কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে ইউপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সচিবকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সোমবার (২১ জুলাই) রাতে ইউপি সচিব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত ৫ আগস্ট ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সেক্রেটারি কামরুজ্জামান মাসুদ দুধ দিয়ে গোসল করে আওয়ামী লীগ ত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে তিনি রুবেল হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। এ সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন মাসের ছুটিতে গিয়ে ইউপি সদস্য মো. সালাউদ্দিন রুহুল ওরফে রুহুল আমিনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে যান।
পুলিশ, লিখিত অভিযোগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে সোমবার কামরুজ্জামান মাসুদের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইউপি কার্যালয়ের সামনে একদল মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কয়েকজন ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) আবু হানিফের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। এ সময় কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত ইউপি সচিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় কামরুজ্জামান মাসুদ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন মাসের ছুটি নিয়ে ইউপি সদস্য মো. সালাউদ্দিন রুহুলকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন।
হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রায় এক মাস আগে তিনি আবারও হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন। এরপর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করে চেয়ারম্যানের পদ ফিরে পান। সোমবার তার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কথা ছিল।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন রুহুল বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় ইউপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা সচিবের কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি সচিব আবু হানিফ রানা এবং ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ইউপি সচিবের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রও পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত ইউপি সচিবকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে ইউপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সচিবকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সোমবার (২১ জুলাই) রাতে ইউপি সচিব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত ৫ আগস্ট ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সেক্রেটারি কামরুজ্জামান মাসুদ দুধ দিয়ে গোসল করে আওয়ামী লীগ ত্যাগের ঘোষণা দেন। পরে তিনি রুবেল হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। এ সময় শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন মাসের ছুটিতে গিয়ে ইউপি সদস্য মো. সালাউদ্দিন রুহুল ওরফে রুহুল আমিনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়ে যান।
পুলিশ, লিখিত অভিযোগ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে সোমবার কামরুজ্জামান মাসুদের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইউপি কার্যালয়ের সামনে একদল মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে কয়েকজন ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) আবু হানিফের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। এ সময় কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত ইউপি সচিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় কামরুজ্জামান মাসুদ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। পরে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন মাসের ছুটি নিয়ে ইউপি সদস্য মো. সালাউদ্দিন রুহুলকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন।
হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রায় এক মাস আগে তিনি আবারও হাইকোর্ট থেকে জামিন লাভ করেন। এরপর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করে চেয়ারম্যানের পদ ফিরে পান। সোমবার তার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কথা ছিল।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন রুহুল বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় ইউপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা সচিবের কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউপি সচিব আবু হানিফ রানা এবং ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ইউপি সচিবের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রও পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত ইউপি সচিবকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন