ্যের ওপর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে না পারলে তার সার্বভৌম সক্ষমতাও পূর্ণাঙ্গ থাকে না।

সৌদি আরবের স্থিতিশীলতার পেছনে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, নমনীয়তা, অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং উত্তেজনা প্রশমনের নীতিও ভূমিকা রেখেছে। শক্তি ধরে রাখার পাশাপাশি কখন সংঘাত এড়িয়ে চলতে হবে, সেটিও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

আরব বিশ্বের হাতে বিপুল প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ রয়েছে। তেল ও গ্যাসের বড় মজুতের পাশাপাশি এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ৫০ কোটির বেশি। এসব সম্পদকে খাদ্য, পানি, জ্বালানি, শিল্প, বিজ্ঞান ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সমন্বিত করা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদি শক্তিতে রূপ নিতে পারে।

শুধু অস্ত্রের মজুত বাড়িয়ে কোনো দেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, সমাজ, খাদ্য ও পানি ব্যবস্থার পাশাপাশি জনগণের সক্ষমতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শান্তির সময়ে যে স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলা হয় না, সংকটের মুহূর্তে তা হঠাৎ করে তৈরি করা সম্ভব নয়।

সূত্র: আরব নিউজ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


অস্ত্রের চেয়ে রাষ্ট্রের স্থিতিস্থাপকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image


কোনো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কেবল সেনাবাহিনী, অস্ত্র কিংবা সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল নয়। সংকট মোকাবিলার সামর্থ্য, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক ঐক্য এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। অস্ত্র সীমান্ত সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে একটি রাষ্ট্রের টিকে থাকার সক্ষমতা নির্ভর করে তার সামগ্রিক স্থিতিস্থাপকতার ওপর।

জাতীয় স্থিতিস্থাপকতা বলতে কোনো সংকট বা বড় ধরনের আঘাতের মুখে তা সামলে নেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্রাধিকার পুনর্নির্ধারণ করা এবং সংকট তৈরি হওয়ার আগেই মানুষের জীবনযাত্রার মৌলিক প্রয়োজনগুলো সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতাকে বোঝায়।

একটি রাষ্ট্রের কাছে সেনাবাহিনী, অর্থ, তেল, ভৌগোলিক সুবিধা ও আন্তর্জাতিক জোট থাকতে পারে। কিন্তু এসব সম্পদ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সংকটের সময়ে সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যাচ্ছে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও জনগণ কতটা প্রস্তুত—এসব বিষয়ই প্রকৃত শক্তির পরীক্ষা।

আধুনিক সময়ে জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা শুধু সীমান্ত পাহারা দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সামাজিক সচেতনতা, সংকট ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে বাইরের শক্তির জন্য সুযোগে পরিণত হতে না দেওয়ার বিষয়গুলোও যুক্ত হয়েছে।

গত কয়েক দশকে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্য, পানি ও জ্বালানির ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে কৃষি, খাদ্য উৎপাদন ও মৌলিক শিল্পের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত উৎপাদননির্ভর ব্যবস্থার বদলে সম্পদনির্ভর কাঠামোর ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে বড় ধরনের সংকট দেখা দিলে এসব রাষ্ট্রের নিজস্ব সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে।

জাতীয় স্থিতিস্থাপকতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিস্থাপকতার জন্য এমন কার্যকর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যারা সংকটকালেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দক্ষ প্রতিষ্ঠান, সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা এবং দেশের অভ্যন্তরকে সংঘাত বা প্রক্সি লড়াইয়ের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে না দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করতে আয় ও অর্থনীতির বৈচিত্র্য, পর্যাপ্ত মজুত এবং এমন একটি সরবরাহব্যবস্থা প্রয়োজন, যা সামান্য আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে ভেঙে পড়বে না। একইভাবে সামাজিক স্থিতিস্থাপকতার জন্য দরকার সামাজিক সংহতি, মানুষের পারস্পরিক আস্থা এবং দায়িত্বশীল সমালোচনার সুযোগ।

খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও তথ্যকেও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শুষ্ক ও অস্থিতিশীল অঞ্চলে এসব সম্পদের নিরাপত্তার কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। কোনো রাষ্ট্র তার জনগণের খাদ্য, পানি, জ্বালানি ও তথ্যের ওপর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে না পারলে তার সার্বভৌম সক্ষমতাও পূর্ণাঙ্গ থাকে না।

সৌদি আরবের স্থিতিশীলতার পেছনে সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, নমনীয়তা, অর্থনৈতিক সামর্থ্য এবং উত্তেজনা প্রশমনের নীতিও ভূমিকা রেখেছে। শক্তি ধরে রাখার পাশাপাশি কখন সংঘাত এড়িয়ে চলতে হবে, সেটিও রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

আরব বিশ্বের হাতে বিপুল প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ রয়েছে। তেল ও গ্যাসের বড় মজুতের পাশাপাশি এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ৫০ কোটির বেশি। এসব সম্পদকে খাদ্য, পানি, জ্বালানি, শিল্প, বিজ্ঞান ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সমন্বিত করা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদি শক্তিতে রূপ নিতে পারে।

শুধু অস্ত্রের মজুত বাড়িয়ে কোনো দেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি, সমাজ, খাদ্য ও পানি ব্যবস্থার পাশাপাশি জনগণের সক্ষমতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শান্তির সময়ে যে স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলা হয় না, সংকটের মুহূর্তে তা হঠাৎ করে তৈরি করা সম্ভব নয়।

সূত্র: আরব নিউজ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
অস্ত্রের চেয়ে রাষ্ট্রের স্থিতিস্থাপকতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ
0:00 0:00
1.0x