মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালের অক্টোবরেই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছিল। তবে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এতে স্বাক্ষর করেননি। একই সঙ্গে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে আপত্তি উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণভাবে অনেক দেশ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করে অন্য দেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এমন চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে।
বিশেষজ্ঞদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, এই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর কঠোর তদারকির কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে আইএইএ প্রয়োজন মনে করলেও সৌদি আরবের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পাবে না। পুরো বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে, ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক কঠোর শর্ত মেনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি গ্রহণ না করে একটি চুক্তি করেছিল, যা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সৌদি আরবের মতো দেশের হাতে এ ধরনের সংবেদনশীল প্রযুক্তি তুলে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ ভবিষ্যতে তারা এসব স্থাপনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারে। তবে চুক্তির সমর্থকদের দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্প বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা পাবে।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এ চুক্তিতে এগিয়ে না আসে, তাহলে সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে তুলনামূলক সহজ শর্তে একই প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের শর্ত শিথিল করা হলে বৈশ্বিক পর্যায়ে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালের অক্টোবরেই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছিল। তবে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার কারণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও এতে স্বাক্ষর করেননি। একই সঙ্গে মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের পক্ষ থেকেই এ বিষয়ে আপত্তি উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণভাবে অনেক দেশ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির জন্য নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ না করে অন্য দেশ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এমন চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এর আগে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তাহলে সৌদি আরবও একই পথে হাঁটবে।
বিশেষজ্ঞদের আরেকটি উদ্বেগ হলো, এই চুক্তিতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর কঠোর তদারকির কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে আইএইএ প্রয়োজন মনে করলেও সৌদি আরবের সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের সুযোগ পাবে না। পুরো বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় পরিচালিত হবে।
অন্যদিকে, ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক কঠোর শর্ত মেনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রযুক্তি গ্রহণ না করে একটি চুক্তি করেছিল, যা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সৌদি আরবের মতো দেশের হাতে এ ধরনের সংবেদনশীল প্রযুক্তি তুলে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ ভবিষ্যতে তারা এসব স্থাপনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারে। তবে চুক্তির সমর্থকদের দাবি, এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক শিল্প বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা পাবে।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এ চুক্তিতে এগিয়ে না আসে, তাহলে সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে রাশিয়া বা চীনের কাছ থেকে তুলনামূলক সহজ শর্তে একই প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারে। তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের শর্ত শিথিল করা হলে বৈশ্বিক পর্যায়ে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন